মেহেদী হাসান তামিমের ৬ কবিতা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

অবেলার ভেলা

তোমার ভাবনা করে রাখে              মগ্ন
ফুরায়ে চলে প্রিয় কিছু                  লগ্ন
বেঁচে থাকে ক্ষত নিয়ে বোধগুলি      ভগ্ন
                                                          
আসে দিন, যায়
ছোটে খোঁড়া পায়
ছোটে নিয়ে ভয়
শোকে বেলা বয়।
                  দৃষ্টি        বিভোর
                  স্বপ্ন         চতুর
   জীবন        
                নেশানেশা
                                  নেশাময়
                               নেশাতুর
                            ভ্রম বিভ্রম
                                       চলে সাথে
                                       এক সাথে
                                       খালি পায়          
                                বেলা
                                     অবেলা
                                            কালবেলা
শুরু করে তার ষোল আনা
                                     বিদিক অপখেলা
ছোঁয়াচ দূরত্বে মিলে দেখা
                                       অবেলার ভেলা।

অভিমান বনবাসে

ইদানীং মাঝে মাঝেই ইচ্ছেরা করে ভীষণাকার ভর
কখনো কোনো ইচ্ছে যেন না জাগুক;
মোরা তো শঠ তাতারি প্রবঞ্চক
অসুর ভবিষ্য আসছে ধেয়ে, আছে কারো খবর!
ধ্বজাধারী সব প্রহসনে ছাওয়া, রঙমাখা সঙ
সংসার সংঘ সংহতি সমাজপতি কত অচেনা রঙ!
বিস্তৃত জনপদ; মহাজন জেলে কুমোর কামার তাঁতি
অম্ল অস্থির অম্বল উদরভর, এ শহর বড্ড ক্লান্ত
জরাজীর্ণ মিথ্যেবাদী দ্বিধান্বিত রোগাগ্রস্ত।

পথ বিপথ জাত মান বিদ্বেষপূর্ণ স্বাপদসংকুল উদাসী
গ্রাম গঞ্জ উপশহর রকের প্রাচীর গলিকোণেও জীবন পচাবাসি
রঙ্গমঞ্চশীর্ষে নের্তৃবৃন্দ শাহেনশাহ
তবু তাচ্ছিল্যে তুমুল উদাসী।
সত্যধাম অপাংক্তেয় বিবর্জিত মলিন শিশিরসিক্ত
দুব্বাঘাস কাঁধে দুর্দিন অভিমান মূল্যহীন
এখানে এখন মুখ ফিরিয়ে অভিমানী আরো
যাবে বনবাসে এসে দাঁড়াল কি এবার তোমার উঠোন!

বোকা বালক

কি বোকা আমি; সবকিছুর পরেও
তোমাকে হৃদয়ে রাখি
স্বপ্নে বাঁধি; তোমাতেই আনি ভোর
তোমার চিন্তা তরঙ্গেই বিভোর
সত্যিই, নিতান্ত বোকা আমি!

কন্যা সমর্পণ

জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা লিখব ভেবে কলম তুলেছি হাতে কতবার!
যদিও জানি, শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লিখে ফেললে একবার
নবজন্ম নিতে হয়, এমনকি কবির মৃত্যু অস্বাভাবিক নয়!
লিখতে চেয়েছি তবুও প্রাণমনে একটি কবিতাই, শ্রেষ্ঠ
মাত্র কয়েকটি শব্দ, ঢালব তায় পৃথিবীর আবেগ অবশিষ্ট
কয়েকটি পঙক্তি জনমের প্রার্থনা!

লিখতে পারিনি এখন অব্দি সে কবিতা, খুঁজে ফিরি কয়েকটি শুধু লাইন
স্বপ্নেরা ক্রমশ বিবশ হয়, অক্ষরগুলো আসবে বলেও আবছা, অধরাই।

ব্যথাতীর্থ

এসো এ হেমন্তে সুতীব্র ও অতীত, ফিরে এ রণাঙ্গনে
দারুণ নির্ব্যূঢ় দাও হানা বুকের নিস্তব্ধিক বরফ গহীনে
বিরল সুচারু আঁচড় আঁক মনোজ একি সে অরণ্যে
এসো এ শীতে দিতে উষ্ণতা, শীতল বুভুক্ষু সে বুকেই।
বেজে উঠুক গীতিময়ী সুরেলা যত গীতিশতদল
ঘষেমেজে হোক চকচক অতৃপ্ত সে তৃষিত পিতল
অন্তর সাজুক ব্যথাতীর্থ, আঁখিপাতে অজর অনল
তোমার ওমে উঠবে জেগে যত শীতলা জলমহাল।   

অতীত যে বড় ঝড়ো, আসে যেক্ষণে নিবিড়ে
মোম এ হৃদয়ে ধনুকের তীর হয়ে ব্যথাতুর বিঁধে
যতই নামবে তুমি ভরা ছলছল টলোমলো জল
কুড়িয়ে নিব বুকপকেটে জ্বর যাতনার দুর্বাদল।
যদি আসো এ হেমন্তেই প্রলয়বর্ষণ হবে যে অবরুদ্ধ
থমকে যাবেই কালমেঘ যত, থমকাবে ক্রন্দসী আকাশ
শীতের চাদরতলে রাখব জড়িয়ে ওগো তুমুল শক্তিতে
না এলে এবার, বরফজমাট হবেই সকল নিশ্বাসপ্রশ্বাস।

স্বপ্ন বা নির্ঘুম

আহা! পেছন থেকে চমকে দেবার সে একেকটি দিন
ভয়ে পেলে হঠাৎ, হৃদয় শীতল তোর বুক কাঁপত শিণশিণ
কষ্ট পেলে কি করিস, ভাসিস জলেই
কার বুকে ঝাঁপিয়ে শক্ত আঁকড়ে ধরিস! আজো বকেই শত্রু করিস নিপাত
আগের মত জাগিস অকারণ! কে তোকে শোনায় এখন কবিতা সারারাত!
কোথায় ছিলি কেমন ছিলি, আছিস রে কেমন
আমায় ছাড়াও ভালো থাকতে পারিস!
কাটছে বুঝি করেই শুধু ভালো থাকার ছল,
কান্নাসিক্ত সুখের নাটক তোর এখন সম্বল?

একেকটা দিন চলেই গেল তোকে ছাড়া, আমায় ছেড়েও
কাজের মাঝে তোকে ভেবে আমি যেমন, তুইও হারাস খেই!

কেমন করে কাটছে একলা রে তোর,
ভুলেও বুঝি খুঁজিস না আর, সে বাহুডোর
অবাক লাগে যাচ্ছে কেটেই কেমন করে, তোর সকল রাত্রি ভোর?
ইচ্ছে জাগে জানতে ভীষণ, আমায় ছাড়া কাটছে কেমন রে তোর.....
দেখিনি আর একবার! হেথাহোথা খুঁজি এত, থাকিস কোথা তুই
খোলা বা বোঁজা আঁখি, বুঝি তোকেই নিত্য চাই! নৈঃশব্দে অনেকানেক
সাদাকালো কল্পনাতেও কেন আজও কেন তোকেই শুধু  পাই!
অসীম মায়া যত্নে পরম, স্বপ্ন অথবা নির্ঘুম
তোর কপোলেই আঁকি রোজ, আদরনরম চুম।