লুনা আহমেদের একাকিত্বের কবিতা
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯
একাকিত্বের গল্প ১
বাইরে ভীষণ বৃষ্টি। সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়া। মেঘের ডাক যেন অপরিচিত কোনো আগন্তুকের প্রবেশে পাহারারত পরিচিত কুকুরের চিৎকার।
আমার মন ভালো নেই। জানালার গ্রীলগুলো বৃষ্টির ঝাপসায় ভিজে আছে। আমি গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে একবার আকাশ আরেকবার বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গোনার চেষ্টা করছি।
উঠোনে তখন হাঁটুসমান জল জমেছে। জলের উপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বুদবুদ তুলছে। ঘোলাজলে কিছুক্ষণ সেই বুদবুদগুলো ভেসে বেড়ানোর পর আবার নিজে নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে।
মাঝেমাঝে দূর আকাশের গর্জনে হালকা হালকাভাবে কেঁপে উঠছি। উঠোনের এককোণে খড়কুটো রাখা। ওগুলো এবার মাটির সাথে মিশেই যাবে।
হাঁসের বাচ্চাগুলো পানিতে খেলা করছে। খেলতে খেলতে দু’একটি কেঁচো তুলে আনছে তুলতুলে নরম ঠোঁটে। জীবনের সাথে সংগ্রাম করা শিখিয়ে দেয়নি কেউ। জন্ম থেকে ওদের মা ছিল ভিনজাতের কেউ। সে জানে না, ওদের জীবনের হালচাল। তবুও শিখে গেছে।
জানালার পাশের গন্ধরাজ ফুলগাছটা বাতাসে এদিক-ওদিক দুলছে। পবিত্র ফুলগুলো বৃষ্টির জলে ধুয়ে আরো পবিত্র হচ্ছে। আমার নাকেমুখে বাতাসের ঝাপটা লাগছে। মন্দ লাগছে না।
বেশ ক’দিন হলো জ্বর থেকে উঠেছি। তবুও ভয় হচ্ছে না আবারও জ্বরের। ঠাণ্ডাবোধ করলেও আমি বারান্দাতেই দাঁড়িয়ে আছি।
একটু শিলাবৃষ্টি হলে মন্দ হতো না। শিলা চাবাতে ইচ্ছে করছে পানের মতোন।
নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছে। ভীষণ একা। চারপাশে এতকিছু, তবুও মনে হচ্ছে ফাঁকা ফাঁকা। এত ফাঁকা আগে কখনো লেগেছে বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে একটু একটু করে সবার কাছ থেকে ভীষণ একা হয়ে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার মতো করে আমি ঝরে পড়ছি।
একাকিত্বের গল্প ২
কোনোদিন মুখোমুখি দেখা হবে না আমাদের
অদেখা মুখচ্ছবি তবুও বুকপকেটে নিয়ে
পৃথিবীর সকল জনাকীর্ণ সড়ক অতিক্রম করে আসি ধীরে ধীরে
সড়ক বাতির আবছা আলো আর রাতের নিবিড়তায় জড়ানো আমাদের প্রেম
পাশাপাশি হাঁটাও হবে না কোনোদিন
অথচ সাথে নিয়েই হেঁটে চলেছি সহস্র বছর, সহস্র পথ
হয়তো যুগল হাঁটা হয়নি— মাড়ানো হয়নি ধুলোময় শহরের ব্যস্ত অলিগলি কিংবা ঘাসের শিশিরে
তবুও তো আমাদের প্রেম হেঁটে বেড়াচ্ছে সমস্ত শরীর
প্রতিটি লোমকূপ থেকেও ভেসে আসে হাঁটার শব্দময় গন্ধ।
সড়কভর্তি অজস্র যান— যানবাহন ভর্তি মানুষ
সড়ক অতিক্রম করে চলছে নিয়মিত
সড়ক তবুও একা পড়ে থাকে, সড়কবাতির মতন সেও
খুব একা একা জ্বলে।
২ জানুয়ারি, ১৯
একাকিত্বের গল্প ৩
একটি লাঠি তার পড়ে যাওয়াকে রোধ করল
এবং তখনো তার দুটি পা ছিল
যদিও পা দুটি অক্ষম এবং নিষ্ক্রিয়
এরকমই বন্ধু অথবা শত্রু ঘরে এবং বাইরে
ছায়ার মতন সঙ্গে থাকে এবং রাখি
কেননা, আমরা মাছেদের মতন নিজেদের সাঁতার নিজেরা সারি
আর ভাবি, দলবদ্ধ আছি একত্রে।
গোধূলি লগ্নে ঘরে ফেরা পাখিগুলোর মতন
সারাজীবন একা একারাই উড়ি
অথচ, সার্বিকভাবে সমগ্র।
৭ জানুয়ারি ১৯























