লুনা আহমেদের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : জুন ১৬, ২০১৯

বিশ্বাস এবং ভালোবাসা

ফল খেতে ভালোবাসি
জেনে
বাগানে একটি, দুটি, তিনটি
এবং আরো কয়েকটি চারা রোপণের পর
সুরক্ষার জন্য
বেষ্টন দিয়ে নিশ্চিন্তে— আরামসে তিনদিন— তিনরাত
দীর্ঘ ঘুমশেষে
জেগে দেখি,
মাথার কাছেই রাখা হয়েছে ফল।

যেন এমন দূরত্বে
হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়।

ইদানীংকাল বিশ্বাস এবং ভালোবাসার কয়েকটি গাছ লাগাবো বলে
চারা খুঁজতে খুঁজতে
মানুষ পেয়ে গেলাম
যারা— কেবল বন্ধু হওয়ার যোগ্য
এবং তাদের বুকে কয়েকটি চারা রোপণের নাম করে
হৃদয় পুঁতে রেখে এসে
ঘুম দেবার আগেই
তারা আমাকে ঘুমন্ত ভেবে পুঁতে রেখে আসলেন মাটিতে।

কবর একটি স্থাপনা
যা-জীবন্ত এবং মৃত
এই দুই বস্তুই ধারণ করে হজম করে ফেলে।
সে যতই নামি কিংবা দামি হোক

এই বিশ্বাসে এবং আস্থায় পিতা আর মাতাকে
কবর দিতে গিয়ে হাত-পা কাঁপছে

আমরা ভুলে ধর্ম, মানুষ, জীবন আর জগৎকে এক করে ফেলছি
জ্যামিতি আঁকতে গিয়ে আঁকছি হৃদপিণ্ড, খাচ্ছি তাজা রক্ত
আর ভাসছি স্রোতে
এই স্রোতে একদিন ঈশ্বর ভেসে আসতে পারতেন!
কিন্তু?
আসেন? কিংবা আসবেন?
...না।

অস্তিত্ব

আমাকে কথা বলতে দেয়া হলে
কথা বলতেই পারবো না
যদি কথা বলতে বাধা দেন তবে অনর্গল কথা বলবো।

বাধাকে বাধা ভেবে চুপচাপ ঘুমিয়ে থাকলে
আজ
পৃথিবীতে কোনো বৃক্ষ জন্মাতো না
তারা
কঠিন মাটি ভেদ করে উপরে ওঠে।

সমুদ্রগামী একটিমাত্র ঘোড়া
তাকে দৌড়াতে দিন
সে থামলে
সমুদ্র তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে।

এই গল্প শুনেছি রূপকথায়
বিশ্বাস ছিল চাঁদে
সে জ্বলবে এবং জ্বলবে
কিন্তু হঠাৎ সূর্য যদি বেঁকে বসে
না ওঠে আর
চাঁদ তবে মুখ কোথায় লুকোবে?

প্রিয় বিগত দিন

জীবন থেকে যে দিনগুলো হারিয়ে গেছে
চোরাগলি পার হয়ে শালুকের ছায়াতলে এসে,
তারা আর
দাঁড়াতে
পারবে না জানি
তবুও মনে হয়— এইতো পাব ফিরে ধীরে-ধীরে
ঢেউয়ের আঘাতে তীরে— জলে জলে আসবে সে ভেসে।

প্রিয় বিগত দিন আমার!
ডুমুরেরফুল হয়ে যদি আসে তিমিরের রাতে
ব্যাকুল চোখ আমার তৃষ্ণার্ত; সেতো পারবে না
ছুঁতে।
তার গতিপথ— ভূগোল অতিক্রম করে যাবার বেলায়
বুঝবো তখন; অবেলার ফুল যদি কড়া নেড়ে যায়।

বদনাম

আমার নামকে খণ্ড বিখণ্ড করে
এক খণ্ড দিয়ে দিও কফিনে
এক খণ্ড রেখে দিও মাটির ফলকে লিখে কবরের গায়,

এক খণ্ড পিতামাতা আর কয়েক খণ্ড
বাদবাকি আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে ভাগ করে দিয়ে
আর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে সেই খণ্ড নামের বদনাম করো
সব লেনাদেনা চুকে যাবে তাতে, চুকে যাবে সব অভিপ্রায়।

মৃত্যুপাখি

কপালের ভাঁজে নাচে মৃত্যুপাখি
ঠোঁটের ভাঁজে তাকে আদরে রাখি।

নৃত্যের তালে তালে ছন্দপতন
হলেই বাজবে বীনা, আসবে তখন
আজীবন পুষে রাখা পাখির ডানা,
পলকে পালক হারায় হারায় ঠিকানা।