শামীমা জামানের কবিতা ‘আগুন সময়’

প্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০১৯

এক.
বজ্রাহত হারু ঘোষের মতো থমকে আছি
নিউজফিডের যানজট বহরে
তোমাদের বারবিকিউ শহরে।
মোটা শুয়োপোকা ভ্রুগুলো চোখেমুখে পানির ঝাপটা দেয়
কনসিলার, হাইলাইটসের রাঙা রাজকন্যারা
প্রাচীনকালের রেডিওজকিদের প্রাপ্তি স্বীকার আর
ফাগুন শেষে আগুনের অবিরাম হানা
হাই নাঈম, হ্যালো আপু  
বাই সোহেল রানা।
হঠাৎ লাইভে এলাম
কেমন আছো তোমরা?
আজ তোমাদের দেখাবো পোড়া লাশের বেজ মেকআপ
বস্তুত লাশেদেরও আছে মান আর মন
ভাইরাল শয্যা, অন্তিম ফটো সেশন।  

দুই.

মেয়েটি মাদ্রাসায় পড়ত
পরিবারের তাপে, চাপে
আর নিজের ইচ্ছায়
ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিকও দিতো
চোখ দুটিতে নিষিদ্ধ আবেদন
কালো বোরকা ছেড়ে মেয়ে লাল বোরকা পরে।
বুড়ো কুকুরের জিহবায় লালা ঝরে পড়ে।
গরু খেয়ে বিচিগাছ নড়েচড়ে বসে
কাকে ধরে, কাকে ছোঁয়, অংক না কষে
রাস্তার অনাহারী শিশু, আরো যত কিছু
দুনিয়ার সকল প্রাণী না খেয়ে মরুক
তবু ঘাড় গর্দান ফোলা, চোখ কুতকুতে শুয়োরগুলোর
পাতে পাহাড়চুড়ো ভাত
গাভী, খাসি, নারী মাংস নানান জাত।

তিন.
নুসরাত আজ মরেনি
সে আজ বেঁচেছে।  
সে মরেছিল সেদিন শকুনের তীব্র থাবায়
নিজের তনুকে জঘন্য ঘৃণায়।
মিছিলের নেকাবগুলো এক একটি যৌনদাসী
ওরাও নিজেদের ঘৃণিত শরীরে করছিল
পুরুষাঙ্গের জয়গান।
এবং আমাদের ভার্জিনিয়া উলফ আর সিল্ভিয়া প্লাথেরা
প্রায়শই
নিজেদের আভেনে মাথা ঢুকিয়ে সনা বাথ সারেন  
দু’একটি মানুষ নিয়ে প্ল্যাকার্ড ধরা দিন শেষে।
 
বোকা বাংলাদেশ শোকে সেজেছে
যেন ওরা জানে না
নুসরাত আজ মরেনি
সে আজ বেঁচেছে।