শামীম হোসেনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : জুন ০৩, ২০১৯
জিনগ্রস্ত
দিবালোকে এক নারীকে অটোরিকশা ভেবে জিজ্ঞেস করি, ‘যাবেন?’ তিনি একটা পামগাছ দেখিয়ে আমাকে বললেন, ‘ওখানে চড়েন।’ আমি চোখ কচলে নারী ও পাম দেখি। আমার পকেটে থাকা এক ম্যাচের শলাকা দেখিয়ে গেল আগুনের ভয়! নারীটির ঠোঁটের কোণে জমে আছে লালার জ্যামিতি। রিকশার হুডের মতো ছড়িয়ে গেছে চুলের ফোয়ারা। তার ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে লাফ দিল ধাঁধার কুণ্ডলি। আর সেই কুণ্ডলির ভেতর থেকে দৌড়ে গেল ছত্রিশটা ঘোড়া।
আমি বত্রিশে থাকি। কে বলো বলদকে বানিয়ে রাখে গাধা?
ধীবর
বড়শিতে শিকার করি না—
জালে তাই জড়িয়ে আছি জলে।
তোমার মুদিত চোখ
মুদিত চোখের ইশারায় এলোচুলে দিয়ে যাও মেঘের শরণ। হিসাবের ফাতনায় বেঁধে রেখে ছিপের কৌশল— তুমিও জলজ হও কীসের বাসনায়! জল ও জালে একবার জড়ালে পরাণ— সময়ের জটে তার আয়ু চলে যায়। আমার হাতের রেখায় ফুটে ওঠে ভোরের কুসুম— কালিদাস বেচে দিয়ে কিনেছি মেঘেদের ঘুম।
তোমার মুদিত চোখ আজ ঘুম হয়ে নেমেছে আমার দুচোখে।
প্রলাপের পাখা
কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের আগে একদা এক পাহাড়ি ঝরনায় স্নান করেছিলেন। তার দূরবিনে ধুলো জমে গেলে মসলিন আনতে বঙ্গদেশে পাঠালেন লোক। এ কথা মিথ্যে হলে শালিক পোড়ানো দুপুরে আমার দণ্ড কার্যকর হোক।
অং সাং সুচির গালে মাছি বসে না। তাই শান্তিতে ঘুমপাড়ে মিয়ানমারের সামরিক মানব। আমরা ভুলোমনে ভুলে যাই, পাখি গাছের ডালে হাগলে গু পড়ে মাটির ওপর! আমাদের সোনাঝরা মাটি তাই পাখির বিষ্ঠা তুলে সযতনে রাখি।
বাঘাপাড়ার শুকলাল মুচি, কলম্বাস কিংবা সুচিকে চেনে না। ফাটা ঠোঁটে ভ্যাসলিন মেখে বিলবোর্ডে তাকিয়ে দেখে বিপাশার হাসি...
প্রলাপের পাখা ২
লাল জামার বোতাম হারানো বেদনা ভোগালো খুব। একদা আমার পা থাকা কালে সেই জামা পরে করেছি ইউরোপ ট্যুর। আঙুরের জুস খেতে খেতে মাদি ঘোড়ার স্তন নিয়ে তুমুল বিতর্কে ফাটিয়েছি আড্ডার টেবিল। বঙ্গদেশের পাম-ওয়াইনে আসক্তি কমে গেলে কোনো বিষণ্ণ বিকেলকে ঘুরতে পাঠিয়েছি আপেল বাগানে। আর কোনো বিদেশি বান্ধবীকে চুমু দেবার পর শুনিয়েছি সেই বোতাম হারানো গল্প।
একদিন বাড়িতে সুন্দরী বউ নিয়ে হাজির হলেন আমার এক জেনারেল বন্ধু। আমাকে উপহার দিলেন সোনার জুতা। আমি তার বউকে একটি গোলাপ উপহার দিলে তিনি ফিরিয়ে দিলেন লাল জামার সেই হারানো বোতাম!























