শুভ নাথের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ২৮, ২০১৯

গিলে ফেলা

বিশ্বাস হবে না কারোর
তবু সত্যি যে, আমি হ্যাঁ আমি
এই পৃথিবীটাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে
তুলে দিয়েছি ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে।
হাওয়ায় বিষ ছিল
জলে ছিল অজৈব তরল
আর মাটির ভিতর ছিল শূন্য বুকের মতো।
একবার নয়, বারবার
যতবার পৃথিবী জন্মেছে ততবার
আমি ছিঁড়ে কুটিকুটি করে
পৃথিবীটাকে তুলে দিয়েছি ক্ষুধার্ত পশু-পাখিদের মুখে
কখনো হায়েনা, কখনো কুকুর
কখনো কাক তো কখনো শুকুন
সকলে এই পৃথিবীর
একটু একটু টুকরো গিলেছে
শুধু ভাগ পায়নি মানুষ!
পাবেই বা কেন
মৃত শরীর তো আর কিছু গিলতে পারে না।

আসবে বসন্তের দিন

একদিন উৎসব হবে গ্রাম থেকে গ্রামে
শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে দেশে
ওরা মুক্তির বাতাসে ভাঙা ডানা মেলেই
আকাশ থেকে সরিয়ে দেবে সব কালো মেঘ।

একপাক্ষিক বাতাসের নিয়মহীন নৃত্যে মশগুল হয়ে
ঝরাপাতা, ঝরাফুল, ঝরে যাওয়া প্রাণ
সকলে আসবে সেই তালে তাল মিলিয়ে
বিজয় উৎসবে। আসবে লাল পিঁপড়েরাও।

আধুনিকতার যুগেও
পাহাড়ি মেয়েরা নেমে আসবে সমতলে
তাদের বাহারি পোশাকে, আদিম সুগন্ধি মেখে।
সকলে সকলের ঘ্রাণ পাবে, আত্মীয়তা পাবে,
পাবে বিরামহীন এক উৎসবের যুগ।

তখনও নারীর আঁচলে থাকবে
প্রিয় মানুষের রক্ত, তাজা রক্ত।
তখনও পুরুষের বুকে, হাতে, কপালে
লেগে থাকবে ভালোবাসার মানুষটির রক্ত
যা কখনো মুছবার নয়, ধুয়ে দেবার নয়।
কারণ সেই সব রক্তের বিনিময়ে
আসবে উৎসবের দিন, আসবে বসন্তের দিন।

শহরের বাজার

চার দেয়ালের ভেতরে লাল আলো
চার দেয়ালের বাইরে গাছের ছায়া
দেখো, শূন্য আকাশবুকে জমে
শূন্য চাঁদের মায়া।
রেলগাড়ি ছুটে যায় চেনা রাস্তায়
ছুটছে জীবন যেমন রোজ ছোটে!
দেখি লীন হয়ে যাওয়া এক দিগন্ত রেখা
আমাদের নীল সমুদ্র সৈকতে।
আমরা রোজই জীবনের ভূমিকায়
আমরা রোজই থেমে যাই শহরের যানজটে।
হাঁপাচ্ছে শহর, হাঁপাচ্ছে কলম ভয়ে
আমরা বাঁচছি ঘরকোণে
খুব ভয়ে খুব সংশয়ে
তবু দেদার বিকোচ্চে ভালবাসা
পার্কে বা ট্রামরুটে
ভালবাসা ভেঙে কোনো প্রেম
মরছে রোজই মাথা কুটে
স্রেফ ঝুটে, স্রেফ ঝুটে।