হঠযোগ এবং বাংলা অক্ষরমালার উপকথা
চয়ন খায়রুল হাবিবপ্রকাশিত : জুলাই ০৫, ২০১৯
কবির নিজস্ব বানানরীতি অনুসরণ করা হয়েছে
ঋ ৯ ক্ষ আকৃতির জানালা বানালে
বাসাবাড়িতে পর্দা টানাতে তুমুল অসুবিধা হবে
বিগত স্বরও আমাদের অনাগত রান্নার ব্যাঞ্জন
এবং পাকঘর রান্নাঘর রসুইখানা হেশেল
যেটাই বলুন জিব্বাতে আলজিব্বাতে স্বাদ ও রং এর মিশেল
হাওয়া খেলাতে নিশ্বাস নিতে
নাক কান গলাতে আপনার প্রচুর জানালা দরকার
প্রাচুর্যে পরিমিতিবোধে এক সময়ের ৯ হয় যাদুই নিরাকার
ইদ আসলে এখন আমাদের ঈকার আরো বেশি মনে পড়ে
চাঁদবিন্দু নিয়ে মুন্ডাকাপোনিষদের মামলা
বর্ণমালাতে থেকে যাচ্ছে ঊকারযুক্ত মূর্ধা ণ এর মহাঝামেলা
সংস্কৃত উচ্চারনে মহাজনের ব্যাকরনে
কন্ঠ তালু জিব্বা মাড়ি দাত ইত্যাদির ঘুশোঘুশি
শিক্ষানবিশি সুত্রে বিরোধ বাধায় বাংলা ন এর সাথে
বাংলার দেশি মেঘমল্লার যেরকম নয় মেঘদের মল্লযুদ্ধ
বাংলা ভাষায় মূর্ধা ণ উচ্চারন দন্ত ন এর চেয়েও বেশি দেতো
ট ঠ ড ঢ এর আগে বসলে
আমাদের দন্ত মুর্ধা তালব্যে ক্যালায় অহমিয়া হাতির দাত
শুনে দেখো ভুপেন হাজারিকার গলায় বাংলা অক্ষরের জলপ্রপাত
সংস্কৃত শাষনের পর চাদে চাদে মিলাই আমরা আরবি শবেবরাত
আলিফ লাম মিমের প্রতি বন্ধুভাব দেখাতে দোষ নাহি পাই
আগেতো নিজেদের স্বভাবমতো নিজেদের জানালা দোলাই
এই স্বভাবি স্বাচ্ছন্দ ছিরি ছাদ লালন রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দ
ছ স আঞ্চলিক বেহদ্দ বিচ্ছিরি সব প্রমাদের পিছুটানে মন্দ
বাংলা একাডেমির ছদ্ম নেতৃত্বেও ভাষামুক্তি ঘটবেনা
`উত্তরাধিকার` পত্রিকা পুরাটাই হিনমন্যতার গায়েবানা
খঞ্জনার সাথে আত্মা বদলাবে আরবান চড়ুই
ভাঙ্গা রেল স্টেশানে স্মার্টফোনে স্পেস স্টেশানের খবর
স্পেস বলতে অবস্য ঠকবাজ চিকিৎসকের নগদ সাফাই
বহুতল ব্যাঙ্ক ভল্টে আমাদের তো আর তেমন শুশুক নাই
কিন্তু থেকে যাচ্ছে যাবে সহজাত ভাঙ্গনের ঝপাৎ ঝপাৎ
সুন্দর আর গেওয়াদের দেখলেই ত ব্যাঞ্জনার খন্ডত প্রানপাত
হিসাব করে দেখলাম
সবচেয়ে প্রাচিন বাংলা অক্ষরগুলোর একটা হচ্ছে `হ` আরেকটা `ঠ`
কারন বাংলার সবচেয়ে প্রাচিন ধর্মাচারের নাম হঠযোগঃ
`হ` এবং `ঠ` অক্ষর দুটাই ছিল আলাদা আলাদা পুরাপুরি শব্দঃ
`হ` হচ্ছে সুরুজ `ঠ` তে চাদ
হঠযোগ হচ্ছে চাদ সুরুজের বেলাবেলি উপাচার
হিসাব করে দেখলাম `হাচা` শব্দটাও একটা প্রাচিন বাংলা শব্দ
এবং এর অর্থ যে সত্যকথা
তাও এই `হঠ` শব্দের সাথে যোগঃ
`হাচা`র হা` হচ্ছে সুরুজ এবং `চা` হচ্ছে চাদ:
মানে বেলাবেলিতে জোয়ারে ভাটায় `হাচা` থাকো
হাচা`র বিপরিতে কৃশ্নপক্ষ্যঃ অ`তিথিঃ
মিথ্যামিথ্যি মটকা মেরে তখন ঘুমের ভান
আর সে ঘুমের সময়ই আদি কৈলাশের পন্ডিতি চন্দ্রবিন্দু
কিম্বা চানতারামার্কা পাকিস্তান
হ`তে সুরুজ ঠ`তে চাদ
হঠযোগি তিথি অতিথিজাত হঠাতের হিসাব মেলাতে
আমাকে সহায়তা করেছে
নিহাররঞ্জন রায়ের বাঙ্গালির ইতিহাস দিনেশ চন্দ্র সেনের বৃহতবংগ আব্দুল করিমের প্রাচিন পুথির বিবরন
এবং আরো কয়েকজন হঠযোগ উপাসনাকারি চৌরাশি-সিদ্ধার স্বপ্নচিন্তাজাত রসুন প্রসুন
খেয়াল করে দেখুনঃ উচ্চারনে না থাকা সত্বেও
যেভাবে যত্রতত্র চন্দ্রবিন্দু বসায়ে চাদকে ফাদবন্দি করে
হঠযোগের পুরোহিত হঠকারিদের হঠাতে হঠাতে
শব্দটাকে গালাগাল বানায় দেয়া হয়েছে
সে-হিশাবে `হাচা`র চ এর উপরেও চন্দ্রবিন্দু`র আগ্রাসন হবার কথা
কিন্তু হঠযোগিদের অনুসারি বাঙ্গালি তার হাচি`তে বসাতে দিলেও `হাচা`তে চন্দ্রবিন্দু বসাতে দেয় নাই
মাথা দুলায় দুলায় মন্ত্রজপের তসবি টেপার উসিলায় সে বলে গেছে
হ হ হ হ হ্যাচ্চো হ্যাচ্চো হ্যাচ্চো
হা হা হা হু হুম না না`য় দোনোমোনো দুলে দুলে হাচা`কে বদলেছে আজ্ঞা আচানক এবং আচ্ছা`য়
এবং হাচলেই হাচা বা সত্য দেহখাচা-ছাড়া হয়ে যায় ভেবে
দেবতার শপথ এবং আলহামদুলিল্লাহ
দেখুন না চর্যাতে কিভাবে পেছনের দরজা দিয়ে চন্দ্রবিন্দু বসায়ে
লেখা হলো, ‘অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী’...
ঐ ণ`টাও কিন্তু চন্দ্রবিন্দু
এবং হঠে যাক ওরা মাংসাশি খোক্কোশ খোক্কশি সকাশে
মৃগয়াজিবি হঠকারি হাচাকথার অনুসারিদেরই নি`ধন করা হয়েছিল লাখে লাখে
ঠেলে দেয়া হয়েছিল কৈলাশের কনসেন্ট্রেশান ক্যাম্পে
যেখানে যোগ ও সাঙ্খ্য কাজে লাগায়ে
ওরা অসহনকে করেছিল সহন প্রয়োজনকে অপ্রয়োজন:
খোলা-খাচায় বন্দি হাচাসন্যাসি
হঠযোগিন চয়নের টুপটাপ চুপচাপ হাসি























