হাসান আজারকাতের দুটি প্রেমের কবিতা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

একটি বিচ্ছিন্ন গল্প

মনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা জমে আছে
প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই
মৃত্যুর কাছে নিজেদের সমর্পণ করার লাইসেন্স
বহু আগেই বাতিল হয়ে আছে
স্বার্থান্বেষণকারীরা প্রতি মুহূর্তেই জন্ম দিচ্ছে
কাগজে পোড়া একেকটি বিচ্ছিন্ন গল্প;
তেমনি একটি গল্প তীব্র তাপে পুড়ছে আজ।
সেই গল্পে প্রধান চরিত্র একজন প্রেমিক
যে বিশুদ্ধ ভালোবাসার সন্ধানরত বহুকালব্যাপী
অথচ আটকা পড়ে আছে এক বালুচরে
যেখানে পরকীয়া প্রবণতায় একেকটি রাত যন্ত্রণাময়
প্রেমিকার দেহে অন্যের আঁকানো উল্কি শোভা পায়
মনের দুয়ার বন্ধ কোনো এক অজানা পথিকের অপেক্ষায়
কিন্তু মায়া জড়ানো মেকি আন্তরিকতার শিকার প্রেমিক
পরিস্থিতির বাস্তবতায় জীবন নৌকার পাল উড়িয়ে
অজানা গন্তব্যস্থানে পাড়ি জমায় কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকার সহিত।
গল্পের শেষ অংকে,
প্রেমিকা তার পথিকের পানে চেয়ে চির অপেক্ষারত
আর ভালোবাসা নামক মরীচিকার সন্ধানে ক্লান্ত হয়ে
প্রেমিক হারায় উপকূলবর্তী কোনো লোকালয়ে;
তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশার পাহাড়কে সঙ্গী করে।

একাকিত্ব

মগ্ন একাকিত্বের সময়ে আকাশের
একফালি চাঁদ থেকে ছিটকে পড়া
রুপোলি আলোয় রাতটাকে খুবই অসহায় মনে হয়।
নেড়ি কুত্তাদের কর্কশ চিৎকার
সাময়িকভাবে হয়তো নিবিষ্টচিত্তকে বাধাগ্রস্ত করে।
ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে
রাতটা আবারো ফিরে আসে আগের খোলসে
আরো ভয়ংকরতম রূপ নিয়ে।
তখন মনের গহীন কোণে মৃত আত্মারা
করুণ সুরে বেহালা বাজায়।
আশ্চর্যজনকভাবে সেই সুরের তাল কাটে না
অথচ জীবনের একেকটি বেতাল মেলোডি
তৈরি করে একাকিত্বের দীর্ঘতম রাতগুলোকে।
মহাকালের খাতায় রাতগুলোর তীব্র আর্তনাদ
চাপা আক্রোশে লিপিবদ্ধ হয় প্রতিনিয়ত
সকল অসমাপ্ত সমীকরণ ধৈর্যচ্যুত হয়ে প্রশ্ন তোলে,
একাকিত্ব, তুমি কোন কর্ডে বাজো?