সমরেশ বসুর ছোটগল্প ‘পঞ্চায়েত’
মার্চ ১২, ২০২৬
বুড়ি ভুজাওয়ালি দোকান বন্ধ করে বাদাম আর ভুট্টার খইভাজার ধামা নিয়ে এসে পঞ্চায়েতের আসরে বসল
সেই স্বপ্ন, যেখানে মানুষের মৃত্যু ঘটে
চেয়ারে বসে আমি সহ্য করলাম সব, ঠোঁটে হাত দিয়ে দেখলাম রক্ত, গ্লাসের ভেতর থেকে গলতে-থাকা বরফের টুকরা তুলে ছোঁয়ালাম ঠোঁটে। জ্বলছিল। এরই মধ্যে সে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছে কার্পেটের উপর উপুড় হয়ে, প্রশ্বাসে ওঠানামা করছিল তার প্রায়-শাদা পিঠ; আর মাথার কাছে ছড়িয়ে ছিল শাড়ি, সায়া ও ব্লাউজ।
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯
আশ্রয়
এখন যেভাবে অবাক হয়ে মোহনাকে দেখছি ঠিক তেমনি ভাবে অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম যেদিন প্রথম দেখেছিলাম। ভার্সিটির নবীন বরণে ওর সাথে আমার প্রথম দেখা। ওদের নবীনবরণের আয়োজনটা করেছিলাম আমাদের ৩য় বর্ষের ছাত্ররা। আর এই নবীনবরণেই মোহনা নীল রঙের একটা শাড়ি পড়ে এসেছিল। একেবারে ডানাকাটা নীলপরী যাকে বলে আর কি!
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯
শাহরুখ পিকলুর চারটি খুদে গল্প
ওয়ারির র্যাংকিন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট থেকে বার হয়ে সাজিদ সোজা হেঁটে, নবাব স্ট্রিট, লারমিনি স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, বলদা গার্ডেন, ক্রিশ্চেন সেমেট্রি পার হয়ে হঠাৎ দাঁড়ালেন। এদিক-ওদিক দেখলেন, আবার ওখান থেকে ঘুরে জয়কালী মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে এসে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে হেঁটে চলে এলেন হাটখোলার মোড়ে।
ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৯
সেদিন থেকেই চাচাকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি
পেছন দিকে পড়তে গিয়ে ডান হাটটা ঠেস দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। বিপত্তিটা তাতে আরো বেড়ে গেল। বাঁচার চেষ্টা করেছিলাম ভিজে যাওয়া থেকে; কিন্তু ফলাফল দাঁড়ালো হাতের তিনটি আঙুল ভাঙা। চিৎকার করে হয়তো ওই সময় কাঁদতে চেয়েছিলাম।
ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৯
বাইস্যা কাল
‘অত বেইল পর্যন্ত ঘরের ঝাঁপ বন্ধ রাহনডা অলক্ষ্মীর চিন্। লক্ষ্মী আইয়া ঘরে ঢুকতে না পাইয়া ফিরা যায়, হেই সুযোগে দৌড়াইয়া আইয়া খাপ পাইত্যা থাহে বালা মুসিবত।’ একা একা বিড়বিড় করে মায়মুনা খাতুন। বউ-ছেলেদের বে-আক্কেল আয়েশপ্রিয়তা তাকে অসন্তুষ্ট করে। বিরক্ত হয়ে মাটির মালশার আগুনটা উস্কে দিয়ে চিন্তিত মুখে বসে থাকে সে।
ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প ‘মৌরীফুল’
অন্ধকার তখনও ঠিক হয় নাই। মুখুজ্জে-বাড়ির পিছনে বাঁশবাগানে জোনাকীর দল সাঁজ জ্বালিবার উপক্রম করিতেছিল। তাল-পুকুরের পাড়ে গাছের মাথায় বাদুড়ের দল কালো হইয়া ঝুলিতেছে- মাঠের ধারে বাঁশবাগানের পিছনটা সূর্যাস্তের শেষ-আলোয় উজ্জ্বল। চারিদিকে বেশ কবিত্বপূর্ণ হইয়া আসিতেছে
জানুয়ারি ৩০, ২০১৯
জালালি খতম
ভোর হতে না হতেই বিবি সকিনার বাড়ি হতে কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ আসছে। সাতজন মৌলানা একসাথে কুরআন খতমে বসেছেন। সবাই মিলে সত্তুর বার কুরআন খতম করবেন আছর আযানের আগেই। তারপর আছর থেকে মাগরীবের ওয়াক্ত পর্যন্ত জায়নামাযে বসে বিবি সকিনার পাপমুক্তির দোয়া করবেন সাত মৌলানা।
জানুয়ারি ২৯, ২০১৯
তখন সবাই বিস্রস্ত ছিল
চলেই তো যাচ্ছিল জীবনখানা, মামুনের। গতকালও বলা যেত সে চাইলে অভীষ্ট গর্তে গিয়ে পড়বে তার ছুঁড়ে দেয়া মার্বেল, যে-কোনো তবলাবাদকের আঙুল ও করতলে কাহারবা শুরু হলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর মধ্যে যে ঢুকে পড়ে না অন্য কোনো তাল, গতকাল পর্যন্ত তো তাই ছিল। অন্তত কোনো ঘটনা ছিল না।
জানুয়ারি ২৮, ২০১৯
রোকসানা দরোজা খুলছে না
বিয়ের পর কলাবাগানে ছোটো ফ্ল্যাটে রোকসানা আর আমি সংসার পাতি। ফ্ল্যাটের দরোজা ছিল বেশ সুন্দর। কাঠের দরোজা। কারুকাজ করা। আমরা ডোরবেল লাগালাম। সেটির উপরে রোকসানা একটি স্টিকার লাগালো। তাতে লেখা, ‘ডাক দিয়ে যাই’। আর দরোজার ভেতরের অংশে আবিমাল গুজম্যানের কারাবন্দি একটি পোস্টার।
জানুয়ারি ২৭, ২০১৯


























