সমরেশ বসুর ছোটগল্প ‘পঞ্চায়েত’
মার্চ ১২, ২০২৬
বুড়ি ভুজাওয়ালি দোকান বন্ধ করে বাদাম আর ভুট্টার খইভাজার ধামা নিয়ে এসে পঞ্চায়েতের আসরে বসল
হেমন্তের এক বিকেল
নিরাপদ একটা ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ালো পুরো দলটি। অসময়ে তাণ্ডব দেখে দলের সবাই দারুণ বিস্মিত। এ তো ঝড় নয়, ঝড়ো হাওয়া, ধুলো উড়ছে এলোপাথারি, আকশের মেঘগুলো ছুটছে খুব বেগে। চমৎকার বিকেলটি দেখতে দেখতে হয়ে উঠল অন্ধকার এক ভয়-জাগুরুক সন্ধ্যা।
নভেম্বর ৩০, ২০১৭
রেড লাইটের ভালোবাসা
এক দালাল এসে স্বভাবমতো পাকড়াও করে জিগেশ করে, কি চায়? সেলিম বেকুবের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। দালাল জিজ্ঞেস করে, টাকা আছে? কত? সেলিম পকেট থেকে টাকা বের করতে করতে ওপরে তাকায়। ললিতাকে দেখতে পায়। ললিতা তারে দ্যাখে না। সে আরও বছর দুয়েক আগের কথা। তার পকেটে ৩০০ টাকা ছিল। সে হাত তুলে ললিতাকে দেখায়।
নভেম্বর ২৯, ২০১৭
এক বিন্দু অশ্রু
সায়েন্স ল্যাবরেটরির সিগন্যাল বাতিটা কি আছে? ছেলেটা ভাবে। ভাবার কি আছে, তাই না? চোখ তুলে দেখলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! কিন্তু চোখ তার ঝাপসা। অশ্রু না মেঘের ছায়া, সে ভেবে দেখেনি।
নভেম্বর ২৩, ২০১৭
সার্ত্রের প্রেমিকারা
শেষ প্রেমিকাটা প্রায়ই আমাকে বলতো, পাগলদের ওস্তাদ। সুতরাং আমার তো পাগলে ভয় পেলে চলে না। যদিও অল্প অল্প ভয় করছে, তবু আমি খুব শান্ত কণ্ঠে চালককে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছ? ঘাড় নেড়ে সে জবাব দিল, ভালো আসি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, বছরে খারাপ থাকো কতদিন? সে বলে, গরমের সময়।
নভেম্বর ১৭, ২০১৭
গোধূলির জাদুকর
বেশিরভাগ সময় এখন আমি ঘুমিয়ে থাকি। জেগেও থাকি কখনও কখনও। ঘুম থেকে উঠে চুপচাপ বসে আমি চারপাশ দেখি। কত কত কিছু এই পৃথিবীতে। একই মানুষের ভেতর কত কত মানুষ। কিছু সময় এইসব চেয়ে চেয়ে দেখি, এরপর মনে হয়, এই তো দেখলাম। এইবার ঘুমিয়ে পড়লেই হয়।
নভেম্বর ১৪, ২০১৭
রহস্য
রহস্য জাতীয় ব্যাপারগুলিতে আমার তেমন বিশ্বাস নেই। তবু প্রায়ই এরকম কিছু গল্প-টল্প শুনতে হয়। গত মাসে ঝিকাতলার এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন, তার ঘরে একটা তক্ষক আছে। সেটি রোজ রাত ১টা ২৫ মিটিনে তিনবার ডাকে। আমি বহু কষ্টে হাসি সামলালাম। এরকম সময়নিষ্ঠ তক্ষক আছে নাকি এ যুগে?
নভেম্বর ১৩, ২০১৭
দুপুরবেলার গল্প
উঠোন পেরোতে গিয়েই সে থ। বারান্দায় পড়ে আছে মা। গালের পাশ দিয়ে গ্যাজলা নামছে গড়িয়ে। দুহাত ছড়ানো দুদিকে। ছুটে এলো সে। বুঝল, অজ্ঞান হয়ে গেছে। এ রকম হয়। প্রায় প্রায়ই এ রকম হয়। কিছু সময় চেয়ে রইল সে। পাথরের মতো ভার শরীরে এখন। হাহাকার ছড়িয়ে পড়ল বুকের খুব ভেতরে।
নভেম্বর ০৩, ২০১৭
অন্ধ ভিক্ষুক
এক অন্ধ ভিক্ষুক ছিলেন। চোখ নাই, তাই তিনি নাকের সাহায্যে অনেক কাজ চালাইতেন। অন্ধ ভিক্ষুক রাতে খাওয়া-দাওয়া করতেন হোটেলে। তো শহরে নতুন এক হোটেল হইছে শুনে ভিক্ষুক সাহেব গেলেন সেই হোটেলে খাইতে। হোটেল চালাইতো সুলাইমান আর সুলাইমানের বউ সকিনা।
অক্টোবর ৩০, ২০১৭
চশমা
এইদিনটাতে ওরা দেখতে এসেছিল আমাকে। উপলক্ষ হিসেবে কাণ্ডখানা এতই সাড়া ফেলে দিল যে, তার তালে আমি ধরাকে সরা না হলেও এর কাছাকাছি কিছু জ্ঞান করা শুরু করেছি।
অক্টোবর ২৪, ২০১৭
সীমান্তের মা
ছেলেটা এখন হামা দিতে শিখে গেছে। আহা! পাগলির কি আহ্লাদ। ও গাছের গায়ে হেলান দিয়ে উবু হয়ে বসে কনুইটা হাঁটুর ওপর ঠেস দিয়ে উকুন বাছতে থাকে। দেখতে থাকে ওর ছেলে মাটির ওপর উল্টে শুয়ে পিঁপড়েদের লাইন ক্যামন ভণ্ডুল করে দিচ্ছে।
অক্টোবর ০২, ২০১৭

























