আবু তাহের সরফরাজের ছড়াকাহিনি ‘বেজি’
প্রকাশিত : নভেম্বর ০৫, ২০১৮
উঠোন ঘেঁষে এক চিলতে
আমড়া গাছের ছায়া
ছায়ার নিচে বন্দি খাঁচায়
একটা বেজি ভায়া।
টিনের চালে রোদ পড়েছে
চকচকে সেই রং
বন্দি বেজি দেখছে শুয়ে
রোদ ও ছায়ার ঢং।
রোদ ছড়িয়ে চতুর্দিকে
করছে রে ঝিকমিক
একটা দশের ট্রেনটা ছুটে
চলছে কু ঝিকঝিক।
দুপুরবেলা আলসেমিতে
শান্ত চারিধার
বাঁশের পাতা শনশনিয়ে
তুলছে হাহাকার।
দুধ খাওয়া এক ছোটটো বাবু
খেলছে শুয়ে মাদুরে
উঠোন ঘিরে ঝিরঝিরিয়ে
বইছে হাওয়া আদুরে।
আম্মু গেছেন মাঠের দিকে
বাঁধতে গরু ঘাসে
গোসল দিতে জল রেখেছে
ছোটটো সোনার পাশে।
চৈত্র মাসের দারুণ খরা
খটখটে খালবিল
তেষ্টা কাতর নাগ-নাগিনী
করছিল কিলবিল।
নাগের চেয়ে রাগ বেশি তার
সঙ্গিনী রানির
তাই তো নাগ-ই একলা গেল
খোঁজ পেতে পানির।
তপ্ত রোদের হলকা ছোটে
সূর্য ফাটে রাগে
শরীর টেনে পানির খোঁজে
ছুটছে দ্যাখো নাগে।
হঠাৎ চোখে পড়ল দূরে
ছোটটো কুঁড়েঘর
ভাবল মনে, মিলবে পানি
ছুটল সে তরতর।
আমড়াতলায় পৌঁছে দ্যাখে,
গামলা ভরা পানি
ছোটটো মানুষ গামলা ধরে
করছে টানাটানি।
একটু দূরে বন্দি খাঁচায়
ছটফটিয়ে বেজি
ডাকতেছে কী তীব্র স্বরে
চাউনিটা কী তেজি।
চোখ ফিরিয়ে চট করে নাগ
নেয় মিটিয়ে তেষ্টা
ছোটটো মানুষ ধরতে তাকে
করতে থাকে চেষ্টা।
একটু পরে আসল ফিরে
নাগ নাগিনীর কাছে
বলল হেসে, ‘ওই যে কুুঁড়ে
দেখছ মাঠের পাছে?
ওই কুঁড়েতে গাছের তলে
গামলা ভরা পানি
রাগ করো না, ছোটটো মানুষ
করবে টানাটানি।
একটু দূরে বন্দি খাঁচায়
দেখবে পোষা বেজি
সাবধানে যাও, জলদি করো
নয় সে হেজিপেজি।’
জলদি করে কুঁড়ের দিকে
ছুটল নাগিনী
চুপটি করে নিজের মনে
খাচ্ছিল পানি।
ছোটটো সোনা চাঁদের কণা
সাপ কী সে আর চেনে?
খেলতে গিয়ে হঠাৎ করেই
লেজটা ধরে টেনে।
রাগ চড়চড় রাগ চড়চড়
ভীষণ রাগের চোটে
কামড়ে তাকে হিং¯্র নাগিন
বনের দিকে ছোটে।
আর কে রোখে শক্তি বেজির
ছিঁড়ে খাঁচার তার
রুদ্ধশ্বাসে ছুটল দূরে
পেরিয়ে বনবাদাড়।
খানিক বাদে আম্মু এসে
দেখল, সর্বনাশ
ছোটটো সোনা নেই তো বেঁচে
সামনে শুয়ে লাশ।
বেজির খাঁচা শূন্য দেখে
কাঁপেন তিনি রাগে
এই যে ছিল বেজির মনে
জানত কে তা আগে?
ঠিক তখনই দৌড়ে এসে
ছোটটো বাবুর মুখে
হামলে পড়ে খাওয়াচ্ছে কি
দুষ্টু বেজি সুখে?
হাতের কাছে পেলেন তিনি
শক্ত মোটা বাঁশ
এক বাড়িতে থেঁতলে দিতেই
মরল সে বদমাশ।
হঠাৎ করেই আম্মু দ্যাখেন,
ছোটটো সোনার হাতে
দাঁত বসিয়ে কামড়েছে কি?
রক্ত জমা তাতে।
সাপের কামড় চিনতে পেরে
ডুকরে ওঠেন তিনি
বেজির মুখে গাছড়া কিসের?
আমরা কি কেউ চিনি?























