এবারের নির্বাচন ৫ আগস্টের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা: নাহিদ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ৫ আগস্টের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ৫ আগস্টের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা। এই নির্বাচন সফল না হলে গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ হবে। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এবার কারও ভোটাধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে সক্রিয় থাকব। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে আমি ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাইকে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিশেষ অনুরোধ করছি।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ভবিষ্যতে কোনো আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা থাকবে না। বরং সবাইকে সাধারণ মানুষের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। মন্ত্রীদের সপ্তাহে অন্তত এক দিন এবং সচিবদের দুই দিন সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১১-দলীয় জোটের ১৮টি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইনসাফ ও সংস্কার। ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত গুম-খুন, নির্যাতন ও ব্যাংক লুটের বিচার নিশ্চিত করাই হবে তাদের অগ্রাধিকার।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “১৮ বছর বয়সের বেশি সব তরুণ-তরুণীর জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের ইশতেহারে।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত দেড় বছরে অনেক প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় জনগণের মাঝে যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে, তা আমরা অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা হিসেবে স্বীকার করে নিচ্ছি। এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমি ভোটারদের কাছে আরেকটিবার সুযোগ প্রার্থনা করছি।”
নাহিদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের সহযোগী হওয়ার কলঙ্ক মুছতে পুলিশ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘জনসেবক বাহিনী’ রাখা হবে এবং এর কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পুনর্গঠন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কখনোই আফগানিস্তান হবে না। এটি হবে তুরস্ক বা মালয়েশিয়ার মতো একটি ধর্মানুরাগী উদারনৈতিক রাষ্ট্র। যেখানে ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন ও ইনসাফের ভিত্তিতে।”
এছাড়া নারী অধিকার নিশ্চিত করা, নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সুনীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তার ভাষণে স্থান পায়।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে এনসিপি এবার ৩০টি আসনে ‘শাপলা কলি’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।























