দেশজুড়ে অতিভারী বর্ষণের আভাস
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : আগস্ট ০৯, ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ১২ আগস্টের পর থেকে দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এছাড়া আরেকটি নতুন লঘুচাপের প্রভাবে ১৫ আগস্ট থেকে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ কয়েকদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, শ্রাবণ মাসে দেশে কমবেশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও ক’দিনের তুলনায় বর্তমানে এ প্রবণতা কিছুটা কম। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় বরিশালের ভোলায় ৭৪ মিলিমিটার।
শনিবার সারা দেশের মধ্যে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
রোববার বিকেলে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে তিন-চার দিন বৃষ্টির প্রবণতা কম থাকলেও ১২ কিংবা ১৩ আগস্ট থেকে তা আবার বাড়বে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়ে ক’দিন অব্যাহত থাকতে পারে। কখনো কখনো হালকা বৃষ্টি হলেও আপাতত রাজধানীতে ১৫ তারিখের আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা উপকূলে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান থেকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম শোভন বলেন, “দেশের নদীগুলোর পানি ও বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট জেলার কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।”
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা একদিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল হতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিমাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমা প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি হ্রাস পেলেও তা পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকদিন নদ-নদীর অববাহিকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।























