শব্দগুলোকে জীবন ও সাহিত্যের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি

পর্ব ১৪

শব্দগুলোকে জীবন ও সাহিত্যের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি

জুন ১১, ২০১৮

আমার লেখালেখির শুরুর দিকটায় আমি একেরপর গল্প লিখে যাচ্ছিলাম। আমার লিখিত গল্পের অর্ধেকই লেখালেখি শুরুর প্রথম চার-পাঁচ বছরের মধ্যে লেখা। প্রথম বইয়ের পাণ্ডুলিপি করার আগে আমার মনে হলো, একটা বিশেষ থিম বজায় রেখে বইটা করব, মানে গল্পগুলোর মধ্যে বিশেষ এক ঐক্য খোঁজার চেষ্টা।


আর্ট অব ফিকশন: উমবের্তো একো

আর্ট অব ফিকশন: উমবের্তো একো

রাত হলেই উপন্যাস পড়া সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার। মাঝেমাঝে অবাক হই এই ভেবে যে, একজন ধর্মভ্রষ্ট ক্যাথলিক হিসেবে আমার মগজে একবারও ফিসফিস করে বাঁশি বাজে না এই বলে যে, উপন্যাসকে দিনের আলোয় পড়তে হবে, আর ব্যাপারটা বড়ই আনন্দদায়ক। সুতরাং দিন হলো প্রবন্ধ এবং অন্যান্য কঠিন কাজগুলি করার জন্য।


জুন ১১, ২০১৮

সংস্কৃতির সংকট নেই, সংকট নিজেই সংস্কৃতি

পর্ব ১৩

সংস্কৃতির সংকট নেই, সংকট নিজেই সংস্কৃতি

সংকট নিজেই সংস্কৃতি। সংকট এখানকার জীবনাচরণের অংশ। জাতীয় জীবন কিম্বা লোকজীবন— সবখানেই সংকট নিজেই একটা আচারে পরিণত হয়েছে। সেটা এমনভাবে এখানকার জীবনের অংশ হয়ে গেছে যে, মানুষ সেটাকে আর অস্বীকার করতে পারছে না, যেভাবে অন্য সংস্কৃতিও অবধারিতভাবে জীবনেরই অংশ।


জুন ০২, ২০১৮

বাসের সিটে বসে চোখ বন্ধ করলেই আইডিয়া আসে

পর্ব ১২

বাসের সিটে বসে চোখ বন্ধ করলেই আইডিয়া আসে

এমএ পরীক্ষা দিয়েছি চা দোকানে পড়ে। পরীক্ষা চলাকালীন প্রতি পরীক্ষার মাঝে গ্যাপ থাকত তিন চার দিন করে। হলে ভালো লাগত না। বইপত্র চা দোকানে এনে রেখেছিলাম। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে মন চাইলেই পড়েছি। মাঝরাতে দোকান বন্ধ হওয়ার সময় বইপত্র ওখানে রেখেই চলে যেতাম।


মে ২৬, ২০১৮

আমাদের গল্প-উপন্যাস বিচারকের রায়ের কপি

পর্ব ১১

আমাদের গল্প-উপন্যাস বিচারকের রায়ের কপি

আমাদের অধিকাংশ গল্প-উপন্যাস বিচারকের রায়ের কপি। একটা বাস্তবতা তুলে ধরে তা কেন ঘটল, ভেতরের সত্য কী সেটার মর্ম উদঘানের দায়িত্ব নিয়েছেন লেখক, যেন তিনি পাঠককে রায় পড়ে শোনাচ্ছেন। আমি বিচারক হতে চাই না। তাই ইলিউশন, ইউটোপিয়া, ব্ল্যাংক স্পেস উপকরণ নিয়ে থেকে আমি লিখি।


মে ১৯, ২০১৮

গদ্যটা বাজারে বসেও লিখতে পারব

পর্ব ১০

গদ্যটা বাজারে বসেও লিখতে পারব

আমি হট্টগোলের মধ্যেও লিখতে পারি। আমার কয়েকটি গল্প চায়ের দোকানে প্রচণ্ড কথাবার্তা আর গ্যাঞ্জামের মধ্যে বসে লেখা, জাহাঙ্গীরনগরে বটতলার চা দোকানে বসে লিখিত। মোটেও অসুবিধা হয়নি। পত্রিকায় কাজের সুবাদে এই অভ্যাস হয়ে গেছিল।


মে ১৩, ২০১৮

‘মানুষের জয় হবেই’

‘মানুষের জয় হবেই’

দেশবাসী কামাল পাশার নাম দিলেন ‘আতাতুর্ক’, মানে তুরস্কের পিতা। তিনি এসে তুর্কি হরফে কোরআন শরিফ লেখালেন, আজান দেয়ালেন তুর্কি ভাষায়। সেক্যুলার সংবিধান বিশ শতকে কামাল পাশা করেছেন। যে দেশে শতকরা নব্বইভাগ লোক মুসলমান, সেই দেশেরই তিনি এই অসাম্প্রদায়িক সংবিধানটা করলেন।


মে ১০, ২০১৮

আমরা পাঠকও হারিয়েছি, দর্শকও হারিয়েছি

পর্ব ৯

আমরা পাঠকও হারিয়েছি, দর্শকও হারিয়েছি

দেখা এবং পড়ার অনুভূতি ভিন্ন, দেখার মাধ্যমে যে বোধ তৈরি হয় পড়ার মাধ্যমে নিশ্চই তার চেয়ে বেশি বোধ তৈরি হয়। লেখা যা দেখায় তা স্বাধীন, চিত্র যা দেখায় তা পরাধীন। আলাদা পাঠক নির্দিষ্ট একটি লেখা পড়ে আলাদা দেখার স্বাদ নিতে পারে, কিন্তু চিত্র যা দেখায় তাই দেখে প্রতিটি দর্শক।


মে ০৮, ২০১৮

বাংলাদেশের চেয়ে সিনেমায় পশ্চিমবঙ্গ বহুগুণ এগিয়ে

পর্ব ৮

বাংলাদেশের চেয়ে সিনেমায় পশ্চিমবঙ্গ বহুগুণ এগিয়ে

পশ্চিমবাংলার কথাসাহিত্য অনেক বছর পড়া হয় না। এখন কারা কি লিখছেন ওখানে জানি না। তবে সিনেমা দেখি। যখন যেটা ইউটিউবে নতুন আসে, দেখে ফেলি। বাংলাদেশের চেয়ে সিনেমায় পশ্চিমবঙ্গ বহুগুণ এগিয়ে। সবদিক থেকে। আর এগিয়ে ননফিকশনে। তাদের ননফিকশন প্রয়োজনের খাতিরেই পড়তে হয়


এপ্রিল ২৮, ২০১৮

কিছু মানুষ গল্প লেখে, অধিকাংশ মানুষ গল্প করে

পর্ব ৭

কিছু মানুষ গল্প লেখে, অধিকাংশ মানুষ গল্প করে

সবমলিয়ে আমি নিজেই তব্দা খেলাম। এ আমি কি করছি! নিজের অজান্তেই আমি একটি উপন্যাসের দিকে যাচ্ছিলাম। সবচেয়ে বেশি অবাক করা, উপন্যাসের সর্বশেষ অধ্যায় আমি আগেই সৃষ্টি করেছি। আমার অসুখ। আই মিন আমি অসুখে। আরো অবাক করা , এই বাক্যটি উদভ্রান্তের মতো আমি আওড়াতাম বন্ধু মহলে।


এপ্রিল ২১, ২০১৮

পুরস্কার মুখ্য নয়

পর্ব ৬

পুরস্কার মুখ্য নয়

পৃথিবীতে কত অদ্ভুত নামের বই বিচিত্র কারণে আছে। সেগুলোর নাম অন্যনামে দিলে সংশ্লিষ্ট এসেন্সই তৈরি হতো না। গাভ্রিয়েল ত্রোয়েপোলস্কির একটা বিখ্যাত বই আছে, নাম `ধলা কুকুর শ্যামলা কান`। নামের এমনি কোনো গুরুত্ব নেই, গল্পের কন্টেন্টই নামের যথার্থতা তৈরি করে। টেক্সট না পড়ে কথা বললে তো মুশকিল!


এপ্রিল ১৪, ২০১৮

ধারাবাহিক