সমরেশ বসুর ছোটগল্প ‘পঞ্চায়েত’
মার্চ ১২, ২০২৬
বুড়ি ভুজাওয়ালি দোকান বন্ধ করে বাদাম আর ভুট্টার খইভাজার ধামা নিয়ে এসে পঞ্চায়েতের আসরে বসল
গঞ্জিকাবিভ্রাট
আমি থেকে থেকে ওর বুকের দিকে তাকাচ্ছি। সাহিত্যের ভাষায় এজাতীয় বক্ষকে বলা হয় পীনোন্নত স্তন। আমার মাথায় গাঁজার খিদে ভনভন করে ঘুরতে লাগল। বললাম, ভাল লেগেছে ভাল কথা। বেশিক্ষণ কথা বলতে পারব না। আমি যাই।
মে ০৮, ২০১৯
মানিক বাঁড়ুজ্জের সাথে যাবার সময়
ডলির কথা শুনে কোনো কথাই বলতে পারেননি মানিক বাঁড়ুজ্জে। কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেবেছিলেন, মানুষ সন্তানকে ভয় করছে! দশমাস গর্ভে ধারণ করে মৃতসন্তান প্রসব করে মা ভাবছে, বাঁচা গেল!
মে ০৫, ২০১৯
পৃথিবীতে নাই কোনো শুদ্ধ প্রেম, থাকার জায়গা
ক্যানো আত্মহত্যা করতে যাইতেছি, তার কারণগুলি সব শফিককেন্দ্রিক না। এইটা ঠিক, খুব সত্য যে, আমি শফিককে ভালোবাসি। আমার ভালোবাসাবাসির নিষ্ঠা শফিকের মাথা নিচু কইরা দেয়, জানি, তবু আমার কিছু যায়-আসে না।
মে ০৩, ২০১৯
মৃত্যুর ধূসর চোখ
ধূসর ছবি তার সামনে। মৃত্যুর ধূসর চোখে চারপাশ তিনি দেখছেন। টের পাচ্ছেন, এই সময় এই রকম যন্ত্রণা পেতে হয়। মারা যাচ্ছেন মানিক বন্দোপাধ্যায়। তার মুখের ওপর ঝুঁকে রয়েছে স্ত্রীর মুখ। খুব কাঁদছেন কমলা দেবী।
মে ০২, ২০১৯
ডিজিটাল চিকিৎসা
ডাক্তার রহমান একজন ইউরোলজিস্ট। সেদিন বৈকালিক চেম্বারে ব্যস্ত সময় পার করিতেছিলেন তিনি। পান চিবাইতে চিবাইতে ঘরে ঢুকিলেন পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি, মুখে একই সঙ্গে বিরক্তি এবং অহংবোধের অভিব্যক্তি মেশানো।
এপ্রিল ৩০, ২০১৯
সুবর্ণ কঙ্কন পরা ফর্সা রমণীরা
সারাটা দিন আর সেই বৃদ্ধাকে কোথাও দেখা যাবে না। হয়তো তার কথা আর কেউ ভাববে না। করুণার দৃষ্টি তুলে কেউ একবার ফিরে তাকাবে না তার দিকে। অথচ একদিন সুনীলের কবিতার নাদের আলির সাথে তার পরিচয় ছিলো।
এপ্রিল ৩০, ২০১৯
পাপিয়া জেরীনের গল্প ‘আগত’
এ বাড়িতে ঢুকতে একটুও ভালো লাগতেছে না তার। কিন্তু ছোটো বোনের জন্য কয়েকটা ছবি নিতে হবে । আপ্সারা থাকে মেলবোর্নে, ওর নাকি একশো বছরের একটা পুরানো বাড়ির ছবি লাগবে। আর এই বাড়িটা নাকি তার জন্য পার্ফেক্ট।
এপ্রিল ২৬, ২০১৯
সোমেন চন্দের গল্প ‘দাঙ্গা’
লোকটি খুব তাড়াতাড়ি পল্টনের মাঠ পার হচ্ছিল। বোধ হয় ভেবেছিল, লেভেল ক্রসিং-এর কাছ দিয়ে রেলওয়ে ইয়ার্ড পড়ে নিরাপদে নাজিরাবাজার চলে যাবে। তাহার হাতের কাছে বা কিছু দূরে একটা লোকও দেখা যায় না-সব শূন্য
এপ্রিল ২০, ২০১৯
জাল
গ্রামের পুকুর পেরিয়ে মমতাজ মেম্বারের বাড়িতে আজ দুনিয়া ভেঙে পড়েছে। তার বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। দুনিয়া কাঁপিয়ে চিৎকারে কেঁদে উঠছে তার বউ, পাশে বসে থাকা মমতাজ মিয়ার ছোট ছেলেমেয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।
এপ্রিল ১৯, ২০১৯
মাঠ পেরোলে ছিপছিপে এক নদী
মনে হলো, দেখলাম যেন, একজন নদীর ভেতর কুয়াশার আয়না থেকে বেরিয়ে এলো। কী রকম আলো ছড়িয়ে পড়ল তার শরীর থেকে। আমি চেয়ে রইলাম। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না তার অবয়ব। তবে সে আসছে, হেঁটে আসছে আমার দিকে।
এপ্রিল ১৫, ২০১৯

























