অনন্ত সুজনের কবিতা ‘এবং জেল সিরিজ’

প্রকাশিত : মে ০২, ২০১৯

এক.
সমর্পণ মুহূর্তে, লীলা শীর্ষের উড্ডয়নে—
তোমার সামদ্রিক শ্বাস থেকে আমাজান ওয়াইন
সংগ্রহ করি। তুলনায় শীতশিশিরসিক্ত ভোরের
ঝরাবকুল, অন্তহীন আসক্তির আবেশে চুরমার।

কল্পনা না থাকলে এ-জীবন-জগৎ নিরর্থক— বাক্যটি
মসজিদের মিনার বা মন্দির ছুঁয়ে বলতে পারি!
স্মরণে, ভাস্কর্যের সাহসে জেগে ওঠে জলধির মুখ
ফেরানোর সাধ্য তুফানেরও নেই!

চোখ দুটো পাশাপাশি দ্বীপ হলেও পানশালা অভিন্ন!
যেখানে একটি চুম্বন মানেই একটি করে সমৃদ্ধ
পেগের অনুভূতি। নেশার বাগানে কথার ঘ্রাণ বাতাসের
আগে দৌড়ায়। রঙ্গিন প্রজাপতি উড়াউড়ি শেষে
অবিরাম বৃষ্টি নামায়।

তখনও তুমি অদেখা, অধরা, দূরত্বদক্ষিণা!

দুই.
দূরত্ব দ্রাঘিমা নিশ্চিহ্ন করে কামিনীর ঘ্রাণ আসছে
গরমের শরমে ক্রমশ লুপ্ত হচ্ছে বাহাদুর বাতাস
ধরে নেয়া যায়, মরু পিপাসায় পুরনো হুইস্কির
ছিপি খুলে নিঃসঙ্গ, একাকী কেউ অপেক্ষমাণ!

এপারে আমি গন্ধবাহক, নাভির সামান্য নিচে
অস্থির জ্বর। ক্ষুধার্ত সিংহের উন্মাতাল গর্জন
দেয়ালের পলেস্তারা খসিয়ে দিচ্ছে। রতিঝড়
কখনো কখনো বিউগলের ভাষায় কথা বলে—
যুদ্ধের দামামা বাজায়। আত্ম-জাগরণে তাই
চূর্ণ-বিচূর্ণ প্রায়। সহ্যাতীত, নিরুপায় ভ্রমণে
মাংসনলের কবোষ্ণ রুপালি ভাষণ বিলিয়ে
দিলাম মহাপৃথিবীর সমস্ত তাড়নার দিকে!

তিন.
স্তব্ধ সেলের আবছা অন্ধকারে দেহের প্রতিবিম্ব
আরও বেশি জড়, নড়ে না মোটেও

সূর্যের যেন কি রঙ? অশনাক্ত নাকি?

কল্পনার আকাশে উপচানো ছাইমেঘ
তন্ময় বৃষ্টি হয়ে ঝরছে, অবগাহনে নাচছে
মন্ময় ময়ূর— সঙ্গিনীর কৃপায় অনুরূপ
তাড়না জাগাতে।

অমায়িক, খইফোটা বৃষ্টিতে
তুমি পাশে নেই
বিরহ একেই বলে।

চার.
ইতিহাসের সব সম্রাটই হেরেমে যেত
—সভ্যতার সমান পিপাসায়!

এত যে ঋতুর অবিচার, পরিবেদনার দেয়াল
দিয়ে সুরক্ষিত— তবুও হঠাৎ বিচ্ছুরিত
স্পর্শ-উল্কা, মহিলা লকাপের ছাদ বেয়ে
ছুটে যাওয়া গন্তব্যগহীন, রতিদানা

বন-উপবন কেঁপে ওঠে, নাচে মহাকাশ

নাভির নন্দনে তোমার গোপন পানশালা আছে—
যেখানে পান না করেও বেসরকারি মাতাল
হওয়া যায়, সামান্য ঘ্রাণের গৌরবে!

পাঁচ.
আসে সে ধীর, বধির
উঁচুর অনেক নিরাপদ থেকে
ডানার ছায়া ঢেলে দেয়!

ইচ্ছেমতো রাঙায় বিরতিহীন
আবার আচম্বিত উধাও—
বেহালায় বিরহ উছলায়!

অনুভবের সলতে জ্বলতে থাকে
হাড়ের উপরিভাগে দূর্বা গজায়!