অমিতাভ পালের গুচ্ছকবিতা
প্রকাশিত : মার্চ ১১, ২০১৯
কামসূত্র
ঘরের ভিতরে সবকিছুর আড়ালে গিয়ে
তুমি আর আমি পরস্পরের কাছে নগ্ন হলাম
যেন পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে থাকা
অবিকল দুই জননেন্দ্রিয়
সেখানে তারা লাফায় ভিজে যায়
উত্তেজনার পরে ঘুমায়
আর দেয়াল সব লুকিয়ে রাখে ক্যালেন্ডারের পাতা দিয়ে
মলাট দেয়া একটা অচেনা বইয়ের মতো
বইটার নাম কামসূত্র
আমরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের কামসূত্র লিখি
পরিধিপুর
সবকিছুরই প্রান্ত ছুঁয়ে আছি—
তোমার ত্বকের প্রান্ত
দোকানে ক্রেতার প্রান্ত
জীবনে মৃত্যুর প্রান্ত—
আমাদের পাড়াটা পরিধিপুরে
পরিধিপুরে সূর্য বৃষ্টি শীত
শামুক
পোশাকের মধ্যে থাকতে থাকতে কবে যেন শামুক হয়ে গেছি
এখন আমার নরম তুলতুলে ফর্সা পেলব শরীর
সারাক্ষণ ভিজে যাবার বা ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে
আচ্ছন্ন হয়ে থাকে
নগ্নতাকে আমি আর সহ্য করতে পারি না
ফলে আমার পোশাক বাড়ছেই
আমি আসলে কে— সেটা আমার
পোশাকগুলি জানে
আমি-মেশিন
নিজের ভিতরে আমি একটা মেশিনের গন্ধ পাচ্ছি
বাইরের আলো বাতাস শব্দ ছবি
আমার পাঁচ ইন্দ্রিয়ের পোর্টহোলগুলি দিয়ে
ভিতরে ঢুকছে কাঁচামালের মতো
আর সংশ্লেষণ বিশ্লেষণে জারিত হয়ে মিলেমিশে
তারা তৈরি করছে একেকটা ফিনিশড প্রোডাক্ট
আমি তাদের ছাপছি প্যাকেট করছি আর নিয়ে যাচ্ছি
বিভিন্ন মেলায়
ভোক্তাদের ভিড়ে
আমাদের ঘরে ঘরে আমি-মেশিন চলছে
জীববিদ্যা
যতই দিন যাচ্ছে— জেনে ফেলছি সবই
ছোটবেলায় যেসব বড়দের ব্যাপার জানতাম না
বড় হওয়ার পরে তাদের সহজেই রপ্ত করে ফেলেছি
এখন জানছি বয়স্কদের জীবন
আর এইভাবে একদিন আমি মৃত্যুকেও জেনে যাব
জীবনই জীবন জানবার পথ























