চিত্রঃ দীপাঞ্জন সরকার
অরিজিৎ কুণ্ডুর ৩ কবিতা
প্রকাশিত : জুন ০৯, ২০১৯
অপেক্ষা করো
স্ট্রিট ল্যাম্পের আলো ঘিরে পাতার মর্মর ধ্বনি
হাওয়ায় ওড়ে তার আসার আগাম সংবাদ
তাকে আসতে দাও
একটু অপেক্ষা করো।
পাড়াগাঁ মফস্বলে যেমন অলস বিকেলে
পরোয়া করে না কেউ
কতটা সময় হলো অপচয় অবান্তর আলাপে
তেমনই ধীর লয়ে বয়ে যাক সময়
সে আসবেই
অপেক্ষা করো।
প্রাত্যহিক জীবনের বোঝা
সিসিফাসের মতো বয়ে নিয়ে চলো
পাথর ঠেলতে ঠেলতে
একদিন পাবেই তার দেখা
তাই অপেক্ষা করো।
জেনো সে আসবেই
ছাতিম ফুলের গন্ধে ভরা ফুটপাথে
পাশাপাশি হাঁটবে তোমার
আজ ওই রাস্তা দিয়ে একা হেঁটে যেতে
তাই ভয় পেয়ো না
বরং অপেক্ষা করো।
মা আমাদের যুগে যুগে লোভের শিকার
নদীর বুকে লুকিয়ে রয়েছে মৃত্যু
নদীর প্রাণ শুকিয়ে শুধু পলি জমা হয়
এমন তপ্ত সময়েও
সে আসবে
অপেক্ষা করো।
কেয়ামতের আগে
জ্যোৎস্নারাতে অচেনা ছাদে মসীহা নেমে আসে
সহসা কেউ আর কড়া নারে না
চেতনার অন্ধকার কুয়োয় জমাট
একগুচ্ছ স্বপ্ন, একরাশ ভয়।
শুনতে পাই
নিস্তব্ধ রাতে ঝিঁঝির একঘেয়ে ডাক
পুড়ছে পুড়ছে
আমার, তোমার, গোটা দুনিয়ার বুকে যক্ষ্মা
বেঁচে থাকা মানুষগুলো
বারবার মরে গিয়ে শ্মশানমুখী
প্রেম, আশা, আগামীর সন্তান সকলে পুড়ছে
আর দুনিয়ার বুকে খরায় শুকনো মাটিতে
কিভাবে ইশারায়
গুজবের মতো দ্রুত
ছড়িয়ে পড়ছে আগুন।
ঝলসানো চামড়া আর হাড়পাজর নিয়ে
মানুষ, আকাশ তবু থেকে যায়
থেকে যায় অথচ শুধু চলতে হবে বলে
তাদের এই অশরীরি চলাফেরা।
এত ক্লান্ত মানুষ
এত ক্লান্ত এই মাটি
ফুলের রেণুতে পরাজয়ের গন্ধ
ভুলে গেছে সকলে বদলা নিতে।
অকাল বৈশাখী
গা ছমছম করা গলিতে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে
ছেলেটা দেখেছিল
প্রেমিকার ঠোঁটে শরীরে পচন ধরে কিভাবে।
রাস্তায় সং সাজা রঙ মাখা মুখগুলো
কেমন সব গুলিয়ে যেত
একই চোখের চাহুনি
একই ঠোঁটের ইশারা
যেন বিরামহীনভাবে ক্লোন বানিয়ে চলেছে কোনও জাদুকর।
লাস্যময়ী দৃষ্টিতে
চোখ আর ঠোঁট নেড়ে
বুক আর পাছা দুলিয়ে
কোল্ড ড্রিঙ্ক বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
হঠাৎ একদিন ছেলেটা
ভিড়ের মধ্যে খুঁজে পেল ভোরের শিউলিফুল
তার আঙুলের ছোঁয়া
ঠোঁটের বাষ্প
মোটা ভুরুর তলায় উৎসাহী একজোড়া চোখ
আবার শ্বাস নিল মরচে পরা কলিজা
আবার নদী বয়ে গেল শরীরে
খরায় শুকিয়ে যাওয়া শহর দেখলো
বৃষ্টি নামছে।























