আকরাম খানের কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

জ্বালান কাজল ভাই, জ্বালায় দেন

বাইর যে হমু একটা উছিলাতো চাই
একটু বুদবুদ, একটু ফেনা, একটু ধোঁয়া
এইসব আরকি...
বাড়ির পুষ্কুণি খারাপ না
মাঝে মইধ্যে ঝড়-ঝাপটা তো চাই।

দিলের দরজা হাট কইরা খুলতে চাই।
গভারমেন্টের গুপোন ফাইলে ক্রিমিনাল কবিতা,
ডেরায় ডেরায় ১৪৪ ধারার ভুট্টিনাশ,
আৎকা হাসির দাবড়ে মহল্লার
বাইপাস ফজলু চাচার অক্কা,
মাথার স্ক্রু ঢিলা কইরা ফের কইসা টাইট,
কিতাবে পাও লাগলে সালাম না কইরা
দেমাগ দেখাই।

জ্বালান কাজল ভাই, জ্বালায় দেন!

খোয়াবের মইধ্যে ইলিয়াসে ধাওয়ায়,
তুতের তলায় আনোয়ারে টাটায়,
লুকাল ট্রেইনে খালি স্টেশনে স্টেশনে খাড়ায়।

রাঙতার বারুদে কলকির ছোবরায়
জ্বালান এলা জ্বালায়া দেনতো ভাই!

চলে যাবার পর

পা নড়ছে না, তবু তোমাকে আজ বিদায়
নিবিড় ছায়া আমার ছুঁয়ে ছুঁয়ে সরে যায়।
চারপাশে ঝরছে সূর্যের রেণু
আলোয় মুদ্রিত প্রজাপতি, লতাপাতা উড়ন্ত পাখি
ফোয়ারার জলকণায় উজ্জ্বল রংধনু।
জাদুময় এ প্রহরে কেন পড়ে দীর্ঘশ্বাস!
বেহালায় বিষণ্ণ সুর তোলে বসন্ত বাতাস।
কল্পনাপ্রবণ মন আমার তোমার চিন্তায় বিলাসী
পদ্মপাপড়ি ছিঁড়তে ছিঁড়তে ভাবছো
ওকে কি আদৌ ভালোবাসি!
গুম হয়ে গেছি আমি, তোমার থাকলো কী আর বাকি?
একলা দুপরে মুখোশহীন তোমাকে দেখাচ্ছে
কী ভীষণ একাকী!

প্রেমের কবিতা লেখার কসরত

আমার কবিতার তীরজুড়ে কেন নীল তিমির কংকাল
তপ্ত মরুতে পড়ে থাকে শুধু হাড়গোর
টেনারি থেকে ভেসে আসে নাড়িভুড়ি?
কেন কবিতায় আমার বাতাসে দোলে
কাকতাড়ুয়ার খড়কুটোয় চাপানো শতছিন্ন উর্দি?
কাদামাখা বুটজুতার কূপ থেকে উঁকি দেয় ভেজা ইঁদুর
বিকল কম্পাস হাতে দিকভ্রান্ত যোদ্ধা
ঘুরে মরে গোলকধাঁধায়,
আর কেন সকালের রোদে ঝিলিক দেয়
বল্লমে গাঁথা করোটি?

মহব্বতের একটা মখমলের মতো শায়েরি লেখার
বহুদিনের খায়েশ আমার
সাচ্চা আশিক হয়ে শখ চুমুক দেয়ার ইশকের মদিরায়।
কবি খ্যাতি কপালে জুটাতে হলে অন্তত একটা
অমর প্রেমের কবিতা নাকি ঝুলিতে থাকা চাই।
জানি, কাব্যে জোর-জবরদস্তি খাটে না
কাগজ ছিদ্র করে নিব ভেঙে যায়
নাছোড় কলম আমার একটুও নড়ে না।

সংকল্পে দৃঢ় আমি সিদ্ধান্তে অটল
ইসরাফিলের শিঙ্গা যত জোড়েই বেজে চলুক
শরাব আর সাকি চাখতে চাখতে
একটা বুলবুলির গান এবার লিখেই ছাড়বো!