আদোনিসের কবিতা

অনুবাদ: মঈনুল ইসলাম তুহিন

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৭, ২০১৯

এক্সপেরিমেন্ট

ঠিকাছে, আমি ঘুমাব না
আমি পড়ে ফেলব এইসব রাস্তা,
আর জেনে ফেলব সেইসব কথা
যা অন্যরা জানে।

ঠিকাছে, আমিও মিছিলে যাব,—
এক পা, দু পা, তিন পা...

একজন মৃতব্যক্তি, একজন পুলিশ।
একজন মৃতব্যক্তি, একজন পুলিশ।
একজন মৃতব্যক্তি, একজন পুলিশ...

আমাদের বিরুদ্ধে তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও হতে পারবে না!

এখানে আমি শব্দসিন্ধুতে বসে আছি
পত্র পল্লব উড়ে চলেছে মাথার ওপর—
অন্যদের বলে যাওয়া কথাই আমি বলছি বারবার
মনে হয়, আমার ঘুম পাচ্ছে।

কবিরা

তাদের কোনো জায়গা জমি নেই
উষ্ণ করে এই পৃথিবীর দেহ
শূন্যতা আর অবকাশের দাবি—
বানায় তারা এই পৃথিবীর চাবি।
যায় না রেখে উত্তরাধিকারী
স্মৃতির স্মারক স্বরূপ কোনো বাড়ি
সূর্য যেমন নিজের ইতিহাস
লিখছে একা,— তেমন করেই তারা
নিজের কথা নিজেই লিখে যায়
বাস্তুবিহীন... হায়!

উড়নচণ্ডী

আমাদের মাঝে কোনো দিগন্তরেখা নাই—
ভালোবাসার বৃক্ষগুলি ছিল ধূলিমলিন
রাতের অন্ধকারটানা গাড়ি
পারাপার করছিল আমার পদক্ষেপগুলি
মরুভূমির বালুকণাদের ফিরিয়ে নিচ্ছিল
নিজেদের ঠিকানায়!

আমাদের মাঝে কোনো দিগন্তরেখা নাই—
সময় ছিল নগ্নতার
আর আমার মৃত্যু ছিল আচ্ছাদিত;

বালুকণাদের উত্তরাধিকারী
জীবিকার জন্য বয়ে বেড়াচ্ছে
কালো কালো পাথর
সূর্য তার জল, তার ছায়া।

কবি পরিচিতি: সিরিয়া-লেবাননের কবি আদোনিস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্সিদিন ধরে তাঁর নাম সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীর তালিকায় ঠাঁই পেলেও, এক্ষেত্রে তার ভাগ্যের শিকে এখনো ছেঁড়েনি। মূলত আরবিতেই কবিতা লেখেন, ঐতিহ্যগত আরবি কবিতাকে আধুনিকতার দোরগোড়ায় নিয়ে আসার কাজটি নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ কবিজীবনের অনেকটা সময় ফ্রান্সে কাটানোর ফলে পশ্চিমের আধুনিক শিল্পধারাকে আত্মস্থ করতে পেরেছেন। সেইসাথে নিজের কবিতায় প্রয়োগ করেছেন সুচারুভাবে। কবিতা-অনুবাদ-সাহিত্য সমালোচনা মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি।