আবু তাহের সরফরাজের একগুচ্ছ পদ্য
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮
একলা কেন
আকাশ মেঘে যাচ্ছে ঢেকে
এই দৃশ্য খাতায় এঁকে
চাইলে তুমি
পায়ের সাথে পথের ধুলো
পায়ের হাঁটা দুঃখগুলো
আঁকলে তুমি
একলা কেন?
ঘোর ঘোর তমসায়
হাতের নিচে যদি
একটা সরু নদী
নদীর ওপর নৌকো
প্রাণভোমরার কৌটো
কৌটো খুলে সিঁদুর ভোর
দিচ্ছে উঁকি, ঘুমের ঘোর।
ঘোর ঘোর তমসায়
ঘুম যেতে মন চাই।
তুমি কী কেবলই ছবি
একটা ছবির দিকে চেয়ে বসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ
নীরবতার মধ্যে থেকে হঠাৎ গেয়ে উঠলেন,
তুমি কী কেবলই ছবি
শুধু পটে আঁকা
যে সৌন্দর্য রবীন্দ্রনাথের ভেতর আনন্দ তৈরি করেছে
তার প্রাণময় শরীর চাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ
তাকে উপভোগ করতে চাচ্ছেন
আর তাই তার স্বরে কাতরতা
আর তাই তার বুকে হাহাকার।
প্রকৃতি
ভাঁজ খুলে দিয়েছে আমাদের শরীর
দাঁড়ানোর ভঙ্গি কেবল আছে, বাকি পথ শীতের মাঠের দিকে বেঁকে গেছে
এখন হেমন্তের প্রস্তুতি, রঙের বাকসো খুলে বসেছে বালিকা
শিমুলের ডালে ডানা মেলে দিচ্ছে রোদ
পাশের বাড়ির ছাদে
জানলা দিয়ে দেখা এই তো প্রকৃতি।
কতখানি আর ধরে রাখো তুমি নিজের মতো করে!
রুপোলি পয়সা
স্বপ্নের মধ্যে হঠাৎ কিছু রুপোলি পয়সা পেয়ে গেলাম
ঘরভর্তি রোদ্দুর যখন আমাকে জাগিযে দিল, দেখলাম
রুপোলি পয়সাগুলো আমার শিথানেই রয়েছে!
নিশ্বাস নিতেই ভুলে গেলাম, তবু
নিশ্বাসে কোথাও ভেঙে যাচ্ছে দুপুরের ঘর
বাগানের স্তব্ধতা, বস্তুত
অহংকার করার মতো কিছুই নেই মানুষের।
তোমার চোখে
তোমার চোখে বৃষ্টিজল
তোমার চোখে ছলাৎছল
চোখে কীসব মায়া!
আমার চোখে সূর্য ডোবে
কে এসে এই দৃশ্য ছোঁবে?
পাতার ওপর গড়িয়ে পড়ে
এক চিলতে ছায়া।
শিশুকাল
বিকেলের মুখরতা ভেঙে ডাকে কাক
সময়ের আড় ভেঙে তবু বেঁচে থাক।
আহা, চুলগুলো ভিজে বর্ষায় ডুবে গেল!
মেঘমাসে ঘুঘু ডাকে, শুনতে সে পেল।
ঝিরঝির বৃষ্টির আজকের দিনে
দ্যাখো, উড়ছে মাতাল বোশেখ
দ্যাখো, উড়ছে শিশুকাল
ও জল, মেঘের সাথে সংসার তোমার কত দিনের?
ঘোরের পাখি
ঘোরের পাখির মতো চলো উড়ে যাই
চাঁদের ওপর দিয়ে ওই জ্যোছনায়
আকাশের গায়ে কত ঝুলতেছে গ্রহ
হঠাৎই পড়ে যদি, করে বসে দ্রোহ?
ভয় হয়, উড়ি তবু কেঁপে ওঠে ডানা
ঘোরের মধ্যে জেগে উঠতে নেই মানা।























