আবু তাহের সরফরাজের ৬ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ০৮, ২০১৯

তোমার চোখে

তোমার চোখে বৃষ্টিজল
তোমার চোখে ছলাৎছল

চোখে কীসব মায়া!

আমার চোখে সূর্য ডোবে
কে এসে এই দৃশ্য ছোঁবে?

পাতার ওপর গড়িয়ে পড়ে
এক চিলতে ছায়া।

বৃষ্টি আসবেই

শস্যের মতো প্রাচুর্য তাকে ঘিরে আছে
এই মায়া, বেঁচে থাকার এই আয়োজন
মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের এক প্রতিবেশীর মুখ
নাঙা তলোয়ারের মতো ধারালো যার ভুরু
দেখলেই চিরে যেতে থাকে বুক
                          উৎসুক
দুটো চোখ কেবল একঠাঁয় বকের মতো চেয়ে থাকে

যাত্রাপথের এই অভিজ্ঞতা আমাদের সুপ্রাচীন
হাওয়ার পালে উড়ে যাচ্ছে দিন আর রাত
উড়ে যাচ্ছে গাঙচিল, ফড়িঙের ডানা

আর কোনও প্রার্থনা নেই
বৃষ্টি তো আসবেই।

ঘোরের পাখি

ঘোরের পাখির মতো চলো উড়ে যাই
চাঁদের ওপর দিয়ে ওই জ্যোছনায়
আকাশের গায়ে কত ঝুলতেছে গ্রহ
হঠাৎই পড়ে যদি, করে বসে দ্রোহ?

ভয় হয়, উড়ি তবু কেঁপে ওঠে ডানা
ঘোরের মধ্যে জেগে উঠতে নেই মানা।

আরও কয়েকটি নিঃশ্বাসের জন্যে

বেশি তেমন কিছু নেই যা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি
ঝিরঝির বিষটি দেখতে দেখতে
একটি কবিতা লিখতে লিখতে
কেউ কেউ তো বেঁচে থাকতেই পারে   

চারদিকে মানুষের কোলাহল
ত্রস্ত নীলিমার নিচে ভেঙে পড়ে চারিত্রিক খুঁটি
                                    মানুষ হাসে
দাঁতগুলো ধারালো, আর মুখের ভেতর থেকে
ছুটে বেরিয়ে আসতে থাকে কথার বাণ

মানুষ পুলসিরাত পেরোচ্ছে
অথচ মানুষ বুঝতেও পারছে না জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানে
বাঁশের নড়বড়ে একটা সাঁকোর ওপর সে দাঁড়িয়ে আছে
অথচ দ্যাখো, কী লাফালাফিটাই না সে করছে

আরও কয়েকটি নিঃশ্বাসের জন্যে মানুষ চোখের রঙও বেচে দিচ্ছে।

গোধূলির নদী

আমাদের খুব কাছাকাছি এক নদী আছে গোধূলির
ঝিরঝির তার ঢেউগুলি আর স্নিগ্ধ দুই তীর।

গোধূলির মুখোমুখি দ্যাখা সূর্যবানের সাথে
গোধূলির মধ্যে দিয়ে সে এসে দাঁড়ালো ওইপারে
নেমে এলো পানির কাছাকাছি
আর, এইপারে আমি বসে আছি।

পানিতে সাঁতরে চলা হাঁস
ডেকে ডেকে তুলে নিল সে
এরপর হাঁসের পিছু পিছু গোধূলিরঙা মেয়েটি চলে গেল
হাঁসেরা সূর্যবানের বাড়ি নিয়ে গেল ডানায় লেগে থাকা
                                         গোধূলিরাঙা নদী
আমাদের খুব কাছাকাছি এই নদী
     আমাদের খুব ইচ্ছে হলো তাই
          নদী সাঁতরে যাওয়ার
               আমাদের নদী উত্তেজনায়
          কাঁপতেছে তিরতির
     সূর্যবান স্রোতোস্বিনী, এখন
আমার উন্নত হবে শির।

ফেনায়িত জল
নদী টলোমল
এরপর ঘুঘুর ডাক নদীতীরে একটানা।

আমাদের বাড়ি

আমাদের বাড়ি ছেলেবেলা ছিল
আমাদের বাড়ি শৈশব
আমাদের বাড়ি বয়েসী এখন
আমাদের বাড়ি নেই সব।

রোদ আর ছায়া দুই সহোদরা
আমাদের বাড়ি এসে
লুটোপুটি খেত মায়ের আঁচলে
আমাদের বুক ঘেঁষে।

পুরনো সে রোদ নতুন এখন
উত্তাপ খুবই তার
ছায়ার শরীরে নেই আর সেই
ছায়ার অলঙ্কার।