আশরাফ রোকনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৯
ঘোর
বিবমিষা হত্যা করছো প্রতিনিয়ত
কালের স্বপ্ন আর সাধের
গোলাপে ছড়িয়ে দিচ্ছো কাঁটা
ফলে ব্যথাহত আমাদের কথাগুলি
মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ সারাক্ষণ
আর তোমাকে ঘিরেই সব রূপকথা
পাথরগল্পে ক্রমশ পাচ্ছে পরিণতি
অন্ধকারে চাপা পড়ে আলো
ভূ-রেখাগুলির বিভাজনে আসা রাতে
নিমগ্ন এখানে সারাক্ষণ মনে হয়
চোখে মুখে লেগে আছো ঘোর
পদ্মবনের শিথিল সৌগন্ধের মতো
বিস্ময়ের অতল তলেই
জ্বলে ওঠা তুমি কোনো কালো প্যারাফিন!
প্রত্যাবর্তন
বাংলার সবুজ সৌগন্ধে প্রত্যাবর্তন
তোমার স্বর্ণালি অভিষেকে
সকলে তাকিয়ে তাইতো তোমার
ফিরে আসার পথের দিকে
আদিগন্ত হেঁটে আসছো যে-পথে
অমূল্য স্বাধীনতায় বুক ভ`রে নিয়ে
ফিরে আসছো তুমি হে পিতা
আজ সর্বত্রই ঢেউ খেলে বয়ে যায়
দেখো এসে আমাদের চিত্তে অসংখ্য
মুক্তির বাতাস।
পরজন্মে
পরজন্মে চেয়েছি মৎস্য হতে
হাওড়গহীনে অবারিত ভেসে ভেসে
বেভুল মৎস্যশিশু এক
তরঙ্গিত জলের মাঝে দাঁড়িয়ে আত্মহারা
খুঁজে পেতে চেয়েছি এখানে
টুকরো শ্যাওলাপানা আর
পলকবিহিন চোখ রেখেই আনন্দে
স্রোতের বিপরীতে উজান বয়ে যেতে।
ইতিহাস
ইতিহাস অপঠিত রয়েছো, পড়ি নি
অবহেলায় অনাদরে যে দিন হত্যা করেছে
আমার পিতাকে তোমার জল্লাদেরা
মুছে দিতে চেয়েছে স্মৃতিচিহ্নগুলিই
মায়ের বুকের স্নেহের ভালোবাসার
সেই থেকে কতোদিন আহা! কতোদিন
ক্ষোভ ও যন্ত্রণায়, ঘৃণা ও লজ্জায়
উল্টানো হয় নি একবার ভুলেও কখনো
একটিও পৃষ্ঠা তোমার হয় নি পাঠ
পঠিত অধ্যায়সমুহের আধেক স্মরণে আসা
মুহূর্তগুলোর অভিষেকের বাসনা তাই
পাঠ করতে চাই তোমাকে সম্পূর্ণটাই
যে তুমি স্বদেশের নির্মল প্রতিকৃতি
পতাকায় ছড়ানো লাল রক্তের প্রেরণা
সবুজের গাঢ় উন্মাদনার রঙে রঙেই
বিরল কাব্য এক রচিত সর্বত্রই
সত্যের মতো সৌন্দর্যখচিত পলে পলে
পাঠ করবো ভেবে প্রকৃত তোমাকেই
সারাটা প্রহর জুড়ে এখানে বিমুখ
খুলে ধরতে পারি নি একটিবারও
একটা হরফও তোমার এতোকাল
চোখের সন্মুখে তুলে ধরে কোনোদিন
পারি নি ছিন্ন করে দিতেই
আত্মপ্রতারণার সে বিদঘুটে জঞ্জাল
বিশ্বাস করি নি পশুদের কখনও
ছিঁড়েখুঁড়ে বিকৃত করেছে অবয়ব
তোমার যারা হে ইতিহাস
আমাদের মাঝখানে তুলে দিয়ে
বিভেদের কঠিন দেয়াল
যা করেছে বিচ্ছিন্ন শিকড়ের বন্ধন
মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নগ্নতা থেকে আজ
চেয়েছি বাঁচতে ততোদিন যতোদিন
সোনালি পাতাগুলি এখানে ভরে থাকবে
বীরের জীবনগাথায় উজ্জ্বল অমলিন
শুধু মিথ্যাগুলি ঝরে যাবে সহসাই
ঝরাপাতার মতো এখানে
লুটিয়ে পড়বে ধুলায় পায়ের নিচে
তোমার পুনরুদ্ধার ভেবে আমরাও
স্বদেশের কোলে বসে পাঠ করে নেবো
গরিয়সী ইতিহাস তোমাকেই আজি।
মুৃখচ্ছবি
দূরের আলোর মতো নিষ্প্রভ আজও
মনে পড়ে অস্পষ্ট তোমার মুখচ্ছবি
নিভৃত কুটিরের দরোজা পার হয়ে
ইচ্ছেডানায় উড়ে উড়েই একদিন
হারিয়ে গেছো যে নিরুদ্দেশে
হিরণ্ময় কোন সুখের শহরে তুমি
সময়ের সূক্ষ্ম পাখাগুলির চলার
অতি দ্রুত গতি ফেরাতে পারে নি
একটুবার তোমাকে আর
ঠিকানা হারিয়েই খুঁজছি
নিশ্চল পদে পদে এখানে
গূঢ় প্রবঞ্চনায় জানি না
কখনো ফিরে আসবে কিনা
জোছনা হারিয়ে নিঃস্ব চাঁদ
ভাবি বসে নীল স্তব্ধতায়
দিকবিদিক তাকিয়ে শূন্য শূন্যতায়
যুগ যুগ কাঙাল মূলত
ভিখিরি এই মন আমার
নিরুপম এতোটুকু তোমার ভালোবাসার।























