আশিক আকবরের ‘মা দিবসের কবিতা’

প্রকাশিত : মে ১২, ২০১৯

মা

এই পৃথিবী মাতার মুখের বিরক্তি কমানো দরকার।
রাইফেলটি ভারত সাগরে ফিক্কা মারা দরকার।
এর জন্য দায়ী,
খোদ আমেরিকার হস্তপদমাথা কেটে,
এক্কেবারে নিক্ষেপ দরকার,
প্রশান্ত জলধিতেই।
আর ভারত দেশটাকে,
ভাতের পাতিলে হাড় সিদ্ধ করা দরকার।
এর সৈন্যবাহিনী,
এর আমলা সম্প্রদায়,
এবং বুর্জোয়া ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের,
কালো জামের মতো ছেঁচে ভর্তা করা দরকার।
দরকার,
ব্রহ্মাণ্ডের সকল কালো নথিতে আগুন ধরিয়ে,
অস্ত্র কারখানা ও ধর্মালয়গুলো,
সংসদ ভবনগুলো,
যন্তর মন্তরগুলো,
আনন্দ বিনোদনশালা,
শিক্ষালয়,
উন্মুক্ত সকলের বাড়ি হওয়া দরকার,
যেখানে দিবানিশি,
চব্বিশ ঘণ্টার অঢেল গোস্ত রুটি ভাতদুধডালমাছ মিলবেই।

মা ওগো,
সন্তানের মুখে দুধ দিতেও যে পৃথিবীতে,
চিমসে স্তন রাখতে হয় সন্তানের ঠোঁটে;
কাঁধে নিতে হয় কালা বন্দুক,
ওই পৃথিবীতে লড়বো আমি,
লড়বোই,
বিজয়ী হবার পূর্বক্ষণ নাগাদ লড়বো।
পৃথিবীকে অস্ত্রমুক্ত করা নাগাদ লড়বো।
সাম্যের সুবাতাস প্রবাহিত না হওয়া নাগাদ লড়বো।
মা ও শিশুর দুধভাতদইয়ের শান্তিকে আনতেই লড়বো।

অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা

এক.
একটা লেবাস ধরা ফেরেসতা, কমেন্টকারীদের নোংরা দাঁতে কামড়াচ্ছে। ফুৎকারে কি উড়াবো তাকে?

দুই.
সিংহটি কারো মুখে মুতেছে, তার মুখে প্রস্রাব করে বললাম, খুব বেশি নোনতা লাগলে, গরম পানিতে কুলি করে আসো, কথা বলি।

তিন.
অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা, শানানো চাকু হয়ে উঠছে। বাংলার কবি ও কবিতা দুই ভাগ করে ফেলছে। এটা ভালো। এটা কাজের। শত্রুমিত্র চিহ্নিত জরুরি।

চার.
ওরা ছোক ছোক করছিল। অবরুদ্ধ শব্দটি ওদের আসতে দিচ্ছিল না। লাল বান্ধবী হাসতে হাসতে এসব বলে মঞ্চে উঠে গেছে, শে পড়ছে কবিতা,
আসবে?
আসো!
আমার রাস্তা সদর রাস্তা করে দেব। হা হা, সাহস।

পাঁচ.
ভারত দুই ভাগ। হয় মাওবাদী পক্ষ। না হয় বিপক্ষ। বাংলাদেশেও হবে । হচ্ছে। শাসকের ছায়া,
নাকি গণমানুষের মায়ার আগুন ভরা কোল?
যে কোনো দিকেই যেতে পারো হে, একটা পথ ভাগারের, একটা স্বর্গের

ছয়.
আশ্চর্য, এগুলোকেও কবিতা বলছি, প্রচল কবিতাতে এতই পচেছি?

সাত.
সুচতুর বদমাসগুলা, বানিয়েছে দাস মাছি, ব্রেইন বেচা এই বন্ধুরা আমার, মনেই করতে পারে না— অমল ধবল শিশুগুলার মতোই ওদেরও যোনি লিঙ্গ, ও অনন্ত শীতল শান্তিতে শুয়ে থাকা স্বাধীন মগজ ছিল।