কাজল শাহনেওয়াজের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯

তোমার বিন্দু

শাদা রং ক্রমে প্রিয় হয়ে উঠেছে

মিশ্র বা গাঢ় রং ছাড়া একসময় দিনগুলি আমার নড়তো না
অনেক দিন ধরে কবিতা নিয়া ভাবতে ভাবতে
আমার ভিতর রং বিষয়ক পরিবর্তন ঘটছে

জটিল কার্ভ সম্বলিত নকশার চাইতে
বড় বৃত্ত চাপের দিকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছি

বাজনার চেয়ে সুরের দিকে বেশি ঝোঁক

এখন বেশ তাড়াতাড়িই রাজনীতির
জটিল চালগুলি বুঝতে পারি

কোনটা স্বপ্ন আর কোনটা চাটাম
কেউ ব্যাখ্যা দেবার আগেই
নিজে নিজে বুঝে ফেলি

হায়রে সুদূরের দিন
তবু ধরে আছি শক্ত করে
তোমার বিন্দু, দৃঢ়, কিন্তু রঙিন

নির্বাচনের আগে

পৌষের রবিশষ্য
মাঠের পর মাঠ
আমরা গরিব মৌমাছি
এখন খাই সরিষা ফুলের মধু

শালারা একেবারে টাইট
যেখানে সেখানে গণ্ডগোল বাধাচ্ছে
আমাদের পোকারা পাগলের মতো
অজানা আতংকে ভয় পাচ্ছে

দেখা যাচ্ছে কি যাচ্ছে না ব্যক্তিগত বন্দুক
তবে টিভি আর দৈনিক পত্রিকা অনেক তৎপর

পাঁচ বছর পর আবার মধু আসছে বাক্সে
চাষিরা কত যে রসিক, বাছা
চাষ করেছে সরিষার ফুল
পদ্মের মধু নাই রে দেশে
মৌচাক হারিয়েছে
এখন বাক্স বাক্স ভরে উঠবে
অলৌকিক সন্দেশে।

বর্ষ শেষের কবিতা

জীবনে কত যে ভালবাসা পাইলাম
স্নেহপূর্ণ, আদরমাখা, শ্রদ্ধাময়
বন্ধুর ঈর্ষা মেশানো, সংসারের দায়িত্ব ও দায়িত্বহীনতার

পেলাম তো কতকিছু আপনা আপনি উড়ে আসা
অচেনা অনাত্মীয়ের পুং বা স্ত্রীলোকের
স্বতঃষ্ফূর্ত
আমোদ প্রমোদ বা আবেগমথিত ভালবাসা
পেয়েছি কয়েকবার অচেনা রসে রচিত অবর্ণিত প্রণয় বাহিনী
যাকে সভ্য সমাজে প্রেম বলা হয়

পেয়েছি ঘৃণার ছলে, ক্রোধের আবরণে
মানসিক শান্তি নাশকতার ভিতরে
অনেক গূঢ় সম্পর্ক
যাকে ঠিক ভালবাসা বলে বুঝা যায় না

আবার অদৃশ্য উত্তাপ শুধু পেয়েছি অনেক
কে যেন কোথা থেকে আমাকে অনেক শান্ত চাঁদের কাছে
নিয়ে গেছে, হালকা সুবাস এসে গভীর সাহস দিয়ে গেছে
কিছু না বলেই

বাকি সব কিছু ভুলে যেতে চাই
যা পাই নাই সেসব কথা

হতে পারে অনেক কিছু হবার ছিল,
টাকা-পয়সার রাস্তার কাছ দিয়েই ঘুরে এসেছি
ক্ষমতার সামান্য কয়েক পা দূরে থেকেই না জেনে ফিরে এসেছি
অনেক সুখশ্রী মন
আমাকে ছাড়াই অসুখী হয়েছে

কি হতো এরকম না হয়ে ওরকম হলে?
প্রথম তুমির বদলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বা চতুর্থ তুমি হলে
কী-ই বা এমন হতো?
সব বছরই তো এক একটা ডিসেম্বরের শেষ দিনে এসে থেমে যায়

তোমার মৃত্যুতো থামে না!