কামরুজ্জামান কামুর পাঁচটি কবিতা
প্রকাশিত : অক্টোবর ১৮, ২০১৯
পাতায় বসা পাখি
তোমার গান ভূবনে কেন বাজে
ওগো আমার পাতায় বসা পাখি?
ওগো আমার নিখিলধরা মাঝে
চালতাবনে ঘুঘুর ডাকাডাকি—
হেমন্তের হিমেল হাওয়া বুকের
ভিতরে এসে ধ্বনিত হয়, প্রিয়
আমাকে তুমি আরেকবার— ভ্রমে
অনন্তের আঁচলে তুলে নিয়ো—
এখানে নীল আকাশপারে— একা—
আরেকবার তোমাকে আমি ডাকি?
তোমার গান ভূবনে কেন বাজে
ওগো আমার পাতায় বসা পাখি?
ময়না
তুই পয়সার মত সুন্দর—
তোরে পেতে চাই।
তোর চকচকেতর নিকেলের
—নিচে মুগ্ধ
এই সন্ধ্যা—বেলা বরবাদ
করে দিতে চাই।
ওগো ময়না ওগো ময়না—
কেন সে রকম কিছু হয় না—
আয় মম
পৃথিবীতে ক্রিপ্টো-কয়েন
ভাঙায়ে তোমারে আমি
ইউএস ডলার দিয়া
ক্রয় করব ব্যাংককের
সমুদ্র সৈকতে—
—হাহা—
সেথা মোরা ঢলিয়া পড়িব হেসে
সূর্য যাবে অস্ত পরিশেষে—
শূন্যতার শীৎকারের মত
যে-ধ্বনি তোমার পানে ধায় মম—
আয় মম বীর্যের বিকার
তোরে আমি কিনে লয়ে
তোরে আমি চিনে লয়ে
সাংহাই টাওয়ার থেকে—
—নিচে ফেলে দেব
রণরক্তমাতম
এ কি সন্ধ্যাতারা নাকি বাংলাদেশের বুকে যুদ্ধবিমান
ধেয়ে নামছে আকাশ তবু সঙ্গতিহীন হাহা হাসছে কেন
খাটো কালচে মানুষ? দিকশূন্যবুকের নিচে অন্ধপাথর
ফেটে চূর্ণ হয়ে দূরে ছিটকে পড়ে। রণরক্তমাতম!
কামে জর্জরিতের বুকে বীর্যপতনধ্বনি আছড়ে পড়ার
মত শব্দ হলো এই দীনদুনিয়ার মধুচন্দ্রিমাতে।
যেন ক্ষিপ্ত ঘোড়ার ক্ষুরে অশ্বারোহীর নাভিচিহ্ন ছিঁড়ে
দূরে ছিটকেপড়া কোনো রক্তজবা নাকি সন্ধ্যাতারা?
নাকি বাংলাদেশের বুকে যুদ্ধবিমান এসে হামলা করে?
নাকি শেলক্ষেপণের ধোঁয়াধ্বস্ত হৃদয় ফাটে আর্তনাদে?
নাকি বংশপরম্পরাছিন্ন মাতাল হাসে মধ্যরাতের
ঘন অন্ধকারের দিনে সন্ততিদের কথা চিন্তা করে?
ভুলে জাপটে ধরেই দূরে ছিটকে পড়ি। গাইবান্ধা থেকে
এই পাংশু সিটির বুকে মাংস কাটার মত ঐতিহাসিক
ঘোড়া দাবড়ে বেড়াই। কোনো চঞ্চলতার মদে মাতোয়ারা খুন
রগে রক্তমশাল হয়ে উঠছে জ্বলে। লোহা চাটছে আগুন।
লোহা তপ্ত করার কাজে ব্যাপ্ত কামারশালা গনগনে লাল
জাগো সন্দেহাতীতভাবে সর্বহারার বুকে ঢাল-তরোয়াল
রণরক্তমাতম! এই বাংলাদেশের বুকে যুদ্ধবিমান
আমি তৈরি করি। আমি বিশ্বজিতের বুকে রামদা কোপাই!
শিয়ালডাঙ্গা
আমার একটা রাজ্য আছে
আজ তোমাকে দেখাবো
তোমার বইয়ের পাতায় তোমার
নিজের গল্প লেখাবো
শিয়ালডাঙ্গা লিখেই দেখ
ডাকবে শেয়াল হুক্কা রবে
ডুবতে গিয়ে সূর্য হঠাৎ
মোষের পিঠে সওয়ার হবে
খ্যাঁকখ্যাঁকিয়ে কাশতে গিয়ে
খ্যাকশিয়ালের ফাটলো পেট
এপার থেকেই দেখতে হবে
সামনে কিন্তু লোহার গেট
এবার লেখ, কলার ভেলা
বন্যা লিখে ভাসিয়ে দাও
ওই যে দেখ, সাদেক আসলো
তোমার ভেলায় তাকেও নাও
আমার একটা রাজ্য আছে
সেই রাজ্যের গুপ্তধন
তোমাকে আজ সব দেখাবো
উল্টানদীর কাশের বন
পার হয়ে ওই পাহাড়টাকে
ধাক্কা দিচ্ছে মেঘের দল
পাহাড় লেখ পাহাড় লেখ
বইয়ের পাতায় হে নিশ্চল
ঝর্নাধারা এমনি করে
বইছে দেখ তরতরিয়ে
কালচে মানুষ ঘোড়ায় চড়ল
গোলাবারুদ সঙ্গে নিয়ে
কে মিস্তিরি কে মিস্তিরি
লোহার ’পরে পেরেক মারে?
নাম লেখ তার নাম লেখ তার
মানুষ চড়ছে বাঘের ঘাড়ে
সেই মানুষটার নাম লেখ ভাই
বিলের ধারের জঙ্গলে
লেখামাত্রই হাট বসে যায়
শনিবার কি মঙ্গলে
আমার একটা রাজ্য আছে
আজ তোমাকে দেখাবো
আমার সকল গল্প এবার
তোমাকে দিয়ে লেখাবো























