সুফিনৃত্য, চিত্রকর্ম Jo Ellis (UK)
জুয়েল মাজহারের কবিতা ‘দিওয়ানা জিকির’
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮
এক.
আমারে পড়বো মনে, জানি তুমি, ডাকবা আমায়।
খাড়া-সোজা-উপ্তা হয়া; দিওয়ানা জিকিরে অবিরাম।
বাঁশের ঝিংলা দিয়া, জালিবেত-সুন্ধিবেত দিয়া
কানমলা দিয়া মোরে আর কত করবা প্রহার।
আমি এর প্রতিশোধ নিব ঠিক। খাল-বিল-নদীনালা বাইদ
পার হয়া চলে যাব একশো ক্রোশ দূরে একদিন।
যেন, কনফুসিয়াসের স্বপ্নে বিভোর কোনো চীনা
সারাদিন একা একা খালেবিলে কিস্তি ভাসায়;
দুই.
ডাকবা আমারে তুমি লুকায়া লুকায়া একদিন!
যেন এক ভেকশিশু হাইঞ্জাকালে কচুর বাগানে
ডর পায়া, চিল্লায়া, একলা মায়েরে তার ডাকে।
যেমতি বাদলা দিনে পাইতা মোরে হাকালুকি হাওরে হাওরে
সাড়া তবু পাইবা না।
যেন বোবা কালেঙ্গাপাহাড়!
চুপ মাইরা বইসা রবো; আর দেখব তোমার জিল্লতি।
যত জোরে ডাক পাড়ো কোনোদিন পাবা না আমায়।
লক্ষ ক্রোশ দূরে গিয়া তোমা হতে থাকব স্বাধীন!
খেলব, খেলার ছলে একা বসে তাস সারাদিন।
তিন.
আমারে খুঁজবা তুমি হবিগঞ্জে,
তেকোণা পুকুরপাড়ে,
মিরাশির মাঠে আর উমেদনগরে,
করবা তালাশ চুপে
পুরান মুন্সেফি আর বগলা বাজারে।
দুই হাত উঁচা কইরা হাঁক দিবা যেন ক্যানভাসার:
চিফ রেইট,
দুই টেকা,
হলুদি ব্যাটাটা!
চার.
বেফিকির উড়াধুড়া আমি এক ফকিন্নির পোলা
আন্ধা-কানা ঘুইরা মরি লালনীল স্মৃতির বাগানে;
চান্নি-পশর রাইতে জারুলের নিচে বেশুমার,
আবালের সর্দি যেনো সাদা-নীল ফুল ঝরে পড়ে;
পাঁচ.
মগরা নদীতে আর লাফুনিয়া-কইজুরি বিলে
তোমার নাকের মতো বেঁকা-ঘোলা জলে নাও লয়া,
মনভরা গোস্বা লয়া, পেটভরা ভুক লয়া আমি
অলম্ভূত কালা বাইদে ভাইসা রবো একলা স্বাধীন।
যেন আমি বাচ্চা এক উদ!
খিদা লাগলে উপ্তা ডুবে আচানক কালবাউস ধরে
কুশার-খেতের ভিত্রে বইসা খাব ফুর্তি লয়া মনে;
ছয়.
আসমানে লেঞ্জাহাঁস উইড়া চলে হাজারে-বিজারে
চিতলের পেটি য্যান্ কল্কলাবে সামনে ধনুগাঙ;
তার বুকে ঝাঁপ দিব, করব আমি সেখানে সিনান
সাত.
আমারে না পায়া যদি
নিজের জাগ্না চউখে মাখো তুমি নিদ্রাকুসুম,
আমি তবে পুটকিছিলা বান্দরের মতো
বসে রবো চুপচাপ
বদ্দিরাজ
গাছের
আগায়!























