নাঈমুল হাসান হিমেলের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০১৯

অতঃপর সমাপ্তি

শহর নিস্তব্ধ হবে
দেয়ালের প্রতিধ্বনিগুলোও থমকে যাবে
আড়িপাতা নিঃসঙ্গ বৃক্ষগুলো
শিরশিরে বাতাসে শাখা দোলাবে না আর।
পাখা ঝাপটাবে না কোনো কাক
মাঝরাতে কোনো বেওয়ারিশ কুকুর আর্তনাদ করবে না,
ভাসমান কোনো কুমারী মেয়ে রাস্তায় উদ্ভ্রান্ত হয়ে হাঁটবে না,
কোলের পরিচয়হীন শিশুটিও কাঁদবে না তখন।
হাসপাতালগুলোতে ময়নাতদন্তের জন্য ব্যস্ত হবে না কোনো ডোম।
কোনো মসজিদ, কোনো গির্জায় রক্তের ছোপ লেগে থাকবে না।
বিবিসি বা আল-জাজিরার স্ক্রলে কোনো ব্রেকিং নিউজ ভেসে উঠবে না।
শান্ত জলে তরঙ্গ ছড়াবে না কোনো ভূমিকম্প,
`চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার দিশা` বলে চেচিয়ে উঠবে না কোনো ভঙ্গুর প্রেমিক।
শুধু নিস্তব্ধতা, গভীর নিস্তব্ধতা
শুধু চোখ বুঝে একবার চাঁদটাকে দেখব
আর দীর্ঘশ্বাসে এক বুক সাহস নিয়ে বলব,
ভালো থেকো, বিদায় প্রিয়তমা!

কথা হোক

জীবনই আলোচিত হোক
পুনশ্চঃ হে প্রেমময় রচনায়
তবে জীবনই আলোচিত হোক
কথা হোক
মাঝদুপুরে কপাট বন্ধ করা যে প্রেম
সেই প্রেমের আলোচনা হোক
বরুণান বুকের আতরের যে সুঘ্রাণ
তার পবিত্রতা নিয়ে আলোচনা হোক
স্নানের স্নিগ্ধতায় যে রমণী উচ্ছ্বল
তার প্রেমই আলোচিত হোক
যত যাই হোক
জীবনই আলোচিত হোক।

ঘোলাটে চাঁদের আলোয় যে রমণী
জীবনের মানে বুঝেছিল
তাই আলোচিত হোক
প্রেমিকের ভয় ভয় অপেক্ষা
আলিঙ্গনের যে কামনা
চোখের যে ক্ষিপ্রতা
তাও আলোচিত হোক।
কী সুখে ঝিঁঝিরা থেমেছিল
জোনাকিরা নিভিয়েছিল আলো
বারবার তাই আলোচিত হোক।
অতঃপর প্রেমই আলোচিত হোক।

প্রত্যাশা

কাকভেজা কোনো পথ
শুরু, অতঃপর শেষ
চৌরাস্তা হয়ে শুরু
শুরুর পরে শেষ, তারপর আবার শুরু
শুরুর শেষটাই চির রহস্যময়,
হোক রহস্য, তবুও থামেনি স্রোত
সারিতে কিংবা দলছুট
বায়ে কিংবা ডানে
বায়ে ঘুরে ডানে, কিংবা ডানে ঘুরে বায়ে
তারপর সবর্স্ব হাতের মুঠোয়
ইসস! ফসকে গেল
আবার
পায়ের উপর পা ফেলে চলা
আবার অপেক্ষা, প্রতীক্ষিত অপেক্ষা
উসখুস করছে চুলগুলো
ডান মস্তিষ্ক যেন নড়ে উঠল
ভীষণ তাড়া দিচ্ছে
এইতো এইতো আসছে
আসতে যে হবেই
একাল সেকাল নয়তো পরকাল,
তারপর?
তুমি সাক্ষী হে মহাকাল
নির্মম পথ যদি শেষ
যদি রক্তাভ আলো নিভে যায়
পথের ভেতর পথ যদি না হারায়
রহস্য যদি আয়নার মতো স্বচ্ছ হয়
যদি সত্যি হয়
মিথ্যের ভেতর মিথ্যেটা যদি
শূন্য না হয়, তবে
তবে তাই হোক হে পরমেশ্বর
যা লিখেছ যেন তাই হয়।