নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশদাতা গ্রেফতার

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল হক ওরফে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশদাতা আব্দল লতিফকে (৩৫) পুলিশ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব এ তথ্য জানান।

শরীফ আল রাজীব বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার আসামি অপু কাজীর বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এই লতিফ হুজুরের বিষয় তথ্য পাওয়া গেছে যে, তার নির্দেশেই কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “লতিফ মোল্লা নুরা পাগলের বাড়ি ও দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ, চুরি, জখম, হত্যা ও কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পোড়ানো মামলার আসামি। এই মামলায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

গ্রেফতার আব্দুল লতিফ মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় ঠাকুরকান্দির মাওলানা বাহাউদ্দিনের ছেলে। এছাড়া এই মামলায় অভি মণ্ডল রন্জু (২৯) নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গোয়ালন্দের আলম চৌধুরী পাড়ার বিল্লাল মন্ডলের ছেলে।

সোমবার দিবাগত রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নুরা পাগলার ভক্ত নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরাল পাগলার কবর উঁচু থেকে নিচু করাসহ বিভিন্ন দাবিতে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে একদল মানুষ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ফকির মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়।  বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারের দিকে যেতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি গাড়ি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। সেই সঙ্গে ৫ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের ২ জনকে পিটিয়ে ও ঢিল ছুঁড়ে আহত করে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা করে নুরাল পাগলার বাড়ি ও দরবারের গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে হামলা, ভবন ও দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে জনতা নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে রাতেই ফরিদপুরে কলেজ হাসপাতালে নুরাল পাগলার ভক্ত রাসেল মোল্লা (২৮) নামের এক ব্যাক্তি নিহত হন। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের আজাদ মোল্লার ছেলে।

উল্লেখ্য, ২৩ আগস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোয়ালন্দ পাক দরবারের বিতর্কিত পীর নুরাল হক নুরা পাগল। তার মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফের ভেতরে কাবা শরিফের আদলে রং করা মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু বেদিতে দাফন করা হয়। এরপর থেকে কবর নিচু, রঙ পরিবর্তন ও ঈমাম মেহেদি দরবার শরিফ লেখা সাইনবোর্ড অপসারণের দাবি করে শুক্রবার জুম্মা বাদ বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় জেলা ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি।