পদ্মর ৬ কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০১৯
রিকশাওয়ালা
সারা গায়ে বমি আসা ছোটলোকের গন্ধ
নির্লজ্জ ভাড়া হাঁকা
হাঁটুর উপর লুঙি তোলা অসভ্য
গেঁয়ো মূর্খ জানোয়ার
পৃষ্ঠদেশে কষে লাথি মারার ইচ্ছা
নগরীর অশ্লীল কলঙ্ক
ব্যস, আর বলবেন না
এবার বাড়ি যান
—এই রিকশা
আবার রিকশা কেন?
—বাহ্ বাড়িতে যেতে হবে না!
টমাস সাহেব
টমাস সাহেব একা
একদিন এসেছিল তবে
দড়িয়াবান্ধার ঘাটে
পাল তুলে পতাকা উড়ায়ে
অমায়িক প্রাণোজ্জ্বল্য প্রভা
তবু এক দাস ব্যবসায়ী সে তো ছিল
তার কেনা গোলামেরা আজ
আণ্ডাবাচ্চা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ভেসে যেতে চায়—
হায়! পানির পৃথিবী শুধু বড়
সেইখানে আলাদা জীবন
নিজস্ব নানা রকম রীতি
টমাস সাহেবের মতন।
টাইম মেশিন ৪
দূরে দূরে থাকাটাই ভুল
রাতের পাহাড় থেকে ডাক দিয়ে কে যায়?
আমি তারে দেখি নাই আজও!
পাখিগুলি ঝাঁকে ঝাঁকে চলে গেছে শেষবার, বালুঘরে ছানাগুলো রেখে
এখনো সময় বাকি, বাচ্চাগুলো রাস্তায় ‘মা, মা’ করে ছুটে আসছে
কোনো সিগনাল মানছে না তারা, লাইসেন্সও নাই তাদের কোনো
সরাসরি তাক করে দৃষ্টি,
ড্রাইভ দিচ্ছে...
টাইম মেশিন ৫
এখন পোনে-পাঁচটা বাজে
সরকারি হিসাব মতে দুই এক মিনিট কম বেশিও হতে পারে
কিন্তু ওই হিসাবটা কেউ তেমন শিওর না
রাস্তার মাঝখানে সার্কাস পার্টিরা কসরত দেখাচ্ছে
লাফঝাপ নৃত্য; মানুষেরও ব্যাবাক ভিড়
কেউ কেউ কলা খাওয়াচ্ছে বানরকে
বাসের জানলা থেকে বাদাম ছুঁড়ে মারছে,
মানুষ আর মানুষ
ডাবলডেকার বাসগুলো অফ রুটে ঢুকে
তার-মার ছিঁড়ে বিদ্যুতের পোল উপড়ায়ে ফেলছে
আর কেউ কেউ জ্যাম দেখে—
সিনেমা হলে ঢুকে সেই কখন থেকে বসে আসে
কিন্তু কারেন্ট নাই
যাদের হাতপাখা ছিল না তারা হাঁটা দিল
কেউ কেউ বাস থেকে নেমে
রাস্তার ওইপাড়ে গেল
হেলপার বলে,
‘ওস্তাদ ডাইনে কাটেন ওইদিকে একটা গলি আছে’
ফাঁকা বাস,
একজন প্যাসেঞ্জারও আর বাকি নাই
কন্ডাক্টরটা যে কই?
কাক তালি ও তালগাছ
স্যাটেলাইট তখনো সিগনাল পাঠাচ্ছিল
আর আমরা বসেছিলাম মাঠের মাঝখানে
হঠাৎ কন্সট্রাকশন-অলা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল
তার পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন নাকি এখানেই ছিল!
আমি বললাম, ‘ভাই আমরা কী জানি? ওই পূর্ত ভবনরে জিগান,
আর ওদের নাম্বারও তো আমাদের কাছে নাই!’
সে বলে, ‘না! আমার ছোট শালা এমপি,
এখনি আমি ব্যাচেলারদের বাড়ি থেকে বের করে দিব।‘
ওইদিকে নিমের পাতা ঠিকই নড়ছিল
বাতাস আসছিল সমুদ্র থেকে
বর্ষার নদীরাও জমজমাট
ভেজা কাপড় আর শুকাচ্ছে না
তোমার সাথেও দেখা হচ্ছে না।
ভ্রাম্যমান মাতাল ১
ও আমার রাতের ড্রাইভার
আমারে তুমি নিয়ে যাও
জীবনের মানচিত্র দেখাও
আধোঘুম ভেঙে দাও
আধোবোল ছুঁড়ে দাও
লেপটে দাও হুন্ডার চাকায়
পদার্থের পারুল চোখে
তারাদের হিলিয়াম গ্যাসে ছুঁড়ে দাও
পৌরসভার ট্রাক থেকে তুলে নাও
আমারে তুমি চুলের ব্যান্ড করে বেঁধে নাও চুলে।























