পলিয়ার ওয়াহিদের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : আগস্ট ২২, ২০১৯

ইদানীং

আজকাল মুদি-দোকানিকে দেখলে— মনে হয়
কেউ তাকে হাসতে নিষেধ করেছে
বাবার শালের মতো অন্ধকার নেমে আসে
বাঁশঝাড়কে মনে হয় রকেটের বন্দর—
কাগজিলেবুর বাতাসে ইদানীং লাশের গন্ধ
রাত্রির নদীতে খুচরো পয়সা ফেলার মতো শব্দ
নিজেকে উৎসর্গ করে যায়— মন মুসাফির!
সব নদীর শরীরে যৈবন ধরে রাখে
দুঃখি মানুষের চোখের ময়লা।

লাল মোরগের আজান

পানের বরজে দেখ— ফোঁটা ফোঁটা
ঠিক যেন— তোমার স্তনের বোঁটা
থেকে ঘাম ঝরে পড়ে
পাটখেতে কার যেন ফিসফাস— নড়েচড়ে
তুমুল চুমুর ঢেউ
ভয়ে ভয়ে থাকে— দেখে ফেলে নাকি কেউ?
পায়জামার ফিতে মুখে দাঁড়ায়ে খাদিজার গাল
থরথর করে কাঁপছে— মধুর ছা’বাল

যেভাবে পাখিরা শিখে নেয় যৌন সাঁতার
মাগরিবের আজান হলো— নামাজে লম্বা কাতার
জানালা দিয়ে নতুন বউ শোনে লাল মোরগের চিৎকার
সন্ধে-পুকুরের জলে হাঁসগুলো পাড়ে শীৎকার

মাতৃভূমির স্তনের বোঁটার মতো নুয়ে আছে জরা
মটর দানার মতো তার চোখে নেমে আসে ধরা

ইতিহাসের ঘুঘু

কাক ঘুম ভাঙিয়ে দেয়
কোকিল দেয় ঘুম পাড়িয়ে
পৃথিবীর শেষ পাখি আমি
এই তো গেলাম ছাড়িয়ে।

ন্যায় বলে হয় কিছু?
তবু যদি উমরের কালে যাই হারিয়ে
এক কাঁধে ময়দার জাহাজ
আরেক কাঁধে পৃথিবীর জঞ্জাল মাড়িয়ে

লোকালয়ে কান্না, বেদনার ভাষা
এ দুনিয়া শিখিয়েছে খুব চাড়িয়ে
কখনো সুখে ছিল এ জগৎ?
দয়ালু মানুষ শুধু নিজেকে গেছে নাড়িয়ে!

পৃথিবী কই আর গেল?
যায়নি তো একটুও বাড়িয়ে
সেই ভয় সেই ক্ষুধা
এখনো দরজায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে।

সুর

কত রক্ত হলে লবণ
গানের ভাষায় জন্মে অস্থি
কত স্বপ্ন হলে বপন
সুরে ডাকে দারুণ স্বস্তি

শঙ্খচূড়ের প্রতি

শোকের অন্তরে শক্তির লাগাম দে
পানির বদলে তোকে আর কিছু দেবার নেই
মানুষ জেনে গেছে সে আর ফিরবে না
তবু কত আকুতি নিয়ে তারা ফিরতে চায়
সবুজ পাতার নিচে বিশ্রামে তারা ভুলে যায় হলুদ হাসি
আমাদের প্রস্তুতি তুষারের মতো চুরচুর,
গলে পড়ছে সময় ঘড়ির ভেতর থেকে
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবার ক্ষমতা অর্জন করতে হলে
খুব দূর থেকে জীবনের চোখে তাকিয়ে থাকতে হবে
রাঙা সূর্যের নিচে মানুষ এত মর্মহত কেন?

মানুষ নিজের ক্ষতিসাধন ছাড়া
গতিসাধনে আর কতদূর গেল?
মানুষ তো ক্রমেই নিজেকে নিজের কাছে হারালো!

কবি পরিচিতি: ১৯৮৬ সালের ২০ মে যশোর জেলার কেশবপুরে জন্ম। পিতা, গোলাম মোস্তফা সরদার। মা, ছাবিয়া বেগম। ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে এমএসসি মাস্টার্স। প্রকাশিত বই ৫টি (কবিতা)। পৃথিবী পাপের পালকি- ২০১৫, সিন্ধ ধানের ওম- ২০১৬, হাওয়া আবৃত্তি- ২০১৬, মানুষ হবো আগে- ২০১৭ এবং সময়গুলো ঘুমন্ত সিংহের- ২০১৮।