অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন
পাপিয়া জেরীনের প্রেমের ৪ কবিতা
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮
শঙ্খমালা
একবার আমারে তুইলা নিও নায়েতে তোমার
গতরে তোমার ছাইড়া দেব দুধরাজ সাপ,
সোহাগী আলতায় ভাসায়া দেব চিকন ধুতি।
পাটা-মোছা ভাত তুইলা দেব মুখেতে, সোনা!
বাম পাশেতে লাগায়ে দেব কাঞ্চন শিঙা
আহ্ নাগর! নতুন নাওয়ে বিছায়া দেব শ্যাওলা সূতা।
চান্দে চান্দে রসের বেদন—
তুইলা নেবো কাঁকিলা দাঁতে,
বিষ নামায়া নীল হবো এই শঙ্খমালা।
রাইখো তারে বুকের ভেতর
লোমে লোমে ঘইষা দিও ওমের আরাম
কইও কানে... শিঙ্গা লাগাও! শিঙ্গা লাগাও!
ঘাত
গহন অরণ্যে চারটি তরুকোটর,
একটি সুঠাম অর্জুনগাছ উদ্ধত পুরুষের মতো পথরোধ করে আছে—
তার ঊরু থেকে সমস্ত যৌবন চৌচির
আরো দূরে শাখারা মেলে রেখেছে যোনিফুল;
কেবল যদি আত্মঘাতী হতেই এ পথে আসা তবে এইসব দৃশ্যরা বেঁধে রাখে কেন?
মৃত্যুমুখে একটি বিকেল দ্বিধার
ঝরাপাতায় রোদ, ছায়া কুহক
তারা উড়ে যায় পাখার পথে
যেন প্রজাপতি বেঁচেছিল মৃত্যুর আগে একবার।
আত্মঘাতী হতেই এ পথে আসা
তবু দেখি পথরোধ করে আছো, ঊরু থেকে সমস্ত যৌবন চৌচির;
অথচ
খুচরো পয়সার মতো ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়, যৌনতা
ফুরিয়ে যাচ্ছি উদ্বায়ী কর্পুরের মতো ঘ্রাণসমেত!
অসুখ
মেয়েটার দোষ নেই কোনো
শিশুদের মুখে চুমু খায়
ছাদে যায়, কাপড় শুকায়
চায়ে চুমুক দিতে দিতে বরের কথা ভাবে
চুল বাঁধে, রোদে চুল ছাড়ে
চুলোয় রান্না হুলোর কান্না
সব ঠিকঠাক
কোনো দোষ নেই
তবু তোমার মুখের দিকে তাকালে
তারে বেশ্যার মতো লাগে।
মেয়েদের দোষ নেই কোনো
ওরা প্রেমিকের পাশে
গা ঘেঁষে হাতে হাত
গাছ দেখে পাতা দেখে
তুলে নেয় ঝরে পড়া ফুল
চোখে ঢেউ নিয়ে নদী দেখে
তবু তোমার মুখের দিকে যদি একবার...
তারে বেশ্যার মতো লাগে।
মেয়েদের দোষ কই!
ওরা ফুল, ফুলের মতো
ঢলে পড়ে,
কত রং-রাগ-সুরে
যায় আসে হাসে
বিন্দু বিন্দু জ্বলে শিশিরের মতো
নথ নাক ঘাম
বাতাসে উড়ে আসা ঘ্রাণ
পিদিমের মতো বাঁকা নাভি নীল
আনমনা,
তবু, তুমি ওদের দিকে ফিরে তাকালে—
বেশ্যার মতো লাগে।
প্রিয়তমেষু
তোমারে পাওয়া যাবে না কস্মিনকালেও
তাই এ জীবনে যা সম্ভবপর... তাই নিয়েছি,
যা আসে বা চলে যায়... তা ঈশ্বরের ইচ্ছায় জেনে
সহজে বেঁচে থাকি, খাদ্য হয়ে।
তুমি ধরে নিতে পারো—
তুমি আমাকে যা ভেবেছিলে আর আমি
এ দুয়ে আজ কোনো বিভেদ নেই;
শুনেছি, আমাকে ভুলে যেতে
কত কিছু করেছো রাত জেগে,
অংকেও গড়বড় করছো আজকাল!
দিনে তিন কাপ এখন ছ`কাপে
বিড়ির সংখ্যাও ষোলো!
আমি তোমারে মনে রাখিনি
ভুলেও থাকিনি কোনো একদিন—
নিঃশ্বাস গুনে গুনে এ জীবনে কে বাঁচে বলো!























