প্রত্যয় সরকারের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ২৯, ২০১৯
ষড়ৈশ্বর্য
হালকা সুগন্ধে অহরহ স্পন্দিত হচ্ছে ফুসফুস
অহরহ দীর্ঘশ্বাস
শীত নাকি মৃদু বাতাস নাকি ভ্যাপসা উষ্ণ?
নাকি নাতিশীতোষ্ণ?
শ্বাসনালিতে মাদকের নেশাগ্রস্ত গন্ধ জেঁকে বসেছে।
ষড়ৈশ্বর্যের দিগন্ত মুক্ত প্রান্তর
প্রান্তরের একমাত্র অভিবাসী আমি
যেন আমি দিগন্তের প্রথম ব্যক্তি
সমুদ্রের নোনাজলে ডুবসাঁতার
কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় আরোহনে আমার অধিকার
আমি উপভোগ করতে চাই একাকিত্ব
কিংবা ফসলের স্তনের বোঁটা হতে ঝরে পড়া শিশির
নাহ! আমি একা না। ধরো, দিগন্ত আমার সহধর্মিনী
নাহ! সে আমার দিগন্ত নয়, হয়তো সে বন্ধ্যা
আরেহ নাহ্! সে আমার কবিতা লেখার দখিনের বারান্দা।
হিজিবিজি ভাবনা
জং ধরা মাস্তুলে পূর্ণ ডালি ফুলে
করুণ নয়নে শয্যা শয়নে
আঁখি করে ছলছল
শ্যাওলা পড়া ঘাটে পথিক বসে হাটে
সন্ধ্যাবেলায় কাটে হেলায়
দিঘির জল টলমল
কবির কাব্য কী যে ভাবব
একই কথা? চাঁদের বুড়ির সূতা
তবু স্রোতে কলকল
হায়রে নদী
চললি কোথা
ঠিকানা পেতাম যদি
হায়রে আমার নদী
দেখতে যেতাম
ছন্দ পেতাম
আবার হতাম কবি
হাসতি তবে? বীভৎস সে?
দেখ না ভালো করে
আমার হাতের ছবি
দেখ না তবে খুটিয়ে
বাঁকা করে তুলেছি তোকে
ফুলের মতো ফুটিয়ে
সে পত্র
সে পত্র রবীন্দ্রনাথের কবিতার থেকেও কাব্যিক
সে পত্র লাল গরুটার দুধের থেকেও ঘন
সে পত্র ভোরের শিশির থেকেও বিশুদ্ধ
সে পত্র আমের নতুন মুকুলের থেকেও নতুন
সে পত্র পৃথিবীর সবথেকে পুরুনো লেখা থেকেও পুরানো
সে পত্র শিশুর অমল তুলতুলে গালের থেকেও তুলতুলে
সে পত্র রক্তপদ্ম থেকেও রক্তাক্ত
সে পত্র কিশোরীর নতুন চোখের ঝিলিকের থেকেও শুদ্ধ
সে পত্র কিশোরীর উড়ন্ত বেণীর থেকেও উড়ন্ত
সে পত্র খরগোসে খাওয়া ঘাসের কচি ডগা থেকেও কচি
সে পত্র লাঙল চালানো কৃষাণের হাতের থেকেও শক্ত
সে পত্র বাঙলা ভাষা থেকেও অজর, অমর
সে পত্র প্রেয়সীর অভিমানে ফুলে ওঠা চোখ ও ঠোঁটের থেকেও বেদনাদায়ক
সে পত্র গোলাপের থেকেও রাজকীয় কচুরিফুলের নীলচে আভার মতো
সে পত্র বন্ধুত্বের থেকেও গাঢ় এক সম্পর্কে গাঁথা
সে পত্র বেঁধে দেয় কত হিংসা বিদ্বেষ
সে পত্র লুকিয়ে রাখে আমার ভেতরের আবেগি গতিধারাকে
সে পত্র আকাশের থেকেও বিশালতাকে ধারণ করে নেয় নিজ মধ্যে
সে পত্র সুভাষিত করে রজনীগন্ধার মতো ফুলকে
সে পত্র তাকিয়ে থাকে সূর্যমুখীর মতো তোমার দিকে
সে পত্র বাঁধ ভেঙে দেয় সমস্ত কান্নার যখন সূর্যাস্ত নামে
তবে সে পত্র অতসীর শৌর্যতাকে পরাস্ত করতে পারে না
সে পত্রে অতসীর হলদে ছোয়াঁয় আমার বর্ণান্ধতা জন্মে
তার অভিমানী চোখ, ঠোঁট ফুলানো আধো শিশির ধৌত পাপড়ি
মাটিতে পড়তেই সৃষ্টির দর্শী মাটিও পরাস্ত হয়ে যায়
এই একটা দুর্বলতাই আমার পত্রের
স্বীকার করে নিয়েছে আমার দুর্বলতা
তবুও...
আর কত অভিধায় ভূষিত করব নিজে নিজে আমার এই পত্রকে!
তোমার কাছে লেখা এ পত্র নদীর জলজ উদ্ভিদের মতো
আসে আর যায়, আসে আর যায়, ক্রমধারায় স্রোতস্বিনী
তবে আমার কাছে তা স্বর্গের থেকেও স্বর্গীয়
অমৃত শক্তি থেকেও শক্তিশালী...
ছল
পাখিটার আবাসভূমি ওই অশ্বত্থের মগ ডালটায়
নেই কোনো চিন্তা, বিপরীত দিকে বসার ডালটা
কিছুটা ফাটলযুক্ত, ভিতরটা ফাঁকা মুক্ত
কুণ্ডলিনীচক্রের মতে এই শূন্যতাই সব
বৈরাগ্যই সব, তবে আমি জানি এই বাক্য
বোধির বাণীর অধিষ্ঠাতা স্বয়ং মহা শাক্য
মুক্ততা, শূন্যতা, ফাঁপাই সৃষ্টি, মহাকাল, সময়
তবে সব থেকে মুক্ত, ওই ফাঁপা ডালটায়
মাঝে মাঝে বেড়াতে আসা বনলতা সেনটা
উদার ছন্দে, নৃত্যতালে মুগ্ধ নটরাজ
মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকা ধর্মীয় পাখি বাজ...
রব রব ওঠে ওঠে যুদ্ধের সাজ সাজ
জানি বনলতা আর ওই পাখিটার দল দুর্বল
জিতে যাবে শূন্যতা ওই মহা শক্তি ছল























