বিজয়ের ছড়া

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮

তৌহিদুর রহমান

একটি পতাকা

এইতো দেখো জানলা দিয়ে যাচ্ছে দেখা ওই
লাল সবুজের একটা কাপড় উড়ছে অজান্তেই।
ঝড় লেগেছে, রোদ পড়েছে কাপড়টুকু বেয়ে
তবুও দেখো দুলছে কাপড় হাসছে কেমন চেয়ে।
চারদিকে তার ভীষণ সবুজ, যেমন সবুজ ঘাস
মাঝখানেতে দুঃখ নিয়ে রক্তে রঙিন লাশ।
আর আছে তার স্নিগ্ধ ছায়া ক্লান্ত রোদের পর
স্বাধীন হয়ে বাঁচতে শেখার চরম অহংকার।
জানলা দিয়ে তাকিয়ে তুমি দেখো আরেকবার
ওই তো কেমন উড়ছে স্বাধীন পতাকা আমার।

তাসনিয়া আহমেদ

বিজয়ের দিন

বাংলাদেশে পাক-শাসনের আসন যেদিন টলে
সেদিনটাকে আজকে সবাই `বিজয় দিবস` বলে।
বিজয় কিন্তু অনেক দামি, সহজলভ্য নয়
মুক্তিসেনা বিজয় আনে জয় করে সব ভয়।
লাল সবুজের পতাকাটার আজকে খুঁটি শক্ত
আনতে সেটা বীর সেনারা দিয়েছিল রক্ত।
বাংলা মায়ের বীর ছেলেরা ভয় পায় না মোটে।
তাদের ত্যাগে মোদের মুখে বিজয় স্লোগান ফোটে।
বিজয় দিবস রক্তে ধোয়া, বীর শহিদের স্মৃতি
বিজয় নিয়েই আজকে লেখা, কবিতা আর গীতি।
বিজয় মাখা ফুল ও পাতায়, বিজয় সবুজ ঘাসে
বছর ঘুরে এদিন যেন বারেবারে আসে।


মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

প্রাণের দেশ

একটি প্রাণের দেশ আমার
এক টুকরো হিরে
স্বর্গ ফিরে পাইরে ও মা
যখন ফিরি নীড়ে।

তোর হাসিটা রাখতে ধরে
দিলেন যারা প্রাণ
মনেপ্রাণে গাইবো সদা
তাদের জয়গান।

মাশায়েখ হাসান

বিজয় দিবস

৭১`এ এই দেশেতে হানাদার হানা দেয়
দেশকে স্বাধীন করতে বাঙালি অস্ত্র তুলে নেয়।
৭১`এর এই দিনেতে হয় সীমাহীন যুদ্ধ
যার কাহিনি শুনলে মোদের শ্বাস হয়ে যায় রুদ্ধ।
৩০ লক্ষ শহিদ আর মা-বোনের বিনিময়
স্বাধীন বাংলাদেশের ঘটে উদার অভ্যুদয়।

জনি হোসেন

পাগলি মা`টা

ফিরে এলো বিজয় দিবস
নেইতো খোকা ঘরে
সেই যে গেল আর এলো না
যুদ্ধে একাত্তুরে।
স্বপ্ন বোনে পাগলি মা`টা
ফিরবে খোকা কবে
ফুলের মালা গলায় দেবে
ফুল ঝরে যায় টবে!

ছেলে আসবে, আসবে ছেলে
পাগলি মা`টা চ্যাঁচায়,
পাগলি মা`টা রুক্ষ-সুক্ষ
যত্ন নিতে কে চায়!

প্রতিবারে বছর শেষে
বিজয় যখন আসে
ছেলে হারা পাগলি মা`টা
দাঁত খিঁচিয়ে হাসে।