মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : আগস্ট ২১, ২০২৫

অফিস পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (ডিএনআই) কর্মীসংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।

গ্যাবার্ড বলেন, “দুই দশকে সংস্থাটি প্রয়োজনের চেয়ে বড় ও অকার্যকর হয়ে উঠেছে। কর্মীসংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা। এজন্য এর বার্ষিক বাজেট ৭০০ মিলিয়ন ডলার কমানো হবে। এভাবে সংস্থাটিতে নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন ও সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালনে সক্ষম করা হবে।”

এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান ও সাবেক ৩৭ মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) বাতিল করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করতে গ্যাবার্ড বেশ কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের নির্দেশে নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যকে রাজনৈতিক স্বার্থ বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন গ্যাবার্ড। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি গ্যাবার্ড।

এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামা প্রশাসনের অধীনে কাজ করা বেশ কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা সহকারী।

নিরাপত্তা ছাড়পত্রের মাধ্যমে সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের অ্যাক্সেস পাওয়া যায়। কিছু সাবেক কর্মকর্তা তাদের উত্তরসূরীদের পরামর্শ দিতে এ ছাড়পত্র বজায় রাখেন। আবার প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের কিছু বেসরকারি চাকরিতেও নিয়োগের শর্ত হিসেবে এই ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক।

তবে ওই ৩৭ জনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এখনো সক্রিয় কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

গ্যাবার্ড বলেন, “ট্রাম্প এই নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও বিকৃত করে জনগণের আস্থা নষ্ট করেছেন, অনুমতি ছাড়া গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রমের মানদণ্ড গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গ্যাবার্ড লেখেন, “নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষ সুবিধা। গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের যারা সংবিধানের প্রতি নেওয়া শপথ ভঙ্গ করে নিজেদের স্বার্থকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন, তারা সেই পবিত্র আস্থা ভেঙেছেন, যা রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন।” সূত্র: বিবিসি