রোজেন হাসানের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : মে ২১, ২০১৯

স্থিরতার যাদুবিদ্যা

সুদূর এক পুকুরঘাটে সুরের প্রভাবে
অপর এক আমিত্ব বসে আছে
হাওয়া তার আত্মার অভেদ্য বয়সের
চারপাশে চক্রাকারে ঘোরে।
তার গান সেই পুকুরকে
এক প্রকৃত জলের নারীত্বে উন্নীত করে
সেই নারীর লবণে ডোবা চোখ
এই আমিত্বকে মেঘে ডুবিয়ে রেখেছে একা
তার পিতৃত্বের অপেক্ষায়
যেন তার এই পুকুরের জলে
জন্ম হয়েছিল জলের জন্মেরও আগে।

পাথরের স্তন

পাথরের স্তনের ওপর যখন বাতাস
তার বর্ণহীন ছাপ রেখে যায়
আমি সেই ভাস্করের কথা ভেবেছি
নারীত্বে উন্নীত তার চোখের দর্শন
তাকে নিয়ে গিয়েছিল সেইসব পথে
খরগোশেরা যেখানে অন্তহীনতায়
সবুজ ঘাসের ওপর লাফায়।

আর তবু মেঘ নেমে আসে
এই বিশাল বিশাল
স্তনের সূচালো অগ্রভাগে
পাথর-ভূমিকা ঘিরে ধরে আমাদের।

স্তব্ধতায়

সবুজ স্তব্ধ বাতাস জড়ানো দৃশ্যে
বিকাল আর ধূসর মেঘে ডোবা

দৃশ্য-জল বাঁক নেয়া অপার
সময় ভেদ করে যাওয়া ইনকাদের
কোমারী রাণীর প্রতি এক মিনিট
স্থির হওয়া এই দিনে

আমি আবিষ্কার করব স্বপ্ন-পেন্ডুলাম
গাছ আর রূপ বদল করতে থাকা শরীরের ভেতর
সেই রাণীর হৃদয়ের ছায়া।

প্রস্রবণ

দুধের প্রস্রবণে আমি দুধ
পাথর-রহস্য ছেটে সাদা চূড়া
কাঠের মন্দিরে ডাকে—
এক সাদা ওক
দুধের প্রস্রবণে
ভোর মিশে যায়—
বনগাইয়ের অপ্রাকৃত নামে।

এই রাত, সাভার

এই রাত
ইংরেজি হরফে তার বাক্যালাপ চালিয়ে যাচ্ছে
এই রাত
বলছে শীত আফ্রিকা থেকে ফ্রিজবন্দি হয়ে
এ্যামেরিকায় এসেছে
এখন পৃথিবীর পথে পথে তুষার।
এই রাত
শ্যাওলার মতো আয়নার সামনে
বসেছিল, সেদিন
তার হাতভর্তি হারিয়ে যাওয়া ধানঅভিধান।
সাভার
সাভারে শ্রমিক, সর্ববিলীন অক্সিজেনহীন
বাতিঘরের মতো
সর্ববিজিতদের
এই রাত
পেরিয়ে এসেছে স্বপ্নসাভার
তার চোখে ঘুম ভীষণ গুমখুন।
এই রাত
কোথায় যাবে তুমি রাত?
শ্যাওলার থেকে জন্ম নিয়েছিলে তুমি
তোমার শরীর ছিল পদ্মার
ইলিশের মতো। মিশরের
জ্ঞানদায়িনী শহীদিনীর আর
এ্যামেরিকার চর্মব্যবসায়ীর
ওপর সমানভারে ছিল নত কালো স্তন তোমার
ও রাত
কবরের ওপর প্রায়জোয়ান যৌনকাতর গাছ
তোমার
অন্ধকার, লিখিত
মৃত্যু আর কবিতা।
গ্যাসের প্রবাল আর স্বপ্ন, স্কাইস্ক্র্যাপার
থেকে প্রতারিত আর
উৎসর্গিত
অজস্র এলিজি
এই রাত
ইংরেজি হরফে হ্যোয়ার হেভ অল দ্য
ফাকারস গন
চালিয়ে যাও
গো রাত মৃত্যু আর
গ্যাসের প্রবাল, আর কবিতা।