লুনা আহমেদের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৬, ২০১৯
একাকিত্বের গল্প
কোনোদিন মুখোমুখি দেখা হবে না আমাদের
অদেখা মুখচ্ছবি তবুও বুকপকেটে নিয়ে
পৃথিবীর সকল জনাকীর্ণ সড়ক অতিক্রম করে আসি ধীরে ধীরে
সড়ক বাতির আবছা আলো আর রাতের নিবিড়তায় জড়ানো আমাদের প্রেম
পাশাপাশি হাঁটাও হবে না কোনোদিন
অথচ সাথে নিয়েই হেঁটে চলেছি সহস্রবছর, সহস্র পথ
হয়তো যুগল হাঁটা হয়নি— মাড়ানো হয়নি ধুলোময় শহরের
ব্যস্ত অলিগলি কিংবা ঘাসের শিশিরে
তবুও তো আমাদের প্রেম হেঁটে বেড়াচ্ছে সমস্ত শরীর
প্রতিটি লোমকূপ থেকেও ভেসে আসে হাঁটার শব্দময় গন্ধ।
সড়কভর্তি অজস্র যান— যানবাহন ভর্তি মানুষ
সড়ক অতিক্রম করে চলছে নিয়মিত
সড়ক তবুও একা পড়ে থাকে, সড়কবাতির মতন সেও
খুব একা একা জ্বলে।
খদ্দের
শরীর চিনিস মাগী, মন চিনিস না
মন কি দিস যে পাব?
আমিও তো চাই গতরে গতর লাগাই
মনটা ছোঁবো।
চুপ যা বেশ্যা, টাকাই চিনিস তুই
আরকি বুঝিস?
টাকা ছাড়া মন দিয়া পাই না তোরে
শুধু স্বার্থ খুঁজিস।
আমার শরীর নাই, মন আছে
আমারে কি চাও?
বেশ্যাদের শরীরই আসল বিষয়
মনটাতো ফাও।
অনন্ত ভ্রমণ
হারানোর সব পথ ঘিরে প্রেম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে থাকে শিয়রে
জীবন-জন্ম-মৃত্যু ছাড়া আর কোনো
সত্য দিয়ে মলাটবদ্ধ হয় না
প্রেমকে অলংকার মনে করে
সর্বাঙ্গে মাখি যখনই
অকৃতজ্ঞ ‘ঘুম’ নামক যান
অনন্ত ভ্রমণে আমাকে নিয়ে যায়।
পৃথিবী একটি শ্মশানঘাট
সময় নামক পায়ে হেঁটে এসেছি স্বর্গ থেকে
যারা ভুলে গিয়েছিল অথবা ভুলে গিয়েছে— সোনালি অতীত
দূরের ভবিষ্যৎবাদ আর সেই সাথে বর্তমান,
তারাও তো খেয়েছিল নিষিদ্ধ গন্ধম।
এক এক করে মরে যাচ্ছে সুখানুভব অনুভূতিসমূহ
বাঁচতে চাই বলে আর্তনাদ করা মেয়েটির আত্মহত্যা
আমার ভিতরকে জীবনপথ দেখায়,
কিভাবে একটু একটু করে চলে যাচ্ছে বেহেসতি সন্তান
একদিন সবাই এক আত্মা হয়ে জন্ম নিয়ে আজ বিভিন্ন নামে
ফিরে যেতে যেতে ওরা ঈশ্বরকে কী প্রশ্ন করে?
আত্মহত্যা নরকে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ উপায়— জেনে যে মেয়েটি
বারবার ফিরতে চেয়েছিল শান্তির গৃহে
সেকি পেয়েছিল সেই গৃহের ঠিকানা?
পৃথিবীজুড়ে অবাক শোক আর দুঃখের মিছিলে আমি দর্শকমাত্র...
মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে সেই মেয়েটিও জেনে গেছে সে এক নরকেই জন্মেছিল।
মূলত, পৃথিবী একটি শ্মশানঘাট। সেখানে ভালোবাসা নিষিদ্ধ গন্ধম।
নতুন বছর
সবকিছু বদল করে এলো নতুন বছর
একটা নতুন ক্যালেন্ডার
নতুন দিন নতুন মাস নতুন বছর
কিন্তু সবকিছু সেই পুরাতনে বাঁধা,
সেই পুরনো সূর্য পুরনো সূর্যোদয়
নতুন তো দেখি না;
দেখি না নতুন রূপে পৃথিবীকে।
মাথার উপর সেই গতরাতের কাকটাই কা কা করে
ওর ক্ষুধার্থ পুরনো চাউনি।
পুরনো আকাশ নীলে ছেঁয়ে আছে
কই, রঙ তো বদল করে না!
জনাকীর্ণ চারপাশে তোমার পুরাতন মুখ ভাসে
অথচ, যোজন যোজন দূরত্বে আমাদের পা
পথচলে ভিন্ন পথে,
ক্যালেন্ডারের পাতার মতো উল্টে পা তো
একপথে হাঁটতে পারতো
কিন্তু হাঁটে না।
চোখের জল বয় ধীরে
সেই পুরনো জল
এ জলেও কোনো ভিন্নতা নেই।
নদী বয়ে চলে
যেন বয়ে চলাই তার ধর্ম
দু’পাড়ের কষ্ট তার তো দেখার কথা না।
গাছের পাতাগুলো সবুজ থেকে ক্রমশ হলুদ হয়
বয়স বাড়ে ঝরে পড়ে
শীতার্ত হৃদয় নিয়ে তারাও কাঁদে
ঝরতে চায় না বুঝি
তবু ঝরতে হয়
নতুন বছরেও তাদের গোপন ব্যথা থেকেই যায়
বছর বদলায় শোক ব্যথা কিংবা কষ্ট বদলায় না।
কাগজের পাতা সহজে বদলাতে পারে
জীবন বদলাতে পারে না
তবু আশাহত পাখি গাছ নদী ফুল
আশা বাঁধে নতুনের হাত ধরে।
জীবন—
নড়েচড়ে দেখো
কোনো হাওয়ায় যদি উল্টাতে পারো
উল্টে যেও।























