লুনা আহমেদের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ২৭, ২০১৯

পৃথিবী একটি শ্মশানঘাট

সময় নামক পা`য়ে হেঁটে এসেছি স্বর্গ থেকে,
যারা ভুলে গিয়েছিল অথবা ভুলে গিয়েছে সোনালি অতীত
দূরের ভবিষ্যৎবাদ আর সেই সাথে বর্তমান,
তারাও তো খেয়েছিল নিষিদ্ধ গন্ধম।

এক এক করে মরে যাচ্ছে সুখানুভব অনুভূতিসমূহ
বাঁচতে চাই বলে আর্তনাদ করা মেয়েটির আত্মহত্যা
আমার ভিতরকে জীবনপথ দেখায়,
কিভাবে একটু একটু করে চলে যাচ্ছে বেহেশতি সন্তান
একদিন সবাই এক আত্মা হয়ে জন্ম নিয়ে আজ বিভিন্ন নামে
ফিরে যেতে যেতে ওরা ঈশ্বরকে কী প্রশ্ন করে?

আত্মহত্যা নরকে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ উপায়— জেনে যে মেয়েটি
বারবার ফিরতে চেয়েছিল শান্তির গৃহে
সেকি পেয়েছিল সেই গৃহের ঠিকানা?

পৃথিবীজুড়ে অবাক শোক আর দুঃখের মিছিলে আমি দর্শকমাত্র...

মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে সেই মেয়েটিও জেনে গেছে, সে এক নরকেই জন্মেছিল।
মূলত, পৃথিবী একটি শ্মশানঘাট। সেখানে ভালোবাসা নিষিদ্ধ গন্ধম।

একটি অমর প্রেমের ইতিকথা

শেষ কবে দেখা হয়েছিল
কবে শেষ হয়েছিল কথা
মনে নেই,
শুধু মনে আছে—
স্মৃতির পাতায়
একটি চাঁদ কিরণ দিচ্ছিল
একটি ফুল ঘ্রাণ দিচ্ছিল আর
পৃথিবী ঘুমাচ্ছিল নরকের কোলে।

আমরা—
শান্ত পৃথিবীর বুকে বসে
মদ্য পান আর হলি খেলছিলাম।

রক্তের নেশায়
হাতের তালুতে রেখেছিলাম রক্তস্রোত,
ফুটেছিল
একটি লাল রক্তজবা।

তোমার পছন্দ গোলাপ আর আমার কদম
ভিন্নধর্মী ফুল দেখে চমকে উঠেছিলাম!

মরা পাখি গান শোনাচ্ছিল
ভয়ে আমি কাঁপছিলাম,
দেখে তুমি হাসছিলে।

হাতে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে
তামাশার ছলে পুড়িয়ে দিলে পুরো হৃদয়
দেহ রাখলে অক্ষত,
সবাই জীবিত বলে চেঁচাচ্ছে
বিরক্ত বাড়ছে-ভীষণ বিরক্ত।

ইচ্ছে হয় খামচে খাই শরীর
ছিঁড়ে ফেলি সব বেদনাহত চিহ্ন
মুছে দেই পৃথিবী থেকে প্রেম।
কিন্তু তা অসম্ভব,
পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে ঈশ্বর প্রেম সৃষ্টি করে
     লিখে রেখেছে, ‘প্রেম অমর।’

অস্তিত্ব

একটি পাখি চিরকাল তার সঙ্গীকে সুখি করতে পারে না
এক বসন্ত শেষে অন্য বসন্তে পাখিটি অন্য সুরে গান গায়
ধরার বুকে এমন কোনো মাছ নেই—
যে কেবলি তার সঙ্গিনীকেই উপযুক্ত মনে করে
মাঝেমাঝে তারও মনে হয়,
অপরের সঙ্গী মাছ ভালো সাঁতার জানে।

একটি গাছ তার পাশের গাছকে ঠিক ততটুকু ঘৃণা করে
যতটুকু দূরের গাছকে ভালোবাসে,
নদীর এক পাড় অন্য পাড়কে কাছে চায়
অথচ, কখনো মাথায় রাখে না পাড়ের মিলনে নদীই বিলীন হবে
আকাশ আর পাতাল মিলিত হয়ে চুম্বন আঁকলে পৃথিবীর অস্তিত্ব কতটুকু থাকে!

বন্ধুত্ব

বন্ধুত্বের উপকার শোধ করতে হয় জীবন দিয়ে
আমি এত জীবন কই পাব ভেবে বন্ধুরা উপকার না করে
আমাকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের মাঝে সহস্র বছর।
আর আমি আমার মাঝ
থেকে ক্রমশ তাদের মরে যেতে দেখি।

এপিটাফ

মেয়েটি মরে গেলে কবরটা বাঁধাই করো না
বেঁচে থাকতে তার হৃদয়কে কোনো হৃদয় দিয়ে বেষ্টিত করে রাখেনি
কেউ তার মরে যাওয়া হৃদয়কে দেখেনি।

একটু একটু করে হৃদয় মরেছে বলেই দেহ মরেছে তার
অথচ, তোমরা... তোমরা দেহটা মরতেই দেখলে?

দেহের দাম এতই বুঝি?