শবে বরাতের স্বরলিপি
চয়ন খায়রুল হাবিবপ্রকাশিত : এপ্রিল ২৪, ২০১৯
পণবন্দি
ডিজেল মোবিল হাঁটুরে টেম্পো ট্রাফিক টিফিন ক্যারিয়ার
ক্যানভাসার চোখটিপ কোস্টার পকেটমার
দরজা জানালা বন্ধ অন্ধকারে দুজনে দুজনার নয়
সম্পর্কের চ্যাটচেটে তাপ ঢোলমলমে হাতেকলমে ছোঁয়া
কিলবিল কিলিবিল ফার্মগেট গুলিস্তান নবাবপুরের মোড়ে
ঝারিয়াঝঞ্জাইলের চাপাট খুন্তি সোনারগাঁর মুড়ি মুড়কি
লাংগলবন্দের নাগর দোলা জিঞ্জিরার টুকরি কুলা
চিনামাটির রবীন্দ্রনাথ প্লাস্টিকের পদ্ম শালুক
একদম আসলের মত নক্ল রংদার ইসপিরিংয়ের সাপ
দমহরি তুই শংকরী আলীর নাম ভোমকালি
ডাবলে ডাবল
ইস্কায় ফেলান ভাইজ চিড়িয়ায় ঘুরান
খেলোয়ালে পাঁচে দশ দশে বিশ
সুইট সুইট মাত্র পনেরো টাকার টিকিট
সুইট সুইটমিট ডানা কাটা হুরবানু মর্জিনাদের দিলদিকদারি ড্যান্স
ওপরে ওড়া ওজনশূন্য চিলচোখে
নিচের গিজগিজ মাথাগুলো সমুদ্রে ভাসমান নারকেল
আঁতে ঘা আঁতে ঘা
দিনের পসরাগুলো রাতপলিথিনে ঢাকা
চোরাই লাইনের লাইটে
হাত মাপন্তি জায়গার ভাড়া জুয়ার বখরা নিয়ে
পুলিশ ও মাস্তানদের দহরম
মহররম মহররম
গরম গরম সপ্তাভর আজিমপুর রোড জুড়ে মেলা
যে একা সে ভিড়
শবেবরাতের রাতভর পনবন্দী ফকিরদের ফন্দিফিকির
রেঙ্গুন সনেটগুচ্ছ সংগ্রহের শেষ সনেট
এক সময়কার আদর্শ মধ্যবিত্ত পাড়াটিতে
আশি থেকে পানির সংকট আর বর্শায় জলাবধ্বতা
জাবেদা খাতায় বিয়োগের খাতে আত্মীয় কুটুম্বিতা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমান সেনা
বাংলাদেশ বিমানের যান-প্রকৌশলের ম্যানেজার
ভদ্রলোকটি অবসরভাতার সাথে মুদ্রাস্ফীতির
কুস্তাকুস্তিতে একবার খুললেন প্রেস
একবার মুদি দোকান: বরাত কিন্তু খুললনা
শেষ শবেবরাতের রাতে আবহাওয়া-বিধ্বস্ত সিথানে
আঙ্গুলগুলো সোঁদা গন্ধের এক দিন পঞ্জিতে লিখল
"হাজার রজনীতে আমি মাছের সওয়ার।
শিকারের অধুনা সংস্করণ হছ্যে সাক্ষাৎকার।
সাক্ষাৎকারের পরমে ব্যক্তির উদ্ধার গৌতমে,
আর সমাজতন্ত্রে উদ্ধার বিড়ম্বিত সামাজিকতার।"
ইস্কুলের ভিতরে: ইস্কুলের বাইরে
ইস্কুলের ভিতরে কিন্তু মাস্টারেরা আর বাচ্চাদের ক্রশফায়ারে মারতে পারবে না
ইস্কুলের বাইরে মাস্টারেরা বাচ্চাদের ক্রশফায়ার মারতে পারবে কি পারবেনা
এই নিয়ে অভিভাবকেরা বেশ একটু সংশয়াচ্ছন্ন
মানে কালো সান গ্লাস পরা চুলে দাড়িতে কলপ মাখা
মাথায় কালো ফেট্টি বাধা বাবদ ইস্কুল মাষ্টারদের
যে আরেকটা খন্ডকালিন দায়িত্ব আছে তা কিভাবে পালিত হবে
ক্রশফায়ারে মারা আর বেত দিয়ে মারা
চড় থাপ্যড় মারা ডাস্টার ছুড়ে মারা
মারা`গুলার মায়ের উপর বেত আর বুলেটের
গুনগত পার্থক্য বুঝাতে ক্রশফায়ারে মারা`র মা`য়ের উপর
লো লো লো চাদবিন্দু বসানো হোক
বেত দিয়ে মারা`তে রা` য়ের উপর লো লো লো চাদবিন্দু চাদবিন্দু
চাদবিন্দু ছাড়া চাদের মায়াবিপনা যোগ হোক
ক্রশফায়ারে মারা মানুষের মায়েদের মেহেদি রাঙ্গানো হাতে
এই শবেবরাতে
আসমানি সানকিতে ছোলাভাজ়া বেগুনি বরা পেয়াজুর রক্তাভায়
তাল
মিস্রি
ভাঙ্গা
সেহেরির সাইরেন
কাউকে কি মারা হবে এই রমজানে রোজার ইদের রাতে
তারপর নথিপত্রে ১৫ কোটি বার না কি ১৬ কোটি লম্বা ঈকার
যাতে ক্রশফায়ারের বুলেট পায় রাইচেং বেতের চেয়ে উচ্চাশন
দুর্গার আজ্ঞ্বার পাশাপাশি আখেরি চাহারেও ক্রশফায়ার ক্রশফায়ার
ইস্কুল মাস্টারেরা এখন লেডি মাস্টারনিদের পাছা উদিলা করে
বেতানোর উসিলায় পাড়াতে বেপাড়াতে ঘাটে অঘাটে ক্রস ড্রেসিংযের ক্লাব
সাবালক সাবালিকারা নাবালক নাবালিকাদের ইস্কুলের পোশাকে
নব বিবাহিতরা সবাই তাদের আগত সন্তানের ইস্কুলের পোষাকে
সমস্ত নাগরিকেরা বাধ্যাতামুলক ইস্কুলের পোষাকে
রাস্তাঘাটকে ইস্কুলের বারান্দা ভাবো আর যেই প্রতিষ্ঠানটাকে
সমস্ত নাগরিকেরা তরাশে এড়ায় তাকেই ভাবো ইষ্টনামের প্রধান ইস্কুল
এপথেই সুরাহা হবে:
ইস্কুলের বাইরে মাস্টারেরা বাচ্চাদের ক্রশফায়ার মারতে পারবে কি পারবেনা
ক্রশফায়ারের পাশে মারা শব্দটা আদৌ আর ব্যবহার করা যাবে কি যাবে না
ইস্কুলের ভিতরে কিন্তু মাস্টারেরা আর বাচ্চাদের ক্রশফায়ারে মারতে পারবে না
আমার ওকাম্পো: রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা সিরিজ থেকে
পাঁচ.
মনে পড়ে আম্মা প্রতি শবেবরাতে টাকা দিতো
তারাবাতি মোমবাতি কিনতে
চঞ্চল দুই বালক বালিকা দৌড়ে দৌড়ে
বাংলো বাড়ির গোল বারান্দা জুড়ে
জ্বালাচ্ছে শত শত ছোট ছোট আঙ্গুল সাইজ মোমবাতি
ছোট ছোট ভ্রূণ ছোট ছোট হারানো জরায়ু
আম্মা বোলতোঃ শবেবরাতে রবীন্দ্র-পাঠে বাড়ে হায়াত দরাজ আয়ু
শুনতে পেয়েই য্যানো লোকটা খসালো অনন্তকালের অন্তরে
মৌসুমের বাইরে মহাশূন্যের নির্ভার রিতু:
রবীন্দ্রনাথ আমাদের চিরায়ত নিভু-নোভা
লোকটার নাম কখনো `অবাক` কখনো `আভা`
হাত বদল হতে হতে কারখানা থেকে পাইকারে বা মুদি ঘরে
কখনো বাসরে কখনো কবরে
ঠোট পোড়ালো সে শিতে ফাটা ঠোটের আস্লেশেঃ
ভালোবেসে নিজের দহন
রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ আস্ফালন
ঈ, ঊ, ণ, চাদবিন্দুহীনতাই লেখকের বানান ভঙ্গি। আমরা তা অক্ষুণ্ণ রেখেছি।























