শামসেত তাবরেজীর ৫ কবিতা

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৬, ২০১৯

নুসরাতের জন্য

বলল বাতাস, ‘নুসরাত’, আমি নিরুত্তর।
হত্যাকারীর দেশে বসে চিবাই পান,
হাড় সাজিয়ে বানাচ্ছি প্রতিষ্ঠান,
এনেছি ডেকে ইহুদি কজন ওস্তাগর।

এ্যাই, তোমরা শরীর খোলো- ব্যক্তিবাদ
চালু হচ্ছে ধর্ষে আপন আত্মজা,
দিল্লি থেকে আনিয়েছি মত্ত ষাঁড়
ইলেকট্রিকের তারে বসে বলল চাঁদ।

অশ্বডিম্ব আগলে রাখেন কয় নফর
মিষ্টদ্রব্য বিলি করেন মরণচাঁদ,
এটাই খাঁটি বিয়ের ধর্ম, ও নুসরাত,
সিরাজুদ্দৌলা নিজেই মীরজাফর।

ধোঁকা

কি তুমি ভাবছ পর্বত-শিখরে উঠে?
শরমিন্দা হচ্ছ ভেবে বিজয়ে কি লাভ?
একি নয় জায়গা বদল শুধু? পদচিহ্ন দিয়ে
কবিতার বিপদজনক প্রশ্নের ব্যর্থ জবাব?

নাকি নিরুপায় হেসে উঠলে শূন্যের মাঝারে
বিলুপ্তির মুহূর্ত-আগে নিষ্ফলতা দেখে?
তারপরও সংগম হতে হয় পদ ও পদার্থে
যা নিয়ে ছোকড়ারা ছাতামাথা লেখে!

এই ভেবে তুমি- অতিদ্রুত নেমে এলে নীচে,
সমতলে, শ্লথ কোনো নদীতে, ঢেউয়ে,
অর্থ রইল আগের মতই, স্থানান্তরই সার
সাফল্যের একটা মাছও উঠল না তুরীয় খেউয়ে!

অনেকদিন পর আম্মাকে

কাঁপা কাঁপা ফুলগুলি- তাদের স্বর
আপাতত হয়ে আছে বোধিশ্বর

যেহেতু কাঙ্খ্যা করে চেয়েছি ওদের
অভিকর্ষ টানে ওরা মজেওছে ঢের।
ভাঁজের ভিতর ভাঁজে বর্ণালি ঢেউ
খুশ দিলে দেখা যাচ্ছে আম্মাকেও।
এক ক্ষণকালে তারা সূর্য পরিধি
ঘুরে এসে আমাকেই বানিয়েছে নিধি।
আমি তো অবাক! হল বন্ধ জবান,
ওরা মুখে ভাষা দিয়ে রাখল প্রমাণ
মিছেমিছি নয় এই কেঁপে-কেঁপে ওঠা
আমার জন্যেই নাকি বিদগ্ধ ফোটা!
ক্রমশ অবাক হই শুনে বহু সূর
এক সঙ্গে কলেমা পড়ে, মদিনা-সুদূর
সুরভিত মালা হয়ে, গায়ত্রী গরিমা
ক্ষণে ক্ষণে অতিক্রমে’ রেখায়িত সীমা।

স্বরগুলি কাঁপা কাঁপা বিবর্ত ফুল
বাগানে বসে থাকা- আম্মা- পারুল!

রাধা-কৃষ্ণ লীলা

আপেল বস্তুটি যদি আপেলতা ছাড়া
বসে থাকে টেবিলে- চুপ, একহারা,
যদি তার ছায়াতে খোশবু না থাকে
বর্তুল রেখাগুলি যদি ঝাঁকে ঝাঁকে
আর কোন নভোকেন্দ্রে ক্রমশ বিলীন,
বস্তুটি আপেল হলেও ঠিকই মৃত্যুর অধীন-
এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠে গেল সে
হাহাকার করা মোদো শিল্পী সমাজে।
নির্বিকার পড়ে থাকে সাদা ক্যানভাস
নিথর নি-রং উদ্যমহীন রুখু ব্রাশ।
ভাবে সে, আপেল যদি থাকেও ওখানে
আপেল-তর্ক ছাড়া নাই তার মানে।
একই কথা ভাবছে কি মূর্ত আপেলও?
শিল্পীও দায় দিয়ে ভাবছে এখনো
পরিণতিহীন সে, মৃত্যু নাই তার-
চিরকাল রয়ে যাবে এমনি সাকার?
বিধেয় উদ্দেশ্যে লীন- শুধু অপরতা,
লীলাই বর্তমান, বাকীটা জড়তা!

নামপদী ছলনা

ভোর কাটল পার্পলতায়
রাত কাটল নীলে,
পর-স্ব রং নীরবতায়
স্তব্ধ আঁচিলে।

একটু পর- মানুষ হল লাশ।

প্রাচীর উঠল শূন্যজুড়ে
আকাশ সঙ্কুচিত,
আজদাহাটা দাঁড়িয়ে দূরে
ভ্যাবলা অসংস্কৃত।

চৈত্রে এ কি নতুন সর্বনাশ!

সাধের লাউয়ের ডুগডুগিতে
শুধুই প্রবঞ্চনা,
ব্যক্তিসংঘে, জাতীয় গীতে
নামপদী ছলনা।

এসব দেখে কবি খাচ্ছেন সিন্থেটিকের ঘাস!