শাহরুখ পিকলুর দুটি কবিতা
প্রকাশিত : নভেম্বর ২০, ২০১৮
চলমান এ নগরী
দমটাও ধরে রাখা যায় না
তাকেও ছেড়ে দিতে হয়, এই শহরে
সকালে স্বপ্ন ভেঙে উঠলেই শুধু
ক্ষণিকের একাকিত্ব, পরে সামান্য পরেই
ছুটে আসে নগরের সব গন্ধ-স্পর্শ,
রূপ সে তো কবেই হয়েছে বিলুপ্ত
রসের আধার ছোট হতে হতে
একটা ঘটিও পূর্ণ করে না, অতীত
ধেয়ে আসে জানান দেয় অতীতের,
মনের স্মৃতিকোঠায়...
সেথার মুক্ত বাতাস আজ বিষে ভরা,
পথে চলা মানুষগুলো সব নীলবর্ণ হয়ে গেছে।
মনে পড়ে সে অতীত! জ্বরা-জীর্ণ-মহামারির মাঝেও
মুক্ত বাতাস ছিল, সে বাতাসে ছিল সুরের মূর্ছনা।
আধুনিক ফেলে দিয়েছে সে অতীতকে নর্দমায়,
গাছই নেই আবার গাছের ছায়াতলে শ্রান্ত পথিকের অবসন্ন এলানো দেহখানি!
বর্তমানের লাউডস্পীকারে সে অতীত আজ বধির।
যন্ত্রের চিৎকারে ফেটে যায় কানপর্দা, কালিমা লেপে ফুসফুসে,
এত উন্নতির পরও ধুকে ধুকে মৃত্য রয়ে গেছে।
শহরের মাঝে হেঁটে আর হারিয়ে যাওয়া যায় না,
সবুজে, পার্কের বেঞ্চে চৈত্রের দুপুরে, বাচ্চা ছেলেদের অর্ধোলঙ্গ ফুটবল খেলায়
সকালের আর্শিতে দেখা আমি এই সান্ধ্যপ্রদীপের কালে সেই আমিই আছি তো!
শহরের কোলাহলে তবুও নিজেকেই শুধু হারিয়ে ফেলতে হয়।
ভবিষ্যত? সে তো আজকেরই আগামী, সেথায় আশা দেখে পাগলে।
ঢাকা
১৯ নভেম্বর ২০১৮
শীতের সন্ধ্যা
শীতের সন্ধ্যা নামে বড্ড জলদি
কথা যেন বিমূর্ত, শীতের চাদরের যেন
দিকচক্রবাল ঢেকে দেয়াতেই আনন্দ।
কুয়াশাচ্ছন্ন চাঁদের আলোয় দ্রৌপদীর অযাচিত
ষষ্ঠ প্রেমিকরে পথ দেখাবে কোন নক্ষত্র?
গোধূলির আলো-আঁধারিতে ঢাকা পৃথিবী,
ঢাকতে পারেনি কামের কামড়, রিরংসায়ই স্বভাবত।
পাঁচেও হয় না ঠিকরে ওঠে নারীকূল
ষষ্ঠে, সপ্তমে, অজস্রে
হাসে দ্রৌপদী—
পুরুষের চোখে সকলেই যে প্রথমা।
ঢাকা
১৪ নভেম্বর ২০১৮























