শিমুল বাশারের খুদে কবিতা
প্রকাশিত : মে ০৪, ২০১৯
এক.
পৃথিবীর স্নিগ্ধ মাছরাঙা
কবে, কখন মনে রেখেছে তারে এইসব ভরা দুপুরে
শান্ত জলের কানে যে গল্প বলা শেষে
ছোট্ট মাছ মরে ভেসে ওঠে?
আমি তার হৃদয়ের ব্যথা,
হাওয়া লাগা ঢেউয়ে জাগা
জলমাখা উদাসী হাসি খুব যতনে জমা রাখি।
দুই.
কাঁচঘেরা দেয়াল সরিয়ে
বারান্দাটা কোলে নিয়ে আজ দেখিলাম
গোলাপ, গোলাপ, কলি ঝুলতেসে বেলী।
জীবনের এইসব নাইট সুগন্ধা মনে রবে।
এই শহরে ষোলোর পরে
আমি ছিলাম মশারিহীন,
উনিশে আবার টানালাম।
তিন.
যখন একলা একা থাকি,
বাস্তবের বারান্দায়
স্বপ্নের দরজা খুলে রাখি...
হাওয়ারা আসে
কৈশোরের দুরন্ত দারুণ মাঠ ঘেঁষে
আরো দূর বাতাবি লেবুর মিহি বনে,
রক্তজবা মাখা চকচকে ছুরি
সবুজ ঘাসেতে থাকে শুয়ে।
চার.
একবার যারে পেয়েছি কাছে হারাই না তো আর
রক্তের নদীতে ভাসতেছে এক পালতোলা অঙ্গার।
পাঁচ.
পৃথিবীর এই পল্লবিত বনভূমি
ছুঁয়ে গেছি
জাদুটোনা ভালোবাসা মেঘ,
পাহাড়ের গায়ে গায়ে
বকুল বকুল হাওয়া।
আমাদের জোছনারাতের প্রণয়
উত্তাল ঢেউয়ে
মুছে যাওয়া প্রাচীন মেঠোপথে
মিঠে মিঠে ফিরে আসা।
আহা, যেসব ডালে বেঁধেছি বাসা
ডালভাত হয়ে গেছে কবে তা!
ভালোবেসে তবু অবহেলার নাম কবিতা।
ছয়.
কত কথা লিখি
কত কথা, হাসি, ব্যথা জাগে এই মনে
বিষণ্ণ এ বিরহের কালে
প্রণয়িনীর মুখ ভাবি
প্রণয়ের কথা নয়,
এ শহরে দেয়ালে দেয়ালে
শুধু অভিনয় লিখি।
হৃদয়ে ছেঁড়া কাগজ
চকচকে লেখা,
প্রেম বড় খুব
একলা একা তারে
উড়ে যেতে দেখি।
সাত.
বসন্ত আসে
নিরালা হাওয়ায়
পাতাঝরার গভীর গানে।
ফুলে নয়,
ফুল সব সময়ই ফোটে
বসন্ত ধুলার ঘ্রাণ
চিরকাল আমারে টানে।























