অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

শুভনাথের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ০১, ২০১৯

হঠাৎ

আবার যদি হঠাৎ আসি
যখন তুমি ভীষণ ব্যস্ত।
আবার যদি হঠাৎ আসি
চিবুক শেষে আলতো চুমু খেতে।
অহরহ রাত্রির স্রোত থামিয়ে
দম শেষ হয়ে ঘড়ির মতো দুজন স্থির।
তখন যদি ইচ্ছে করে
তোমাকে ঘুম থেকে তুলে
আমার প্রিয় সিনেমার, প্রিয় দৃশ্যটা দেখাতে!
যেখানে আমাদের কাল্পনিক চরিত্ররা
মেঘে মোড়া কোনো পাহাড়ি রেস্তরাঁয়
মদের গ্লাস হাতে চুপ করে বসে আছে।
সময় বইছে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাসের মতো
অথচ চুমুক পড়ছে না গ্লাসে
চৌক বরফ ভাসছে চোখে।

ঠোঁট দুটো জমে আসছে শীতল বায়বীয় স্রোতে।
আমি কিছু বলবো ভাবছি তোমায়
ঠোঁট নড়ছে সময়ের অন্তরালে।
বুক কাঁপছে।
অথচ বলতে পারছি না!
সিনেমা শেষ।
আবার যদি হঠাৎ বলি, না!
সিনেমা কখনো শুরু হয়নি
আমি কাঁপতে কাঁপতে যদি বলি
গ্রীষ্মের মধ্যরাতে আস্ত চাঁদের ছায়ায়
তোমাকে জড়িয়ে ধরে
চুমু খেতে এত কাব্যের আয়োজন!

বাড়তে থাকুক দূরত্ব

তোমার হলুদ হৃদয়ের মাঝে
কানের ঝুমকোর মতো বেদনা বাজেতে শুনে
বিয়ে বাড়ির সানাইও কেমন কর্কশ লাগছিল।
অকপটে স্বীকার করছি, দূরত্ব বেড়েছে অনেক!

বিশ্বায়নের বাজারে আত্মকেন্দ্রিক ক্রেতার মতো একদিন
দূর থেকে তোমায় দেখেছি মন ভরে
আবার একুশ শতকের বেকার যুবকের মতো
পকেট হাতড়ে ফিরেছি চেনা চক্রবূহ্যে।

দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা দূরত্ব বাড়িয়ে তুলেছে
শিয়ালের মতো দলবেঁধে দুঃশ্চিন্তা ছিঁড়েছে সম্পর্ক।
তোমাকে পণ্য ভেবে ভেবে গ্লানি জন্মেছে নিজেরই উপর
তারপর মাথার ভেতর জ্বলছে দ্বন্দ্বের দহন
পুরোনো ভাবনা সব পুড়ে ছাড়খার।
লাল পথ ধরে হেঁটেগেছি সেখান থেকে
নিজেকে ভাঙা, নিজেকে গড়া

তারপর থেকে আর পণ্য নয়!
প্রেমিকা বলে ভেবেছি তোমায়, ভাবছি বন্ধু বলে আজকাল
ছেড়েছি দূরত্ব কমানোর ব্যর্থ প্রয়াস
দূরত্ব বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে, দূরত্ব বাড়ছে
চাঁদ ও শিশুর মতোই।

গিরিখাদ

কিছু কিছু রাত গভীর গিরিখাদ
হঠাৎ হয়ে যায় আকাশহীন!
তুমি আমি নীলময় লালের জগতে
তুমি আমি অন্ধকারে শুধুই উদাসীন।

কবরে মৃত জেগে ওঠে হঠাৎ
ছত্রাক বেড়ে চলে প্রতীক্ষণে
ডোমের ডুমরু ধরে তাণ্ডবি তাল
চিতার উপর শব মাতে নাচনে।

সেখানেই শেষ নয়! আরো দূরে
হলুদ চোখের নিচে কালের মায়া
বিবাগী বৈরাগী রাধার গান ধরে
কোপাইয়ের জলে ভাসে কৃষ্ণের কায়া।

মানুষ বেঁচে থাকে, পাখিরা মরে যায়
জঙ্গল হয়ে ওঠে শ্মশানের কাঠ
স্মৃতিরা জোগান দেয় মৃত শরীরের
কলার মান্দাসে ভরে গঙ্গার ঘাট।