সজল আহমেদের কবিতা ‘প্রিয়তমার আত্মহত্যা’

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

এক.
রক্তস্নাত চটচটে রেশমের ত্যানা
পরে আছে মেঝে, প্রিয়তমা কথা বলে না!
কী হবে তখন তোমার অবস্থা  
প্রিয়তমাকে শোয়া দেখে মেঝেতে?
মেঝেতে রাখা একটি ধারালো ছুরি
যেটা কেটেছে প্রিয়তমার ভুঁড়ি
এখন ভাবছে তুমি, ‘কে তার খুনি?’
কিছুই জানো না তুমি, জানো না কে তার খুনি,
খুনি কে!

দুই.
কাঁদবে তুমি শুধু নীরবে সর্বশান্ত হয়ে
মাথা বিগড়ে যাওয়া মানুষেরা যেভাবে কাঁদে,
হয়তো বা উন্মাদ হয়ে যাবে!
জেগে উঠবে না প্রিয়তমা আর জেগে উঠবে না,
পাবে না প্রিয়তমাকে আর ফিরে পাবে না!
প্রিয়তমার টেবিলে তাকালে যদি পাও পেপার ওয়েটে
টেপে রাখা রক্তে সিক্ত চিঠি,
আর তাতে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ নয় দায়ী!’
তখন তুমি কি করবে?
বিলাপ করবে?
কিংবা চিৎকার?
আর তাতেই কি প্রিয়তমার
খুনের কারণ হবে আবিষ্কার?
কে জানে!
কী করবে তুমি নিজেই জানো না;
একবার মরে গেলে আর, ফিরে আসে না!

তিন.
তোমার সাথে হয়তো খুনসুটি হয়েছিল কিছুক্ষণ আগে,
হয়তো বা কিছুটা বাজে কথা বের হয়ে গিয়েছিল অতি আবেগে।
হয়তো বা ওর সে কথাটি লেগেছিল বেশ বুকের গভীরে,
তুমি যখন কাজে চলে গেলে বাইরে;
নিজেকে শেষ করার মোক্ষম সময়টাকে ও অবহেলা না করে
ছুরিটাকে চালিয়ে দিলো পেটের গভীরে!
কী অমানবিক! কী কষ্টকর! কী অকথ্য কষ্টরে পুঁজি করে
নিজেকে গুটিয়ে নিলো সে পৃথিবী থেকে!

চার.
তুমি বিলাপ করছো
চিৎকারে ঝাঁঝরা করছো
বিধাতার আরশ,
বুকভরা দীর্ঘশ্বাস
আর আফসোস!
কী করবে তুমি নিজেই জানো না;
অথচ তুমি জানো,
একবার মরে গেলে আর, ফিরে আসে না!

পাঁচ.
ওর লাশ তুমি বুকে নিয়ে কাঁদছো
রক্তে ভেজা থুতনিতে বারবার চুমু খাচ্ছ।
কাঁদো ভাই
বিলাপ করো
প্রিয়তমা নাই
চিৎকার মারো
চুল ছেড়ো হ্যাঁচকা টানে;
খুব জোরে কাঁদো
চোখের জল ফিরে আসে
জমা হয়ে সপ্তাসমানে
জমা করো যদি জল সাগর সমান
প্রিয়তমাকে কি ফিরে পাবে?
কসম জমিনের কসম আসমান
তুমি জানো; সবারই জানা
তুমি জানো, আকাশ সমূহের সবারই জানা;
একবার মরে গেলে আর, ফিরে আসে না!