সমিত ভৌমিকের ৩ কবিতা
প্রকাশিত : এপ্রিল ০৭, ২০১৯
কৌমুদীরম্ভা
কার্তিকের আশীর্বাদে সংকীর্ণা হয়েছে কৌমুদীরম্ভা; তটে কাদা জমে ভেসে উঠেছে সোনা ফসলের জমি। সদ্য ভাসান হওয়া একচালা দেবীর ক্ষতবিক্ষত কাঠাম, লাল কাপড় আছড়ে পরেছে কাদাকীর্ণ কূলে।
এই কাদায় হেঁটে কাল সকালে নৌকা নিয়ে দূরের হাটে যাবে মাঝি, বিভূতির অপু-দুর্গারা স্নানে যাবে কৌমুদীরম্ভার শীতল জলে। স্রোতস্বিনীর নীরব আওয়াজ আঘাত পাবে দূরের কোনো অজানা প্রান্তে!
ভর দুপুরের রোদে শুকাবে কৌমুদীরম্ভার দুকূল; সন্ধ্যা নামবে তার পশ্চিম পাড়ে, ঘরে ফিরবে সমস্ত কল্যাণীয়া কান্তা শ্রীকরণেরা! আর আবহমান কালের জীবনচাঞ্চল্যের সাক্ষী হয়ে দক্ষিণে বয়ে চলবে ভবানীডাঙার কৌমুদীরম্ভা...
চৈত্রের দুপুর
রাস্তাটা বেশ দক্ষিণে বাঁকা। চৈত্রের দুপুরগুলো খুব বড়, অলস আর নীরব। এই দুপুরে আমগাছের পাখিগুলো হঠাৎ আওয়াজ দিচ্ছে।
খাবার নিয়ে নিজেদের মধ্যে হইচই করছে, কোনোটা শব্দহীন ক্লান্ত।
উত্তরের দেয়ালে হেলান দেয়া বইয়ের আলমারিটা নীরবে ঠায় দাঁড়িয়ে। দিনের আলো জ্বলছে, নিভছে।
বসন্তের শেষ বাতাসে শুকনা পাতাগুলো বারান্দায় এসে পড়ছে।
যেন পরিত্যক্ত, কোলাহল বিহীন জনপদ, যেখানে কান পাতলে পৃথিবী আবর্তনের আওয়াজ পাওয়া যায়!
কলাবতী
পৃথিবীর নিবিড়তম অন্ধকার নামলো,
সাদা শিলায় উঠান ছেয়ে গেল!
বৃষ্টির জলের ধারা ছুটেয় যায় অবিরত
বাতাসের তেজ সবুজ গাছগুলোকে দোলায়।
এক প্রাচীনতম গন্ধ,
আর পুরাতন হারানোর ভয়
চোখ এবং মন অন্ধকারে বিলীন
তাই দিগন্ত জুড়ে মন খারাপের আওয়াজ...
নদীর জলে মায়া জাগে—
কূল ঘেষে জেগে ওঠে
সবুজ ঘাসেরা।
এ শান্ত কলাবতী
ঘর ভাঙেনি কারো,
ডোবেনি কোনোদিন
কোনো ডিঙি কলাবতীর জলে!
কলাবতী নীরব
কলাবতী কালের স্বাক্ষী—
কলাবতী কত জন্ম-মৃত্যুর
অনন্ত ইতিহাস...























