সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : এপ্রিল ২২, ২০১৯

কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা নয়; সহজ-সরল তিনটি কবিতা। তিন ধরনের, তিন রকমের। একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে। আজ এই সভ্য সমাজ সভ্যতার শীর্ষে এসেও আক্রান্ত অসভ্যতায়, বর্বরতায়। তা থেকে আমাদের ‘প্রার্থণার ঘরগুলো, পবিত্র গ্রন্থগুলো’ও রেহাই পাচ্ছে না। অন্যটি কবিতাটি ভিন্নধর্মী— ইন্দোনেশিয়ার বিকৃত রুচির তরুণেরা স্যানিটারি প্যাডের চা-জুস পান করে; তা নিয়ে। আর অপরটি বউ-শাশুড়ির বিষয়। এক সময় শাশুড়িই ছিল সংসারের সম্রাজ্ঞী আর এখন উল্টো। সেই খণ্ডচিত্র পাবেন ‘ভয়’ শীর্ষক কবিতায়।

প্রার্থনার ঘরগুলো, গ্রন্থগুলো

একটি স্নিগ্ধ ভোর কাঁদছে—
কাঁপছে মসজিদ!
তপ্ত দুপুর পুড়ছে—
জ্বলছে বিষ্ফোরিত চার্চ!
অপরাহ্ন তিরতির থরথর করছে—
প্যাগোডা জ্বরাক্রান্ত!
সুন্দর বিকেল ভেঙ্গে পড়ছে—
ধসে যাচ্ছে গির্জার চূড়ো!
এবং মায়াবী সন্ধ্যাও সন্ত্রস্থ—
মরে যাচ্ছে মন্দির।

প্রার্থনার ঘরগুলো
ঘন অন্ধকারে মৃত।
আসমানি কিতাব—
আমাদের গ্রন্থগুলো বিলুপ্ত!

ন্যাপকিন চা

ক্যামেলিয়া সিনেনসিস, গ্রীক দেবি থিয়ার টি নামানুসারে টি থেকে চি
চি আমার ঘরে এসে চা এবং চুমু!
আহ সুস্বাদু চুমু
আহ সুগন্ধি উষ্ণ পানীয়; আই লাভ ইউ।

ফুলচা, ফলচা, গাছচা কৃষিজাত কালো চা, শাদা চা, লাল চা
দার্জিলিং’এর গ্রিন টি—
ভেজা লিকার থেকে গলে গলে মিশে যায় জলে—
সেকেন্ড কাপে,
মনে হয় স্যানিটারি প্যাড থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে ছোপ ছোপ রক্তরস!

আর ত্রিশ মিনিট ফোটালেই ক্লোরিন বেরিয়ে আসে নেশাজল,
ইন্দোনেশিয়া খাচ্ছে— গ্রীক দেবির কটনপ্যাডের সেদ্ধ জুস!
হ্যালুসিয়েশনের তীব্র নেশায় অদ্ভূত অনুভূতি।
ন্যাপকিন টি; আই লাভ ইউ!

ভয়

একটু কাঁদতেও পারি না। ভয় পাই। খুব ভয় পাই
খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে, খুব আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করে
নাতনিটাকে ছেঁড়া শাড়ির কাঁথার জড়িয়ে নিতে চাই,
ভয় পাই।

তোকে একবার প্রাণ ভরে বকাঝকা করতে চাই,
পরনো শখে মুখ লাল করে জর্দাপান স্বাদ জাগে
ছাই-কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে মন চায়—
ভয় পাই।

একবার রাত জেগে যাত্রাপালা দেখতে সাধ জাগে
নাতিটাকে নিয়ে ভীষণ বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করে,
বউটা একবার মৃত মেয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে, পারি না।
ভয় পাই।

তোর বেটিটার কপালের কোনায় নজরলাগা কাজলের ফোঁটা পরাতে চাই
হাতে তাবিজ, গলায় তাবিজ দিতে চাই
ভোরবেলা খালি পায়েপুকুর পাড়ে আমরা ফুল কুড়াতে যেতে চাই।
ভয় পাই। খুব ভয় পাই। ভীষণ ভয় পাই!

১৯/২০ এপ্রিল ২০১৯। টরন্টো।