সৈয়দ রিয়াদ হোসেন আকাশের কবিতা ‘পার্বতীর দেবদাস’
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮
এক.
কত বছর কেটে গেল,
অপেক্ষায় আছে দেবদাস,
যে অপেক্ষা শুধু পার্বতীর জন্য।
কত ব্যথা বুকে ধারণ করে
দিন, মাস, বছর কাটাচ্ছিল
কিন্তু ব্যথা থামছিল না।
হঠাৎ বৃষ্টির ধারার মতো
নেমে এলো ভালোবাসা
যার ফোঁটা দেবদাসের মনকে রাঙিয়ে দিল।
দেবদাসের অতীতের সকল দুঃখকষ্টকে
মুছে দিয়েছে একটি নাম, পার্বতী।
পার্বতী দেবদাসের কাছে
ঈশ্বর প্রদত্ত এক নারী,
যা তৈরি হয়েছে শুধুই তার জন্য।
দেবদাসের মনে হয়েছে,
পার্বতী বোধ হয়—
কোনো অদৃশ্য পর্বতের রাণী,
যা পাবার জন্য অধীর অপেক্ষা
যা পাবার জন্য করতে হয় পুন্য।
দেবদাস এখন পার্বতীকে নিয়ে ভাবছে
যা কোনোদিন শেষ হবে না।
দুই.
মধ্যরাতে যখন আকাশে বাঁকা চাঁদ,
শীতের ঠাণ্ডা বাতাস যখন খেলা করছিল
দেবদাসের পড়ে থাকা পাতলা চাদরের সাথে,
তখন দেবদাস আঁকছিল মনের ছবি,
যে ছবিতে আছে পার্বতী।
পার্বতীর চিন্তা ক্রমশ,
ভাবুক করে তুলছিল দেবদাসকে।
দেবদাসও সে ভাবনায় ডুবে ছিল
মদের বোতলের পরিবর্তে রঙ পেন্সিলে।
কারণ, এ যুগের দেবদাস বোঝে না
মদ কি? বোঝে রঙ পেন্সিল।
এই যুগের দেবদাস বোঝে,
কিভাবে পার্বতীকে নিজের করতে হয়
যা পারেনি ওই যুগের দেবদাস।
দেবদাস বড়ই অবুঝের মতো
নানান স্বপ্ন তৈরি করছিল,
কিন্তু আবার ভয়ও পাচ্ছিল,
পার্বতী কিভাবে নেবে তার ভালোবাসা!
কারণ, পার্বতীও জানতো না
দেবদাস কী ভাবে তাকে নিয়ে।
তিন.
দেবদাস যখন ডুবে আছে পার্বতীর ভাবনায়
তখন হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠলো,
দেবদাস অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো,
কারণ মোবাইলের ডিসপ্লেতে একটি নাম , পার্বতী।
পার্বতী মৃদু স্বরে গভীর ভাবে জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছো, কি করছো?
আর পার্বতী আস্তে করে ছাড়লো দীর্ঘশ্বাস,
যাতে দেবদাস বুঝতে না পারে।
কিন্তু হৃদয়ের অনুভূতি দেবদাস বুঝতে পারে
কেননা ভালোবাসে পার্বতীকে।
কিছু আলাপের পর,
সাহস করে মৃদু স্বরে প্রশ্ন করলো,
আচ্ছা আমাদের কি সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়?
পার্বতী তার অনন্দ লুকিয়ে বলবো, কিভাবে? কেমন করে? কিসের জন্য?
দেবদাস বলল, ভালোবাসি, ভালোবাসবো, জীবনের মানে খুঁজবো বলে।
পার্বতীর কোমল হাসিতে দেবদাস পেল সকল উত্তর।
পার্বতী একটু অন্য রকম তাই দেবদাস উপহারও দেবে ব্যাতিক্রম।
তাই ঠিক করেছে, বই দেবে।
কারণ, বই যেমন থাকে আজীবন,
ঠিক তেমনি পার্বতীও থাকবে আজীবন।























