মুজতবা আহমেদ মুরশেদের গুচ্ছকবিতা
মার্চ ২১, ২০২৬
মনে হয় রোদ হয়ে গেছি একমুঠো গাছেদের পাতার ছায়ার সাথে মনে হয় শুধু রোদ হয়ে খোলামেলা, খেলি
অমিতাভ পালের একগুচ্ছ কবিতা
পাড়ার নাস্তার দোকানে সকালের ভিড়/কালো মোটা মেঘের মতো পুরুষেরা বসে আছে/পরোটা ডালভাজি আর টাটকা গুজবের লোভে/হোটেলের সারাটা আকাশ পুরুষের গন্ধে ঢাকা/এখানে মেয়েদের উদিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই/এমন সময় চুলার পাশের জানালায় শোনা গেল/একটা মিহি গলার আওয়াজ
আগস্ট ২০, ২০১৮
শামসুর রাহমানের পাঁচটি কবিতা
কখনো আমার মাকে কোনো গান গাইতে শুনিনি/সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়ে/আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কি না আজ মনেই পড়ে না।
আগস্ট ১৭, ২০১৮
শিমুল বাশারের দীর্ঘকবিতা ‘ম্যানিপুলেইশান’
কী এক অপার্থিব আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ/প্রান্তরে শাল, শিমুল আর সেগুনের মোহময় সুবাস/বহুকাল আগে একটুকরো মেঘের আড়ালে/উঠোন ঝাড়ু দেয়া হলে/পাড়াগাঁয়ের মায়াবী কমলা আপা গাঙের জলে নেয়ে/দাওয়ায় এই প্রদীপখানি জ্বেলেছিল, জ্বলেছিল আহা!
আগস্ট ১৭, ২০১৮
মেহেদী হাসান তামিমের একগুচ্ছ কবিতা
তথাপি থাকেন জগতে কেউ কেউ এমন, জীবনানন্দ দাশ ছিলেন যেমন। আছেন এখনো। ভালো লাগে না শব্দ। লাগে না ভালো মঞ্চ। লাল-নীল আলো-আঁধারি, কৃত্রিম আলো। ভালোবাসে না ভিড়, কোলাহল মুখর জীবন; যান্ত্রিক আস্ফালন আর ভালো লাগে না তার।
আগস্ট ১৪, ২০১৮
আবু তাহের সরফরাজের সুফিকবিতা
আমি কী আর জন্মেছিলাম/মানুষ হিশেবে/জন্মেছিল আবু তাহের/এই লোকটা কে/মুখ চিনি না তবু মুখের/আদল ধরে হাঁটি/শরীর খুলে বাইরে এসে/ছায়ায় পরিপাটি।
আগস্ট ১৩, ২০১৮
উজ্জ্বল রহিমের একগুচ্ছ কবিতা
যেহেতু স্বাধীনতা যুদ্ধে নাগরিকগণের বীরত্ব ফুটলো, অমূল্য জীবন দিলো দান/যেহেতু বিপ্লবী উদ্দীপনায় ভূখণ্ড হলো উদ্ধার রক্ত সাগরে/সেহেতু ক্ষমতার উপর নাগরিকগণের কার্যকর কর্তৃত্ব/পারস্পরিক সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী/সংবিধান নিশ্চয়তাদের বিবেকের স্বাধীনতা
আগস্ট ১১, ২০১৮
বায়েজিদ বোস্তামীর একগুচ্ছ কবিতা
ঠিক যতটুকু জায়গা প্রয়োজন কাঁধের জন্য, শুধু ততটুকু জায়গা নিয়ে হাঁটি— ঝুঁকে পড়া মাথা আর শব্দহীন পদক্ষেপে। এই যে তুমি আসছো ঘৃণা, লোভ, অপ্রেম, হিংস্রতার খিদে নিয়ে— আমি তোমার জন্য পথ ছেড়ে দিই। তোমার আগুনে মুখ গহবরটি সযত্ন সতর্কতায় এড়িয়ে আমি বিপন্ন পথটির রেখা আঁকি মানচিত্রে।
আগস্ট ১০, ২০১৮
আকরাম খানের একগুচ্ছ কবিতা
আম্মা নিষেধ করেছিল/নতুন বৌ আদর করে ভুলাতে চেয়েছিল/আব্বা বারণ করেছিল/দরজার পাশের গোলাপ গাছ টেনে ধরেছিল/তারপরও ছেলেটা একটা বুলেটের খোঁজে বের হয়— বুলেটটাও বের হয় ছেলেটার খোঁজে/নিয়তি নির্ধারিত সময়/নিয়তি নির্ধারিত জায়গায়/তারা ঠিকই মুখামুখি হয়।
আগস্ট ০৮, ২০১৮
আমার ওকাম্পো: রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতাগুচ্ছ
হেই বুড়ামিয়া দিনরাত কী এত আঁকিবুঁকি/উমধা বেতালা আমরা তোর আঁকনের ঢঙ্গে/জলপাই গেরুয়া কাচ্চির পাক্কির খাকিয়াল রঙ্গে/কুন্দনের জংগে মোরা নিজেদের তরাই/তরঙ্গভঙ্গে গর্জে বোলপুরের খোয়াই/বেগানা রাক্ষসী এক লালজবার রক্তে রঙ্গিলা/খোক্কস খোক্কসি সব বেহদ্দ উদিলা
আগস্ট ০৭, ২০১৮
পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ দাসের জন্য কবিতা
বিশ্বজিৎ, আঘাতে হওনি তুমি কখনো একা/রক্ত যেমন জাগে তুমি সেই যুদ্ধনিষ্ঠ আনত উড়াল/তুমি শ্রমিক, তোমার সেলাইয়ের আঙুলে আজ এই পরাজয় মুছে নিয়ে/কেঁপে উঠি, স্বীকার করো এই বিনত মস্তক/বিশ্বজিৎ, তোমার শার্টে রক্তের অপেক্ষা থেকে নেমে আসা এই ক্ষমা কাউকে দিও না কখনো
আগস্ট ০৬, ২০১৮
























